উদ্দীপকের মডেলের সাথে রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলের তুলনা করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মডেলটি হলো বোরের পরমাণু মডেল। বোরের পরমাণু মডেলের সাথে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের তুলনা নিম্নে তুলে ধরা হলো -

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলবোরের পরমাণু মডেল
iরাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সাধারণ বলবিজ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত।বোরের পরমাণু মডেলের মূল ভিত্তি হলো প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম মতবাদ।
iiরাদারফোর্ডের পরমাণুর মডেল অনুযায়ী, পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে যেকোনো ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো আবর্তন করতে পারে।বোরের পরমাণু মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রনগুলি ইচ্ছামতো যেকোনো ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন করার পরিবর্তে, কতকগুলি নির্দিষ্ট ও সুস্থিত শক্তিস্তরে আবর্তন করে।
iiiতড়িৎ গতিবিদ্যা অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারদিকে আবর্তনশীল ইলেকট্রন ক্রমশ শক্তি বর্জন করবে। ফলে ইলেকট্রনটি ক্রমহ্রাসমান ব্যাসার্ধের কুন্ডলী পথে আবর্তন করতে করতে নিউক্লিয়াসের উপর গিয়ে পড়বে। সুতরাং রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল দ্বারা পরমাণুর সুস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না।বোরের পরমাণু মডেল অনুযায়ী নির্দিষ্ট শক্তি সম্পন্ন স্থায়ী কক্ষপথে ঘূর্ণনের সময় ইলেকট্রনগুলি কোনো শক্তি বিকিরণ করে না। সুতরাং, শক্তি হারিয়ে ইলেকট্রনের নিউক্লিয়াসে গিয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অর্থাৎ এই মডেল পরমাণুর সুস্থিতি ব্যাখ্যা করতে সামর্থ্য হয়।
ivএই মডেল অনুসারে, পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রনের নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণের ফলে নিরবিচ্ছিন্ন পারমাণবিক বর্ণালী পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমন নিরবিচ্ছিন্ন রেখা বর্ণালী পাওয়া যায় না। রাদারফোর্ডের মডেল দ্বারা পরমাণুর রেখা বর্ণালীর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায় না।এই মডেলের স্বীকার্য অনুযায়ী; উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কক্ষ থেকে নিম্ন শক্তিসম্পন্ন কক্ষে ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ফলে শক্তি নির্গত হয়। দুটি কক্ষপথের শক্তির পার্থক্য নির্দিষ্ট। তাই নির্গত শক্তির কম্পাঙ্কও নির্দিষ্ট এবং এর ফলে পরমাণুর রেখা বর্ণালীর সৃষ্টি হয়। সুতরাং, বোরের তত্ত্ব দ্বারা পরমাণুর রেখা বর্ণালীর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায়।
vএই মডেলের সাহায্যে কক্ষপথের ব্যাসার্ধ, ইলেকট্রনের গতিবেগ, শক্তি ও বর্ণালীতে উৎপন্ন রেখার কম্পাঙ্ক নির্ণয় করা যায় না।এই মডেলের সাহায্যে কক্ষপথের ব্যাসার্ধ, ইলেকট্রনের গতিবেগ, শক্তি এবং বর্ণালীতে উৎপন্ন রেখার কম্পাঙ্ক নির্ণয় করা যায়।
Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
271

তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো আমাদের চারপাশের জিনিসগুলো কী দিয়ে তৈরি? তোমার শরীরই বা কী দিয়ে তৈরি? হ্যাঁ, তোমাদের মতো প্রাচীন দার্শনিকেরাও এ নিয়ে বহু চিন্তা-ভাবনা করেছেন। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকেরা ভাবতেন মাটি, পানি, বায়ু এবং আগুন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ আর অন্য সকল বস্তু এদের মিশ্রণে তৈরি। গ্রিসের দার্শনিক ডেমোক্রিটাস প্রথম বলেছিলেন, প্রত্যেক পদার্থের একক আছে যা অতি ক্ষুদ্র আর অবিভাজ্য। তিনি এর নাম দেন এটম। কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দিয়ে এটি প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি বলে এটি কোনো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অবশেষে 1803 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরমাণু সম্পর্কে একটি মতবাদ দেন যে, প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। তিনি দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের সম্মানে এ একক কণার নাম দেন Atom, যার অর্থ পরমাণু। এর পরে প্রমাণিত হয় যে, পরমাণু অবিভাজ্য নয় । এদের ভাঙলে পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র কণিকা ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি পাওয়া যায়। পরমাণুর বিভিন্ন মডেল, পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ইত্যাদি এ অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।

