কারক-বিভক্তিঃ (সপ্তম পাঠ)

দ্বিতীয় অধ্যায় - সংস্কৃত - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

391

১। কারক
প্রবীরঃ গচ্ছতি (প্রবীর যায়)।
বীণা বেদং পঠতি (বীণা বেদ পড়ছে)।

উপরের প্রথম উদাহরণে 'গচ্ছতি' ক্রিয়ার সম্পাদক 'প্রবীরঃ'। সুতরাং 'গচ্ছতি' ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'প্রবীরঃ' পদের সম্বন্ধ আছে। দ্বিতীয় উদাহরণে 'পঠতি' ক্রিয়াটি সম্পাদন করছে 'বীণা'। আবার 'বেদং' (বেদম্) পদটি 'পঠতি' ক্রিয়াপদের অবলম্বন। সুতরাং দেখা যায় 'পঠতি' ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'বীণা' পদের সম্পর্ক আছে। আবার 'বেদং' (বেদম্) পদটি 'পঠতি' ক্রিয়াপদের অবলম্বন। সুতরাং দেখা যায় 'পঠতি' ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'বীণা' ও 'বেদং' পদের সম্বন্ধ আছে। এরূপভাবে-

ক্রিয়ার সাথে বাক্যের অন্যান্য যে পদের অন্বয় বা সম্বন্ধ থাকে, তাকে কারক বলে।
কারক ছয় প্রকার, যেমন- কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।

(ক) কর্তৃকারক

যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। যেমন- সূর্যঃ উদেতি (সূর্য উদিত হচ্ছে)। ছাত্রঃ পঠতি (ছাত্র পড়ছে)।

(খ) কর্মকারক

কর্তা যা করে তা কর্মকারক। সাধারণত ক্রিয়াপদকে 'কি' (কিম্) বা 'কাকে' (কম্) প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাকে কর্মকারক বলে। যেমন- ব্রাহ্মণঃ বেদং পঠতি (ব্রাহ্মণ বেদ পাঠ করছেন)। পিতা পুত্রম্ অপশ্যৎ (পিতা পুত্রকে দেখেছিলেন)।

(গ) করণকারক

কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে করণকারক বলে। যেমন-
সঃ কুঠারেণ বৃক্ষং ছিনত্তি (সে কুঠার দ্বারা বৃক্ষ ছেদন করছে)। অহং লেখন্যা লিখামি (আমি কলম দ্বারা লিখছি)।

(ঘ) সম্প্রদান কারক

যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোন কিছু দান করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যেমন- ভিক্ষুকায় ভিক্ষাং দেহি (ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও। রাজা বিপ্রায় গাং দদাতি (রাজা ব্রাহ্মণকে গরু দান করছেন)।

(ঙ) অপাদানকারক

যা থেকে কোন কিছু উৎপন্ন, ভীত, পতিত, শ্রুত প্রভৃতি বোঝায়, তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন-

উৎপন্ন : মেঘাৎ বৃষ্টিঃ ভবতি (মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়)।

ভীত : শিশুঃ সর্পাৎ বিভেতি (শিশু সাপ থেকে ভয় পাচ্ছে)।

পতিত : বৃক্ষাৎ পত্রং পততি (গাছ থেকে পাতা পড়ছে)।

শ্রুত : সঃ মাতুঃ অশূণোৎ (সে মায়ের নিকট থেকে শুনেছে)।

(চ) অধিকরণ কারক

যে-সময়ে, যে-স্থানে বা যে-বিষয়ে কোন কাজ সম্পন্ন হয়, সেই সময়, সেই স্থান ও সেই বিষয়কে অধিকরণকারক বলে। যেমন-

স্থান: বনে ব্যাঘ্রঃ বসতি (বনে বাঘ বাস করে)।
সময়: বসন্তে কোকিলঃ কূজতি (বসন্তে কোকিল ডাকে)।
বিষয়: সঃ ব্যাকরণে নিপুণঃ (সে ব্যাকরণে পারদর্শী)।

২। বিভক্তি

যে-সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য, বিশেষণ ও সর্বনাম পদ এবং ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাদের বিভক্তি বলা হয়। বিভক্তি প্রধানত দুই প্রকার- শব্দবিভক্তি ও ক্রিয়াবিভক্তি। শব্দবিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য, বিশেষণ ও সর্বনাম পদ গঠন করে এবং ক্রিয়াবিভক্তি ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে। শব্দবিভক্তি সাত প্রকার- প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।

বিভক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ

(ক) প্রথমা বিভক্তি
১।যা ধাতুও নয়, প্রত্যয়ও নয়, অথচ যার অর্থ আছে, তাকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক বোঝালে প্রথমা বিভক্তি হয়। যেমন- লতা, ফলম্, নদী ইত্যাদি।
২।কর্তৃবাচ্যে কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তি হয়। যেমন- বিহগাঃ কৃজন্তি ('পাখি সব করে রব')। বালিকা পঠতি (বালিকাটি পড়ছে)।
৩।অব্যয়যোগে প্রথমা বিভক্তি হয়। যেমন- দশরথঃ ইতি রাজা আসীৎ (দশরথ নামে একজন রাজা ছিলেন)।

(খ) দ্বিতীয়া বিভক্তি
১। কর্তৃবাচ্যে কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যেমন- অহং পুস্তকং পঠামি (আমি বই পড়ছি)। সঃ জলং পিবতি (সে জল পান করছে)।
২। ক্রিয়াবিশেষণে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যেমন- বায়ুঃ মন্দং বহতি (বায়ু ধীরে বইছে)। কোকিলঃ মধুরং কৃজতি (কোকিল মধুর স্বরে কূজন করছে)।
৩। অভিতঃ (সম্মুখে), পরিতঃ (চারদিকে), প্রতি, ধিক্, নিকষা (নিকটে) প্রভৃতি শব্দযোগে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যেমন-

গ্রাম্ অভিতঃ উদ্যানম্ (গ্রামের সম্মুখে বাগান)।
বিদ্যালয়ং পরিতঃ প্রাচীরম্ (বিদ্যালয়ের চারদিকে প্রাচীর)।
দীনং প্রতি দয়াং কুরু (দরিদ্রের প্রতি দয়া কর)।
পাপিনং ধিক্ (পাপীকে ধিক্)।
গ্রামং নিকষা নদী (গ্রামের নিকটে নদী)।

(গ) তৃতীয়া বিভক্তি

১।করণ কারকে প্রধানত তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যেমন-
বয়ং নয়নেন পশ্যামঃ (আমরা চোখ দিয়ে দেখি)।
২।সহ, উন, হীন, অলম্ প্রভৃতি শব্দযোগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যেমন-
পুত্রেণ সহ পিতা গচ্ছতি (পুত্রের সঙ্গে পিতা যাচ্ছেন)।
একেন উনঃ (এক কম)।
বিদ্যয়া হীনঃ (বিদ্যা হীন)।
কলহেন অলম্ (বিবাদের প্রয়োজন নেই)।

(ঘ) চতুর্থী বিভক্তি

১। সম্প্রদান কারকে প্রধানত চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন-তৃষ্ণার্তায় জলং দেহি (তৃষ্ণার্তকে জল দান কর)। দরিদ্রায় বস্ত্রং দেহি (দরিদ্রকে বস্ত্র দাও)।
২। নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন-অশ্বায় ঘাসঃ (ঘোড়ার জন্য ঘাস)। কুণ্ডলায় হিরণ্যম্ (কুণ্ডলের জন্য স্বর্ণ)।
৩। নমস্ (নমঃ) শব্দযোগে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন-শিবায় নমঃ (শিবকে নমস্কার)। সরস্বত্যৈ নমঃ (সরস্বতীকে নমস্কার)।

(ঙ) পঞ্চমী বিভক্তি

১। অপাদানে প্রধানত পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যেমন-ধর্মাৎ সুখং ভবতি (ধর্ম থেকে সুখ হয়)। সঃ অশ্বাৎ অপতৎ (সে ঘোড়া থেকে পড়ে গেল)।
২। হেতু অর্থে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যেমন-শীতাৎ কম্পতে বৃদ্ধা (বৃদ্ধা শীতে কাঁপছেন)। শোকাৎ ক্রন্দতি মাতা (মা শোকে কাঁদছেন)।

৩। 'বহিস্' শব্দযোগে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যেমন-
সঃ গ্রামাৎ বহিঃ গচ্ছতি (সে গ্রামের বাইরে যাচ্ছে)।

(চ) ষষ্ঠী বিভক্তি

১। যে পদের ক্রিয়ার সাথে কোন সম্বন্ধ থাকে না তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়।
যেমন- মম পুস্তকম্ অস্তি (আমার পুস্তক আছে)।
এখানে 'মম' পদের সঙ্গে 'অস্তি' ক্রিয়াপদের কোন সম্বন্ধ নেই। সুতরাং 'মম' সম্বন্ধ পদ।
২। 'তৃপ্'-ধাতুর যোগে বিকল্পে করণে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যেমন-
ন অগ্নিঃ তৃপ্যতি কাষ্ঠানাম্ / কাষ্ঠৈঃ (অগ্নি কাষ্ঠসমূহের দ্বারা তৃপ্ত হয় না)।

(ছ) সপ্তমী বিভক্তি

১। অধিকরণ কারকে প্রধানত সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন-গগনে চন্দ্রঃ উদেতি (আকাশে চাঁদ উঠেছে)। বসন্তে কোকিলঃ কূজতি (বসন্তে কোকিল ডাকে)।

২। 'নিপুণ' শব্দের যোগে সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন-সঃ সংস্কৃতে নিপুণঃ (সে সংস্কৃতে দক্ষ)।

৩। একজাতীয় অনেকের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার নাম নির্ধারণ। নির্ধারণে ৭মী বিভক্তি হয়। যেমন-কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ (কবিদের মধ্যে কালিদাস শ্রেষ্ঠ)।

সংস্কৃতানুবাদ

বাংলা থেকে সংস্কৃতে অনুবাদ করার সময় বিভক্তি প্রয়োগের সূত্রগুলি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
অনুবাদের কয়েকটি দৃষ্টান্ত:

কর্তায় ১মা: বালকটি পড়ছে- বালকঃ পঠতি। চাঁদ উঠছে- চন্দ্রঃ উদেতি।

কর্মে ২য়া: আমি রামায়ণ পড়ছি- অহং রামায়ণং পঠামি। সে জল পান করছে- সঃ জলং পিবতি।

করণে ৩য়া: আমরা চোখ দিয়ে দেখি- বয়ং নেত্রাভ্যাং পশ্যামঃ। সে কলম দ্বারা চিঠি লেখে- সঃ লেখন্যা পত্রং লিখতি।

সম্প্রদানে ৪র্থী: ব্রাহ্মণকে গীতা দান কর- ব্রাহ্মণায় গীতাং দেহি। দরিদ্রকে অন্ন দান কর- দরিদ্রায় অনুং দেহি।

অপাদানে ৫মী: গাছ থেকে পাতা পড়ে- বৃক্ষাৎ পত্রং পততি। পাপ থেকে দুঃখ হয়- পাপাৎ দুঃখং জায়তে।

সম্বন্ধে ষষ্ঠী: আমার বাড়িতে আস- মম গৃহম্ আগচ্ছ। এটি তার বাড়ি- ইদং তস্য গৃহম্।

অধিকরণে ৭মী: জলে মাছ থাকে- জলে মৎস্যঃ তিষ্ঠতি। পূর্ণিমাতে পূর্ণচন্দ্র উদিত হয়- পূর্ণিমায়াং পূর্ণচন্দ্রঃ উদেতি।

Content added By

১। শুদ্ধ উত্তরটির পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও:

ক) অধিকরণ কারকে প্রধানত ২য়া/ ৩য়া /৫মী / ৭মী বিভক্তি হয়।
খ) ক্রিয়ার সাথে যার সম্বন্ধ থাকে তাকে নিপাত / অব্যয় / কারক / উপসর্গ বলে।
গ) এক জাতীয় অনেকের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার নাম নির্ধারণ / সম্প্রদান / অপাদান/ অধিকরণ।
ঘ) সরস্বতীং নমঃ / সরস্বত্যা নমঃ / সরস্বত্যৈ নমঃ / সরস্বতী নমঃ।
ঙ) বৃক্ষাৎ পততি / বৃক্ষে পতিত / বৃক্ষস্য পততি / বৃক্ষেণ পততি।

২। উদাহরণ দাও:

কর্মে ২য়া, নিকষা শব্দযোগে ২য়া, হেতু অর্থে ৫মী, সম্বন্ধে ৬ষ্ঠী, নির্ধারণে ৭মী, অপাদানে ৫মী।

৩। মোটা হরফে লেখা পদসমূহের কারকসহ বিভক্তি নির্ণয় কর:

(ক) অহং লেখন্যা লিখামি। (খ) মেঘাৎ বৃষ্টিঃ ভবতি। (গ) বসন্তে কোকিলঃ কূজতি। (ঘ) পুত্রেণ সহ পিতা গচ্ছতি। (ঙ) সঃ গ্রামাৎ বহিঃ গচ্ছতি। (চ) সঃ সংস্কৃতে নিপুণঃ। (ছ) মম পুস্তকম্ অস্তি। (জ) শ্রীগুরবে নমঃ।

৪। সংস্কৃতে অনুবাদ কর:

(ক) আমি মহাভারত পড়ছি।
(খ) আমরা চোখ দিয়ে দেখি।
(গ) দরিদ্রকে অন্ন দান কর।
(ঘ) পাপ থেকে দুঃখ হয়।
(ঙ) আমি গ্রামের বাইরে যাব।
(চ) মাতাকে নমস্কার।
(ছ) দুঃখ বিনা সুখ হয় না।

৫। বাংলায় অনুবাদ কর:

(ক) কোকিলঃ কৃজতি।
(খ) ব্রাহ্মণায় গীতাং দেহি।
(গ) মম গৃহম্ আগচ্ছ।
(ঘ) গ্রামং নিকষা বিদ্যালয়ঃ।
(ঙ) কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ।

৬। সংজ্ঞা লেখ ও উদাহরণ দাও:

সম্প্রদান কারক, কর্মকারক, অধিকরণ কারক, করণ কারক, সমন্ধ পদ।

৭ । কারক কাকে বলে? কারক কত প্রকার ও কি কি?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...