কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত নয় ?

ঘুম নেই

রাশিয়ার চিঠি

যোগাযোগ

রক্ত কবরী

Description (বিবরণ) :

প্রশ্ন: কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত নয় ?

ব্যাখ্যা:

 ঘুম নেই কাব্যগ্রন্থের লেখক সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্যের "ঘুমনেই" কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এফআরএএস (৭ই মে, ১৮৬১ - ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেবকবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তার "অভিলাষ" কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা। ১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষ কে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার রচিত আমার সোনার বাংলা ও জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত।

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ সাদাকালো আলোকচিত্র

১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ

জন্ম ৭ মে ১৮৬১
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
মৃত্যু ৭ আগস্ট ১৯৪১ (বয়স ৮০)
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
সমাধিস্থল কলকাতা
ছদ্মনাম ভানুসিংহ ঠাকুর (ভণিতা)
পেশা
  • কবি
  • ঔপন্যাসিক
  • নাট্যকার
  • প্রাবন্ধিক
  • দার্শনিক
  • সঙ্গীতজ্ঞ
  • চিত্রশিল্পী
  • গল্পকার
ভাষা বাংলা, ইংরেজি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত ব্রিটিশ ভারতীয়
সময়কাল বঙ্গীয় নবজাগরণ
সাহিত্য আন্দোলন প্রাসঙ্গিক আধুনিকতা
উল্লেখযোগ্য রচনাবলি গীতাঞ্জলি (১৯১০), রবীন্দ্র রচনাবলী "গোরা" "আমার সোনার বাংলা" "ঘরে বাইরে"
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার
(১৯১৩)
দাম্পত্যসঙ্গী মৃণালিনী দেবী (বি. ১৮৭৩–১৯০২)
আত্মীয় ঠাকুর পরিবার

স্বাক্ষর

 

সুত্রঃ ইউকিপিডিয়া

 

 


Related Question

কোন সাহিত্যিক ' ব্যাঙাচি' ছদ্মনামে লিখতেন?

বুদ্ধদেব বসু

জীননান্দ দাশ

কাজী নজরুল ইসলাম

অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত

Description (বিবরণ) :

ছদ্মনাম

ছদ্মনাম কোনো ব্যক্তি বা ক্ষেত্রবিশেষে কোনো গোষ্ঠীর স্বগৃহীত ও স্বব্যবহৃত কাল্পনিক নাম।

ছদ্মনাম ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখা। শুধুমাত্র লেখকেরাই ছদ্মনাম ব্যবহার করেন না, গ্র্যাফিটি শিল্পী, প্রতিবাদী আন্দোলনকারী অথবা সন্ত্রাসবাদী এমনকি কম্পিউটার হ্যাকারেরাও ব্যবহার করেন এই জাতীয় নকল নাম। অভিনেতা, গায়ক বা অন্যান্য শিল্পীরা অনেক সময় নিজেদের জাতিগত পরিচয় গোপন রাখার জন্য মঞ্চনাম ব্যবহার করেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছদ্মনাম গ্রহণের কারণ হয় সাংস্কৃতিক বা সাংগাঠনিক ঐতিহ্য। কোনো কোনো ধর্মীয় সংঘের সদস্যদের ধর্মীয় নাম এবং কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃবৃন্দের ব্যবহৃত "ক্যাডার নাম" এর উদাহরণ। যথা: ট্রটস্কি ও স্তালিন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার একাধিক ব্যক্তি একক ছদ্মনামের আড়ালেও লিখে থাকেন। কোনো রচনার সহকারী লেখকবৃন্দের ক্ষেত্রে এই জাতীয় ছদ্মনাম গ্রহণের প্রবণতা দেখা যায়। যেমন: এলারি কুইন বা নিকোলাস বরবাকি।

বাংলা সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। আনুমানিক খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়।

 

বাংলা ভাষা তথা বিশ্বের সকল সাহিত্যে সাহিত্যিকরা অনেক সময় নিজেদের নাম আত্মগোপন করে অন্যকোন নামে সাহিত্য রচনা করতেন। বাংলা ভাষাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেক কবি, সাহিত্যিক,উপন্যাসিক, নাট্যকার তাদের আসল নাম গোপন করে ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। নিম্নে তার একটি তালিকা দেওয়া হল।

সময়কাল জন্মস্থান প্রকৃত নাম ছদ্মনাম বিশেষত্ব
১৯০৩-১৯৭৬ নোয়াখালী, বাংলাদেশ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত নীহারিকা দেবী কবি, ঔপন্যাসিক
১৮৮২-১৯৫৮   অনুরূপা দেবী অনুপমা দেবী ঔপন্যাসিক
১৯০৪-২০০২ উড়িষ্যা, ভারত অন্নদাশংকর রায় লীলাময় রায় কবি, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার
    অহিদুর রেজা হাসন রাজা  
১৯২৭-১৯৭১ ফেনী, বাংলাদেশ আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ শহীদুল্লা কায়সার ঔপন্যাসিক
    আবুল ফজল শমসের উল আজাদ  
    আবুল হোসেন মিয়া আবুল হাসান  
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো  
    এম. ওবায়দুল্লাহ অাসকার ইবনে শাইখ  
১৮৫৭-১৯৫১ ঢাকা, বাংলাদেশ কাজেম আল কোরেশী কায়কোবাদ কবি
    কাজী নজরুল ইসলাম নুরু; নুরুল ইসলাম  
    কালিকানন্দ অবধূত  
    কালীপ্রসন্ন সিংহ হুতোম পেঁচা  
    কামিনী রায় জনৈক বঙ্গমহিলা  
    চারুচন্দ্র চক্রবর্তী জরাসন্ধ  
      জমীরউদ্দীন মোল্লা  
১৮৯৮-১৯৭১ বীরভূম, ভারত তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় হাবু শর্মা ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার দৃষ্টিহীন; মধুসূদন মজুমদার  
১৯১৮-১৯৭০ বালিয়াডাঙ্গী, বাংলাদেশ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় সুনন্দ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার
১৯১১-১৯৮৬ নড়াইল, বাংলাদেশ নীহাররঞ্জন গুপ্ত দাদাভাই; বাণভট্ট ঔপন্যাসিক
    প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়  
১৮৬৮-১৯৪৬ পাবনা, বাংলাদেশ প্রমথ চৌধুরী বীরবল কবি, প্রাবন্ধিক
    প্রেমেন্দ্র মিত্র কৃত্তিবাস ভদ্র; লেখরাজ সামন্ত  
    প্যারীচাঁদ মিত্র টেকচাঁদ ঠাকুর  
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কমলাকান্ত  
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বনফুল  
    বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় যাযাবর  
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ক্বচিৎ প্রৌঢ়  
    বিমল ঘোষ মৌমাছি  
    বিমল মিত্র জাবালি  
    বিহারীলাল চক্রবর্তী ভোরের পাখি  
    মইনুদ্দিন অাহমেদ সেলিম অাল দীন  
    মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় শংকর  
    মণীশ ঘটক যুবনাশ্ব  
    মনিরুজ্জামান হায়াৎ মামুদ  
    মহাশ্বেতা দেবী সুমিত্রা দেবী  
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ নেটিভ  
    মীর মশাররফ হোসেন গৌড়তটবাসী মশা; উদাসীন পথিক; গাজী মিয়াঁ  
    মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ জহির রায়হান  
    মোহিতলাল মজুমদার কৃত্তিবাস ওঝা; সত্যসুন্দর দাস  
    মোঃ শহীদুল হক শহীদুল জহির  
১৮৬১-১৯৪১ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা, ভারত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুর  
    রাজশেখর বসু পরশুরাম  
    রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই  
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনিলা দেবী  
    শম্ভু মিত্র প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়  
    শেখ অাজিজুর রহমান শওকত ওসমান  
    সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত  
১৯২৪-১৯৮৮ বিক্রমপুর, বাংলাদেশ সমরেশ বসু কালকূট; ভ্রমর  
১৯৩৪-২০১২ মাদারীপুর, বাংলাদেশ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীল উপাধ্যায়; নীল লোহিত; সনাতন পাঠক  
    সুভাষ মুখোপাধ্যায় সুবচনী  
    সোমেন চন্দ ইন্দ্রকুমার সোম  
১৯০৪-১৯৭৪ করিমগঞ্জ, আসাম সৈয়দ মুজতবা আলী প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর  
১৮৩৩-১৮৯৬ কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ হরিনাথ মজুমদার কাঙাল হরিনাথ  

 

সুত্রঃ ইউকিপিডিয়া

চুনিয়া আমামার আর্কেডিয়া গ্রন্থের রচয়িতা-

আল মাহমুদ

নির্মলেন্দু গুণ

সৈয়দ শামসুল হক

রফিক আজাদ

Description (বিবরণ) :

 

চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
রফিক আজাদ---সংকলিত (রফিক আজাদ)

 

স্পর্শকাতরতাময় এই নাম

উচ্চারণমাত্র যেন ভেঙে যাবে,
অন্তর্হিত হবে তার প্রকৃত মহিমা,-
চুনিয়া একটি গ্রাম, ছোট্ট কিন্তু ভেতরে-ভেতরে
খুব শক্তিশালী
মারণাস্ত্রময় সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
 
মধ্যরাতে চুনিয়া নীরব।
চুনিয়া তো ভালোবাসে শান্তস্নিগ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ,
চুনিয়া প্রকৃত বৌদ্ধ-স্বভাবের নিরিবিলি সবুজ প্রকৃতি;
চুনিয়া যোজনব্যাপী মনোরম আদিবাসী ভূমি।
চুনিয়া কখনো কোনো হিংস্রতা দ্যাখেনি।
চুনিয়া গুলির শব্দে আঁতকে উঠে কি?
প্রতিটি গাছের পাতা মনুষ্যপশুর হিংস্রতা দেখে না-না ক’রে ওঠে?
- চুনিয়া মানুষ ভালোবাসে।
 
বৃক্ষদের সাহচার্যে চুনিয়াবাসীরা প্রকৃত প্রস্তাবে খুব সুখে আছে।
চুনিয়া এখনো আছে এই সভ্যসমাজের
কারু-কারু মনে,
কেউ-কেউ এখনো তো পোষে
বুকের নিভৃতে এক নিবিড় চুনিয়া।
 
চুনিয়া শুশ্রুষা জানে,
চুনিয়া ব্যান্ডেজ জানে, চুনিয়া সান্ত্বনা শুধু-
চুনিয়া কখনো জানি কারুকেই আঘাত করে না;
চুনিয়া সবুজ খুব, শান্তিপ্রিয়- শান্তি ভালোবাসে,
কাঠুরের প্রতি তাই স্পষ্টতই তীব্র ঘৃণা হানে।
চুনিয়া গুলির শব্দ পছন্দ করে না।
 
রক্তপাত, সিংহাসন প্রভৃতি বিষয়ে
চুনিয়া ভীষণ অজ্ঞ;
চুনিয়া তো সর্বদাই মানুষের আবিষ্কৃত
মারণাস্ত্রগুলো
ভূমধ্যসাগরে ফেলে দিতে বলে।
চুনিয়া তো চায় মানুষের তিনভাগ জলে
রক্তমাখা হাত ধুয়ে তার দীক্ষা নিক্।
চুনিয়া সর্বদা বলে পৃথিবীর কুরুক্ষেত্রগুলি
সুগন্ধি ফুলের চাষে ভ’রে তোলা হোক।
 
চুনিয়ারও অভিমান আছে,
শিশু ও নারীর প্রতি চুনিয়ার পক্ষপাত আছে;
শিশুহত্যা, নারীহত্যা দেখে-দেখে সেও
মানবিক সভ্যতার প্রতি খুব বিরূপ হয়েছে।
 
চুনিয়া নৈরাশ্যবাদী নয়, চুনিয়া তো মনেপ্রাণে
নিশিদিন আশার পিদ্দিম জ্বেলে রাখে।
চুনিয়া বিশ্বাস করে:
শেষাবধি মানুষেরা হিংসা-দ্বেষ ভুলে
পরস্পর সৎপ্রতিবেশী হবে।

 

 
 

 

'কালো বরফ' রচনা করেন

শহীদুল জহির

আজমদ ছফা

মাহমুদুল হক

সেলিনা হোসেন

Description (বিবরণ) :

'কালো বরফ' রচনা করেন  মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হক (ডিসেম্বর ১৬, ১৯৪০ - জুলাই ২১, ২০০৮) একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে। তার লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

প্রাথমিক জীবন - মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হক ১৯৪০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম, মায়ের নাম মাহমুদা বেগম। ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় পর পিতা সরকারের উচ্চপদে চাকরিসূত্রে পূর্ব পাকিস্তানে যোগদান করেন এবং বেশ পরে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ১৯৫১ সালে আজিমপুরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ছয় ভাই চার বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন।

শিক্ষা ও পেশাগত জীবন - মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হকের পড়ালেখার হাতেখড়ি হয়েছিল বারাসাতের কালীকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৫২ সালে ঢাকার লালবাগের ওয়েস্ট এন্ড স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। রাতকানা রোগের কারণে মাঝখানে কিছুদিন তিনি পড়ালেখায় বিরতি দেন। পরে তিনি ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে তিনি জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হলেও পড়ালেখার চেয়ে আড্ডাবাজিতে মগ্ন হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ইতি ঘটান। দৈনিক সংবাদ পত্রিকার অনুবাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু তিন মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি প্রথমে মনোহারি, পরে জুয়েলারি ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। পরে অবশ্য মীজানুর রহমান এবং প্রতাপউদ্দিনের সাথে মিলি ‘গাঙচিল প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৬৭ সালে; কিন্তু এ ব্যবসাও তার টেকে নি।

সাহিত্যজীবন - মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হকের শিক্ষক ছিলেন কথাশিল্পী শহীদ সাবের। তার প্রত্যক্ষ প্রেরণায় তিনি সাহিত্যের সাথে যুক্ত হন এবং প্রথমে ‘অগ্রগামী’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির মাত্র ৩টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। মাহমুদুল হক যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তখন ‘রেড হর্নেট’ (১৯৫৪) ডিটেকটিভ উপন্যাস রচনা করেন। এ সময় তিনি ‘অরণ্য বাসর’ ও ‘আমি সম্রাট’ নামি দুটি রোমাঞ্চধর্মী উপন্যাসও লিখেছিলেন। তবে তিনি ১৯৮৪ সালের পর আর লেখালেখি করেন নি।

সাহিত্যকর্ম - মাহমুদুল হক

উপন্যাস

  • অনুর পাঠশালা (১৯৬৭)
  • নিরাপদ তন্দ্রা (১৯৬৮)
  • জীবন আমার বোন (১৯৭২)
  • কালো বরফ (১৯৭৭)
  • অশরীরী (১৯৭৯)
  • পাতালপুরী (১৯৮১)
  • খেলাঘর (১৯৮৮)
  • মাটির জাহাজ (১৯৭৭)

শিশুতোষ উপন্যাস

  • চিক্কোর কাবুক (১৯৭৯)

গল্পগ্রন্থ

  • প্রতিদিন একটি রুমাল (১৯৯৪)
  • মাহমুদুল হকের নির্বাচিত গল্প (১৯৯৯)
  • মানুষ মানুষ খেলা (২০০৯)
  • অগ্রন্থিত গল্প [সংগ্রহ ও সম্পাদনা, আবু হেনা মোস্তফা এনাম] (২০১০)

অন্যান্য

  • মাহমুদুল হক শিশুদের কাগজ আলাপনীশাহীন সেতারা প্রভৃতি পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তার কিছু সাড়া জাগানো উপন্যাসের মধ্যে খেলাঘর-চলচ্চিত্ররূপ ২০০৬।

 

মাহমুদুল হক

জন্ম ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪০

বারাসাত

মৃত্যু ২১ জুলাই ২০০৮ (বয়স ৬৭)

ঢাকা

জাতীয়তা বাংলাদেশি Flag of Bangladesh.svg
যেখানের শিক্ষার্থী জগন্নাথ কলেজ
পেশা সাহিত্যিক
পরিচিতির কারণ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার

উল্লেখযোগ্য কর্ম

কালো বরফ, জীবন আমার বোন, মাটির জাহাজ, প্রতিদিন একটি রুমাল
পুরস্কার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৭)

 

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

'হাত- হদাই' একটি-

কাব্যগ্রন্থ

উলন্যাস

গল্পগ্রন্থ

নাটক

Description (বিবরণ) :

'হাত- হদাই' নাটকের নাট্যকার - সেলিম আল দীন

 

সেলিম আল দীন

সেলিম আল দীন (১৮ আগস্ট, ১৯৪৯ - ১৪ জানুয়ারি, ২০০৮ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করেছেন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।

সেলিম আল দীন

সেলিম আল দীন.jpg

সেলিম আল দীন

জন্ম ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ (বয়স ৭০)
সোনাগাজী, ফেনী, বাংলাদেশ
মৃত্যু ১৪ জানুয়ারি ২০০৮ (বয়স ৫৮)
ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশা নাট্যকার, লেখক, অধ্যাপক
জাতীয়তা বাংলাদেশী (বাংলা)
নাগরিকত্ব বাংলাদেশী
দম্পতি বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম
তথ্য
ধারা নাটক
উল্লেখযোগ্য কাজ
  • কিত্তনখোলা (১৯৮৬)
  • কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮)
  • চাকা (১৯৯১)
  • হরগজ (১৯৯২)
  • যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩)
  • হাতহদাই (১৯৯৭)
  • প্রাচ্য (২০০০)
  • নিমজ্জন (২০০২)
পুরস্কার
  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার (সাহিত্য) (১৯৮৪)
  • একুশে পদক (২০০৭)
  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩, ১৯৯৪)
  • নান্দিকার পুরস্কার (আকাদেমি মঞ্চ কলকাতা) ১৯৯৪
  • শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাট্যকার (১৯৯৪)
  • মুনীর চৌধুরী সম্মাননা (২০০৫)

একাত্তরের ডায়েরী কার লেখা?

জাহানারা ইমাম

সুফিয়া কামাল

শওকত আলী

আবু ইসহাক

Description (বিবরণ) :

একাত্তরের ডায়েরী সুফিয়া কামাল  এর লেখা 

‘একাত্তরের ডায়েরী’ ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা
১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদের মাতামহের বাড়িতে সুফিয়া কামালের জন্ম। মা সাবেরা বানু এবং বাবা সৈয়দ আব্দুল বারি। পারিবারিক পরিমণ্ডলে সাহিত্য-পত্রিকা ও গল্প পড়তে-পড়তেই সাহিত্যচর্চার অনুপ্রাণিত হন।মাত্র ১৪ বছর বয়সে বরিশাল থেকে ‘তরুণ’ পত্রিকায় ‘সৈনিক বধূ’ গল্পটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা। লেখালেখির কাজ সুফিয়াকে লুকিয়ে করতে হয়েছে-বিশেষ করে বাংলা ভাষার চর্চা ছিলো না। সীমাবদ্ধ ছিল আরবি, ফারসি, উর্দুতে। মায়ের ঐকান্তিক সহযোগিতায় সুফিয়া বাংলা বলতে, পড়তে ও লিখতে শেখেন। লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা রচনা করতে-করতেই সওগাতে প্রকাশিত হল তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ যা সাথে-সাথেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথম গ্রন্থ রচয়িতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যসমগ্র প্রকাশের মাঝে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে দীর্ঘ চিঠি লিখে কাব্যচর্চায় উৎসাহিত করেন। প্রকৃতপক্ষে ‘সাঁঝের মায়া’ গ্রন্থের ভূমিকাটি তাঁরই লেখা।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা পড়ে তাঁকে আর্শীবাণী পাঠিয়েছিলেন এই বলে, ‘তোমার কবিত্ব আমাকে বিস্মিত করে। বাংলা সাহিত্যে তোমার স্থান উচ্চে এবং ধ্রুত তোমার প্রতিষ্ঠা আমার আশির্বাদ গ্রহণ করো।’ (সেলিম জাহাঙ্গীর, সুফিয়া কামাল, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র, ঢাকা ১৯৯৩ পৃ-৬৪) সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন তাঁর সাহিত্য-জীবনে উৎসাহের বিরাট উৎস হিসেবে কাজ করেছেন।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
একাত্তরের ডায়েরী প্রথম সংস্করণ খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেলে আবারও তা প্রকাশের জন্য প্রচুর তাগাদা আসে। শেষ পর্যন্ত জাগৃতি প্রকাশনীই স্বেচ্ছায় প্রকাশের দায়িত্ব নিল দ্বিতীয় সংস্করণের। আমার একমাত্র প্রত্যাশা আজকের প্রজন্ম জানুক সেদিনগুলো কেমন সংগ্রামমুখর ছিল। সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ
সুফিয়া কামাল
৩১.১.৯৫

ভূমিকা
কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন মনন ও সৃজনশীলতায় অগ্রগামী নারী। যে সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, নিজের সহজাত জ্ঞান ও মেধা দিয়ে সেই সময়কে অতিক্রম করেছিলেন এগিয়ে থাকা মানুষের শাণিত বোধে। যে বয়সে মানুষের বিবেচনা ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয় সে বয়সে তাঁর সময়কে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন মানব কল্যাণের প্রয়োজনে। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের ডায়েরী’ গ্রন্থ এই বিবেচনার সবটুকু প্রেরণা থেকে রচিত। ডায়েরির শুরু হয়ে ডিসেম্বর ৩০, ১৯৭০ তারিখে। শেষ হয়েছে ডিসেম্বর ৩১, শুক্রবার। পুরো এক বছর সময়। তবে প্রতিদিনের প্রতিদিনের দিনলিপি নয়।মাঝে মাঝে কিন্তু কিছু তারিখ বাদ দিয়ে লিখেছেন।
১০৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। দুর্যোগে বিপর্যন্ত মানুষের হাতে রিলিফ সামগ্রী তুলে দিতে তিনি গিয়েছিলেন। পটুয়াখালির ধানখালি চর এলাকায়। রিলিফ দিয়ে ঢাকার ফিরলেন ৮ জানুয়ারি।
সত্তরের জলোচ্ছ্বোসের পরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচন। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করেছিল আওয়ামী লীগ।পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বাঙালি নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত ১ মার্চ ১৯৭১ সালে গণপরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। ১মার্চ, সোববার রাত দশটায় কবি লিখছেন, ‘বিক্ষুদ্ধ বাংলা।’ ভুট্ট্যো সাহেব পরিষদে যোগ দিবেন না সিন্ধান্তে পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রইল। ১২টায় এ খবর প্রচারিত হওয়ায়, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে বিভিন্ন তারিখে তিনি দেশের পরিস্থিতির কথা নানাভাবে বর্ণনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দলিল হিসেবে এই ডায়েরির তথ গবেষণার উপাদান হিসেবে কাজ করবে।ডায়েরির একটি বিশেষ দিক এই যে কোনো কোনো তারিখে তিনি শুধু একটি কবিতা লিখেছেন। একজন কবি এভাবেই নিজের প্রকাশ ঘটান। এপ্রিল ১, বৃহস্পতিবার। রাত আটটায় তিনি লেখাটি শেষ করেছেন এভাবে : ‘কারফিউ চলছে। প্লেনের আসা-যাওয়ার বিরাম নেই। কাল থেকে নাকি ব্যাঙ্ক সব খোলা হবে। আট আনায় তিনটি পান কিনলাম। বাংলার ইতিহাস কে রচনা করবে?’ শেষের বাক্যটি অন্য বাক্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন। কিন্তু কোনোবাবেই এটি কোনো আকস্মিক বাক্য নয়।কারণ ২৫ শের রাতে গণহত্যার পরে শুরু হয়ে গেছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হবে বাঙালির নতুন ইতিহাস। তিনি আহবান করছেন ইতিহাস রচয়িতাকে।এখানেই চিহ্নিত হয় তাঁর আগ্রগামী চিন্তার স্বরূপ। ডিসেম্বর ১৬, বৃহস্পতিবার লিখছেন, ‘আজ ১২ টায় বাংলাদেশ যুদ্ধ বিরতির পর মুক্তিফৌজ ঢাকার পথে পথে এসে আবার সোচ্চার হল ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণে। আল্লাহর কাছে শোকর।’
ডিসেম্বর ২৯ তারিখে একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি শুরু হয়েছে নিজের মেয়ের কথা দিয়ে লিখেছেন : ‘আমার ‘দুলু’র মুখ দেখি আজ বাংলার ঘরে ঘরে শ্বেত বাস আর শূন্য দু’হাত নয়নে অশ্রু ঝরে’..... শেষ হয়েছে এদুটি লাইন দিয়ে: ‘সুন্দর কর মহামহীয়ান কর এ বাংলাদেশ এই মুছিলাম অশ্রুর ধারা দুঃখের কেউ শেষ।’ কবিতাটি বেশ বড় কষ্ট থেকে আশায় ফিরে এসেছেন তিনি। ডায়েরী শেষ হয়েছে ডিসেম্বর ৩১, শুক্রবার। শেষ বাক্যটি লিখেছেন, ‘১৯৭১ আজ শেষ হয়ে গেল। জানিনা, আগামী কালের দিন কিভাবে শুরু হবে।’ তিনি বিশাল প্রত্যাশায় তাকান নি আগামী দিনের দিকে। বরং খানিকটুকু দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। স্বাধীনতার ঊনচল্লিশ বছরে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে অনেক অপূর্ণতা এখনো রয়ে গেছে।

 

একাত্তরের ডায়েরী

Title একাত্তরের ডায়েরী
Author সুফিয়া কামাল
Publisher হাওলাদার প্রকাশনী
ISBN 9789848964033
Edition 8th Edition, 2018
Number of Pages 208
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা

'স্ট্রোক' আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে ---এটি কি?

হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা

হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা

ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া

Description (বিবরণ) :

স্ট্রোক

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত ক্ষরনের ফলে অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে যে অবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক (Stroke)। দেহের রক্তের মাত্র ২% মস্তিষ্ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল---অক্সিজেন বা শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ওই কোষগুলো শরীরের যেই অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ গুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

কোনটি রক্তের কাজ নয়?

কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা

ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা

হরমোন বিতরণ করা

জারক রস (enzyme) বিতরণ করা

Description (বিবরণ) :

জারক 

জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে। জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে। যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?

সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে

ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে

পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে

মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে

Description (বিবরণ) :

নাইট্রোজেন 

নাইট্রোজেন একটি মৌল বা মৌলিক পদার্থ যার বাংলা নাম যবক্ষারজান।, এই মৌলিক পদার্থের প্রতীক N ও পারমাণবিক সংখ্যা ৭।, বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদবিহীন। নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় ধরনের দ্বিপরমাণুক গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়তনের হিসাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০৯ শতাংশ।এর যোজনী ৩ এবং ৫।

"গ্রীন হাউজ ইফেক্টের' পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কি হবে?

উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে

নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে

নাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে

বৃষ্টিপাত কমে যাবে

Description (বিবরণ) :

গ্রীন হাউজ

গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা ভূপৃষ্ঠ হতে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকিরিত হয়। এই বিকীর্ণ তাপ ভূপৃষ্ঠে উপস্থিতিতেও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ফিরে এসে ভূপৃষ্ঠের তথা বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়।

মূলত সৌর বিকিরণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং ভূপৃষ্ঠ পরবর্তীকালে এই শক্তি নিম্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে অবলোহিত রশ্মি আকারে নির্গত করে। এই অবলোহিত রশ্মি বায়ুমণ্ডলস্থ গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে অনেক বেশি শক্তি আকারে ভূপৃষ্ঠে ও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে পুনঃবিকিরিত হয়। শীতপ্রধান দেশগুলোতে সাধারণত কাচ নির্মিত গ্রিন হাউজ তৈরি করে উদ্ভিদ উৎপাদন করার পদ্ধতি অনুসরণ এই প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়। একটি গ্রিন

হাউজে সৌর বিকিরণ কাচের মধ্য দিয়ে গ্রিন হাউজটিকে উত্তপ্ত র াখে,এখানে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে গ্রিন হাউজটিকে বাতাসের প্রবাহ হ্রাস করে উত্তপ্ত বাতাস কাচের কাঠামোর মধ্যে পরিচলন ব্যতিরেকে ধরে রাখতে পারে।

সূর্য থেকে পৃথিবীর মতো দূরত্বে যদি কোনো আর্দশ তাপ-সুপরিবাহী কৃষ্ণবস্তু (আর্দশ ভৌত পদার্থ যা তার উপর আপতিত সকল তড়িচ্চুম্বকীয়

বিকিরণ শোষণ করতে পারে) থাকত তাহলে বস্তুটির তাপমাত্রা হত প্রায় ৫.৩° সেলসিয়াস। যেথপৃথিবী িবী তার দিকে আগত সৌররশ্মির ৩০ শতাংশ প্রতিফলন করে সেহেতু, এই আর্দশ গ্রহের কার্যকর তাপমাত্রা (একটি কৃষ্ণবস্তুও এই সমপরিমাণ তাপমাত্রা বিকিরণ করবে) হবে প্রায় -১৮° সেলসিয়াস।এই কল্পিত গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩৩° সেলসিয়াসের নিচে যেখানে পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রকৃত তাপমাত্রা প্রায় ১৪° সেলসিয়াস।বায়ুমণ্ডলেরডলের কারণে যে প্রক্রিয়া পৃষ্ঠের প্রকৃত তাপমাত্রা ও কার্যকর তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে তাইিন ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া।

পৃথিবীতে এই প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া প্রাণের সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে। কিন্তু, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশেষত, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত দহন এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হচ্ছে ফলশ্রুতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিত্য ব্যবহার্য বহু ' এরোসোলের' কৌটায় এখন লেখা থাকে 'সিএফসি' বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?

ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে

গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে

ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে

দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়