বিরুৎ জাতীয় গাছপালার নরম ও রসালো অংশকে শাকসবজি বলে।
পাট পচার পর আঁশ সংগ্রহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আঁশ ছাড়ানো ও পরিষ্কারকরণ।
পাট পচার পর গাছ থেকে দুইভাবে আঁশ ছাড়ানো যায়। যথা-
i. পানি থেকে প্রতিটি আঁটি উঠিয়ে এবং শুকনো জায়গায় বসে প্রতিটি গাছ থেকে আলাদাভাবে আঁশ ছাড়িয়ে নেওয়ার পর কতগুলো পাট গাছের আঁশ একত্রে করে ধুয়ে নেওয়া হয়।
ii. হাঁটু বা কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে পাটের আঁটির গোড়ায় কাঠ বা বাঁশের মুগুর দ্বারা পিটানো হয়। পরে গোড়ার অংশ হাতে পেঁচিয়ে নিয়ে পানির উপর সমান্তরালভাবে সামনে পিছনে ঠেলা দিলেই অগ্রভাগের পাটকাঠি বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে আঁশগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে আঁটি বেঁধে রাখা হয়।
করিম শেখ এক শতক জমিতে দুই খণ্ড ধানের বীজতলা তৈরি করেন। ধানের জন্য চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা যায়। প্রতিটি বীজতলার আকার ১০ মিটার × ৪ মিটার জায়গার মধ্যে নালা বাদ দিয়ে ৯.৫ মিটার × ১.৫ মিটার হবে। বীজতলার চারদিকে ২৫ সেমি জায়গা বাদ দিতে হবে এবং দুই খণ্ডের মাঝখানে ৫০ সেমি জায়গা নালার জন্য রাখতে হবে। বাবর আলী ২ খণ্ড বীজতলা তৈরি করেন।
আমরা জানি, ১ শতক = ৪০ বর্গমিটার
১ খণ্ড বীজতলার আকার (১০ মি × ২ মি) বা ২০ বর্গমিটার
∴ ২ খণ্ড বীজতলার আকার (২০ × ২) বর্গমি = ৪০ বর্গমিটার
করিম শেখের ধান গাছ ব্লাস্ট ও টুংরো রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
ধান গাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ এবং ভাইরাসজনিত টুংরো রোগ অন্যতম।
করিম শেখের ধান গাছকে ব্লাস্ট রোগ মুক্ত রাখার জন্য নীরোগ বীজ ব্যবহার করতে হবে। বীজ বপনের পূর্বে শোধন করে নিতে হবে।
জমিতে জৈব সার এবং পটাশ জাতীয় সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত হিসেবে বিআর ৩, বিআর ৪, ব্রি ধান ২৮ ইত্যাদি রোপণ করতে হবে। এমনিভাবে টুংরো রোগ দমনের জন্য টুংরো রোগ প্রতিরোধী জাত চান্দিনা, ব্রিশাইল, গাজী, ব্রি ধান ৩৭ ইত্যাদি চাষ করতে হবে। পাতা ফড়িং টুংরো রোগ ছড়ায় তাই আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে সবুজ পাতা ফড়িং মেরে ফেলতে হবে। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করতে হবে। ধান ক্ষেতে টুংরো রোগ দেখা দিলে রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত উপায়ে ধানক্ষেত রোগমুক্ত রাখার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলন লাভ করা যায়।
Related Question
View Allপালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।
আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।
সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!