দুটি পদের মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপক কোনো সম্পর্কের লিখত বা মৌখিক বিবৃতি হলো যুক্তিবাক্য।
বগুণ অনুসারে যুক্তিবাক্যকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, যথা : সদর্থক ও নঞর্থক। অন্যদিকে পরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়; যথা: সার্বিক ও বিশেষ। ফলে গুণ ও পরিমাণের ভিত্তিতে যুক্তিবাক্য চার প্রকার। যথা:
১. সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Affirmative Proposition)
২. সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Negative Proposition)
৩. বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Affirmative Proposition)
৪. বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Negative Proposition)
যুক্তিবিদ্যায় এই চার প্রকার যুক্তিবাক্যকে যথাক্রমে A, E, 1 এবং ০ বাক্য বলে চিহ্নিত করা হয়।
উদ্দীপকে যুক্তিবাক্যে পদের ব্যাপ্যতার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। পদের ব্যাপ্যতা ব্যক্ত্যর্থের সাথে সম্পর্কিত। ব্যক্ত্যর্থ বলতে সংখ্যা বা পরিমাণকে বোঝানো হয়ে থাকে। একটি যুক্তিবাক্যে কোনো একটি পদ ঐ পদের কতটুকু ব্যক্তার্থকে প্রকাশ করলো বা কতটুকু ব্যক্ত্যর্থের ভিত্তিতে প্রকাশ হলো তার পরিমাণকেই পদের ব্যাপ্যতা বলা হয়। গুণ ও পরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্যের যে চারটি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, অর্থাৎ, (A, E, I, O) বাক্যের কোন কোন পদ ব্যাপ্য এবং কোন কোন পদ অব্যাপ্য তা নির্ণয় করার জন্য যুক্তিবিদরা দুটি নিয়ম আবিষ্কার করেছেন। এই নিয়ম দুটি ব্যাপ্যতার নিয়ম বলে পরিচিত। নিয়ম দুটি হলো:
প্রথম নিয়ম: সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য, কিন্তু বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য নয়। ব্যাপ্যতার এই নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিশেষ বাক্যেরই উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য নয়। অর্থাৎ 'I' এবং 'O' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্যতার এই নিয়ম অনুযায়ী ব্যাপ্য হতে পারবে না।
দ্বিতীয় নিয়ম: নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য, কিন্তু সদর্থক যুক্তিবক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য নয়। ব্যাপ্যতার এই নিয়ম অনুযায়ী সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য নয়। এই নিয়ম দুটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে চারটি দিক আছে। যথা:
১. সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য;
২. বিশেষ যুক্তিবক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য;
৩. নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য এবং
৪. সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ অব্যাপ্য।
এই চারটি দিক প্রয়োগ করলে 'A' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ, 'E' যুক্তিবাক্যের উভয় পদ, 'I' যুক্তিবাক্যের একটিও নয় এবং 'O' যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়।
উদ্দীপকে পদের ব্যাপ্যতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। পদের ব্যাপ্যতার দিকটি A, E, 1, O বাক্যের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করে দেখানো হলো। প্রথমত, A যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। সার্বিক যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। কিন্তু সদর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর বিধেয় পদ অব্যাপ্য। যেমন: সকল দার্শনিক হয় জ্ঞানী। এখানে দার্শনিক পদটি সকল দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে বিধায় এই যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ দার্শনিক ব্যাপ্য। অন্যদিকে বিধেয় জ্ঞানী পদটি সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে প্রকাশিত হয়নি। কারণ দার্শনিক ছাড়াও অন্যান্য মানুষ রয়েছে যারা জ্ঞানী। এজন্য এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ অব্যাপ্য। দ্বিতীয়ত, E যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য। সার্বিক যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং নঞর্থক হওয়ায় এর বিধেয় পদেও ব্যাপ্য। যেমন: কোনো মানুষ নয় অমর। এখানে উদ্দেশ্য মানুষ পদটি সমগ্র অর্থে প্রকাশিত হয়েছে এবং অমর পদের সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থকেই এখানে মানুষ পদের ক্ষেত্রে অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে E যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। তৃতীয়ত,। যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য। বিশেষ যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য এবং সদর্থক হওয়ায় এর বিধেয় পদটিও অব্যাপ্য। যেমন: কিছু গরু হয় লাল- এখানে উদ্দেশ্য গরু এবং বিধেয় লাল পদটির অংশ বিশেষ উল্লিখিত হয়েছে। তাই। যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয়। চতুর্থত, ০ যুক্তিবাক্য বিশেষ নঞর্থক। বিশেষ হওয়ার কারণে এর উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য। কিন্তু নঞর্থক হওয়ায় এর বিধেয় পদ ব্যাপ্য। যেমন: কিছু আম নয় মিষ্টি। এখানে উদ্দেশ্য আম পদটি অব্যাপ্য। কিন্তু বিধেয় মিষ্টি পদটি সার্বিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা মিষ্টি নয় এমন সমগ্র জিনিসের মধ্যে অবশ্যই কিছু আম অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বিধেয় পদটি ব্যাপ্য।
Related Question
View Allপদ' হলো এক বা একাধিক শব্দের সমষ্টি যা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়।
একটি যুক্তিবাক্যে সব সময় দুটি পদ থাকে, কিন্তু শব্দ থাকে দুই বা ততোধিক। যেমন- পানি হয় তরল। যুক্তিবাক্যে পানি ও তরল দুটি পদ। কিন্তু ভাসানী ছিলেন একজন বলিষ্ঠ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। বাক্যে ৬টি শব্দ আছে। যুক্তিবাক্যে পদ আছে দুই ধরনের, কিন্তু শব্দ আছে তিন ধরনের। সুতরাং ব্যাপকতার দিক থেকে শব্দ পদের চেয়ে বেশি ব্যাপ্য।
উদ্দীপকে ৩নং চিত্র ব্যাপ্যতার দিক থেকে E-যুক্তিবাক্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। 'পদের ব্যাপ্যতা' বলতে পদের প্রসারতাকে বোঝায়। একটি পদ যখন কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন পদটি দ্বারা যে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে তার দ্বারা সে পদের ব্যাপ্যতা বা ব্যাপ্তি নির্ণয় করা হয়। কোনো কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদটি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে প্রকাশ করে, আবার কোনো কোনো যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে। আবার কোনো পদ যখন আংশিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করে তখন তাকে 'অব্যাপ্য পদ' বলে।
E- যুক্তিবাক্য বলতে আমরা বুঝি যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে বিধেয় পদ অস্বীকার করে। যেমন- কোনো মানুষ নয় অমর। একে সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকের ৩নং চিত্রে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো- একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ উভয়-ই ব্যাপ্য। কারণ কালো দাগ বিশিষ্ট চিত্র দ্বারা ব্যাপ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আর E- যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ ব্যাপ্য। E-যুক্তিবাক্য সার্বিক বলে এর পদটি পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং উদ্দেশ্যটি ব্যাপ্য। আবার E-যুক্তিবাক্যটি নঞর্থক বলে বিধেয় পদটিও পূর্ণ ব্যাক্ত্যর্থ প্রকাশ করে। এজন্য বিধেয় পদটিও ব্যাপ্য। যেমন- কোনো মানুষ নয় অমর। সুতরাং ৩নং চিত্র ব্যাপ্যতার দিক থেকে E- যুক্তিবাক্যের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
চিত্রে কালো দাগ বিশিষ্ট অংশটি হলো ব্যাপ্য। সুতরাং ১নং চিত্রের একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং ২নং চিত্রে একটি যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাপ্যতা হলো প্রসারতা। যখন কোনো পদ একটি যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন পদটি দ্বারা যে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে, তার দ্বারা সে পদের ব্যাপ্তি নির্ণয় করা হয়। যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য হতে পারে, আবার বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হতে পারে।
উদ্দীপকের ১নং চিত্রে উদ্দেশ্যটি ব্যাপ্য, আর বিধেয় অব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই যুক্তিবাক্যকে A-যুক্তিবাক্য বলে। ২নং চিত্রে বিধেয়টি ব্যাপ্য এবং উদ্দেশ্যটি অব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং এটি একটি O-যুক্তিবাক্য।
A-যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক সদর্থক। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদের সমগ্রকে স্বীকার করে নেয় তাকে A-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে। -যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় উদ্দেশ্য পদের অংশিককে অস্বীকার করে তাকে -যুক্তিবাক্য বা বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য বলে। যেমন- কিছু মানুষ নয় সাহসী। সুতরাং ১নং চিত্র ও ২নং চিত্রকে সম্পূর্ণ বিপরীত বলা যায়। কারণ ১নং চিত্রের যুক্তিবাক্যটি সার্বিক সদর্থক এবং ২নং চিত্রের যুক্তিবাক্যটি বিশেষ নঞর্থক। ১নং চিত্রে উদ্দেশ্য ব্যাপ্য এবং বিধেয় অব্যাপ্য। আর ২নং চিত্রে উদ্দেশ্য অব্যাপ্য এবং বিধেয় ব্যাপ্য হয়েছে। তাই ১নং চিত্র ও ২নং চিত্র বিপরীত।
মানুষের চিন্তা, ইচ্ছা, অনুভব করার কথিত ধ্বনি বা লিখিত চিহ্নকে শব্দ বলে।
যুক্তিবিদ্যায় শব্দ প্রধানত তিন প্রকার। যথা- ১। পদযোগ্য শব্দ, ২। সহ-পদযোগ্য শব্দ, ৩। পদ-নিরপেক্ষ শব্দ।
এটি ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো-
শব্দ | ||
পদযোগ্য শব্দ | সহ-পদযোগ শব্দ | পদ-নিরপেক্ষ শব্দ |
কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়। যথা- মানুষ, কলম | যে শব্দ অন্য পদের সাহায্য ছাড়া যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। যথা- গুলো, টা, টি। | যে শব্দ যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। যথা- হায়! বাহ! |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!