 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • মৌলের ইংরেজি ও ল্যাটিন নাম থেকে তাদের প্রতীক লিখতে পারব।
  •  মৌলিক ও স্থায়ী কণিকাগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
  • পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা, আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে আপেক্ষিক আণবিক ভর হিসাব করতে পারব।
  • পরমাণুর ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা হিসাব করতে পারব ৷
  • আইসোটোপের ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • পরমাণুর গঠন সম্পর্কে রাদারফোর্ড ও বোর পরমাণু মডেলের বর্ণনা করতে পারব।
  • রাদারফোর্ড ও বোর পরমাণু মডেলের মধ্যে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • পরমাণুর বিভিন্ন কক্ষপথে এবং কক্ষপথের বিভিন্ন উপস্তরে পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহকে বিন্যাস করতে পারব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.4k
উত্তরঃ

X2964 এবং Y3064 মৌল দুটির প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 29 ও 30 এবং ভরসংখ্যা যথাক্রমে 64 ও 64। অর্থাৎ নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই। নিউক্লিয়ন সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল। আমরা জানি, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা (A) – পারমাণবিক সংখ্যা (Z)

সুতরাং  X2964 এর নিউট্রন সংখ্যা = 64-29 = 35

Y3064 এর নিউট্রন সংখ্যা = 64 - 30 = 34

যেহেতু, মৌল দুটির পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাই পরমাণু দুটির নিউক্লিয়ন সংখ্যা সমান হলেও, নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
958
উত্তরঃ

ফরিদের আঁকা মডেলটি রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সমর্থন করে। মডেলটির স্বীকার্যসমূহ হলো-


i. পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে একটি ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী বস্তু বিদ্যমান। এই ভারী বস্তুকে পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস বলা হয়। পরমাণুর মোট আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াসের 'আয়তন অতি নগণ্য। নিউক্লিয়াসে পরমাণুর সমস্ত ধনাত্মক চার্জ ও প্রায় সমস্ত ভর কেন্দ্রীভূত।
ii. পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ। অতএব নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে পরিবেষ্টিত করে রাখে।
iii. সৌরজগতের সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান গ্রহসমূহের মতো পরমাণুর ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারদিকে অবিরাম ঘুরছে। ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ও ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ইলেকট্রনসমূহের পারস্পরিক স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্র বহির্মুখী বল পরস্পর সমান।

চিত্র: রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
709
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বিদ্যমান ফরিদের অঙ্কিত মডেল হল রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল। এটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইলেকট্রনগুলো সর্পিলাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিউক্লিয়াসে পতিত হচ্ছে, তাই অঙ্কিত মডেলটি একটি অস্থায়ী পরমাণু মডেল।

ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে কোন চার্জযুক্ত কণা কোনো বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকলে তা ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ করবে এবং তার আবর্তন কক্ষপথের ব্যাসার্ধ ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। সুতরাং ইলেকট্রনসমূহ ক্রমশ শক্তি হারাতে হারাতে নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করবে। ফলে মডেলটি অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুসারে পরমাণু স্থায়ী হবে না।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
734
উত্তরঃ

কোনো মৌলের পূর্ণ নামের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ মৌলের প্রতীক বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
445
উত্তরঃ

বর্ণালি হলো বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমাবেশ। বোর পরমাণু মডেল অনুসারে পরমাণুর মধ্যে কোনো ইলেকট্রন যখন একটি নিম্নতর কক্ষপথ থেকে উচ্চতর কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে। আবার যখন উচ্চতর শক্তিস্তর থেকে নিম্নতর শক্তিস্তরে স্থানান্তরিত হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে। বিকিরিত শক্তি আলোক শক্তিরূপে আমাদের চোখে ধরা পড়ে। এ আলোক শক্তিকে বর্ণালি হিসাবে পাওয়া যায়। এভাবে পরমাণুতে বর্ণালির সৃষ্টি হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews