নাটকের প্রাণ হলো সংলাপ।
তাহেরার প্রতি মানবীয় আচরণ এবং বহিপীরের শর্ত মেনে না নেওয়ায় হাতেম আলিকে উচ্চ নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ বলা যায়।
তাহেরা বিয়ের পর পালিয়ে এসে জমিদার হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। সেখানে ঘটনাক্রমে বহিপীরও হাজির হয় এবং তাহেরাতে নিয়ে যেতে চায়। টাকার অভাবে জমিদারি নিলামে ওঠার উপক্রমে দিশেহারা হাতেম আলির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বহিপীর তাকে শর্ত দেন তাহেরাকে তার হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি টাকা দিতে পারেন। কিন্তু হাতেম আলি তাহেরার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে সেই প্রস্তাবে রাজি হন না। এ থেকেই তাকে উচ্চ নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ বলা যায়।
সারকথা: তাহেরার প্রতি মানবীয় আচরণ এবং বহিপীরের শর্ত মেনে না নেওয়াতে হাতেম আলিকে উচ্চ নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ বলা
যায়।
অসম বিয়ে করার মানসিকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের রহমত মিয়ার সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষ অর্থের দাপটে অনেক অন্যায় কাজ করে পার পেয়ে যায়। কেউ আবার ধর্মের প্রভাব খাটিয়ে অনেক অনৈতিক ও প্রতারণামূলক কাজ করে। এসব মানুষ সমাজ ও দেশের শত্রু। সামাজিক উন্নয়নের পথে অন্তরায়।
উদ্দীপকের রহমত মিয়া একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। সে টাকার জোরে মুনির মিয়ার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে লীনাকে বিয়ে করতে চায়। লীনা এ বিয়েতে অমত করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত রহমত মিয়ার সাথেই তার বিয়ে হয়। 'বহিপীর' নাটকের বৃদ্ধ বহিপীরও একই চেতনার মানুষ। তিনিও ধর্মের প্রভাব খাটিয়ে মুরিদকন্যা কিশোরী তাহেরাকে বিয়ে করেন। জৈবিক লালসা চরিতার্থ করাই রহমত মিয়া এবং বহিপীরের প্রধান উদ্দেশ্য। তাই তারা বয়সে বৃদ্ধ হলেও অসম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেছেন। উভয় চরিত্র এদিক থেকেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকের রহমত মিয়া এবং নাটকের বহিপীর প্রভাব খাটিয়ে অল্পবয়সী মেয়েকে বিয়ে করে। করে। উভয়ে এদিক থেকেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের লীনা 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা চরিত্রের পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না। মন্তব্যটি যথার্থ।
জীবনবাদী চেতনার ধারক হলে নিজের জীবনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। আমাদের সমাজে নারীরা আগে অসহায় ও শোষিত থাকলেও বর্তমানে তারা স্বাবলম্বী ও অধিকার সচেতন। নিজের ওপর চাপানো কোনো সিদ্ধান্তকে তারা মেনে নেয় না। তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্যনিয়ন্তা হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে।
উদ্দীপকের নীলা এক প্রতিবাদী নারীসভা। পিতার অন্যায় সিদ্ধান্ত সে প্রথমে মেনে নিতে পারেনি। বাবাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় সে কিছুতেই একজন বয়স্ক লোককে বিয়ে করবে না। কিন্তু শেষপর্যন্ত সে রহাই পায়নি। অপরদিকে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরাও তার পিতার সিদ্ধান্তকে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালায়। তবে নীলা রেহাই না পেলেও তাহেরা ঠিকই বিপদ থেকে রেহাই পায়।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরা এক প্রতিবাদী ও অনমনীয় মেয়ে। সে পিতার সিন্ধান্তে বহিপীরকে মেনে না নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জমিদার হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় পায়। সেখানেও ঘটনাক্রমে বহিপীর হাজির হয়। কিন্তু তাহেরা কোনোভাবেই তার সাথে যেতে রাজি হয় না। অবশেষে হাশেমের সহায়তায় সে নতুন জীবনের পথে বেরিয়ে পড়ে। তাহেরা এখানে জীবনযুদ্ধে জয়ী হলেও উদ্দীপকের লীনা জয়ী হতে পারেনি। তাছাড়া তাহেরা চরিত্রের অন্যান্য গুণও লীনার মধ্যে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের লীনা পিতার সিন্ধান্তে একজন বয়স্ক লোককে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় যা তাহেরার প্রতিবাদী চেতনার সাথে। সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু তাহেরা চরিত্রের অন্যানা বৈশিষ্ট্য এবং পরিণতির সাথে লীনার সাদৃশ্য নেই। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবহিপীর নাটকের কেন্দ্রীয় ও নাম চরিত্র। তার বাড়ি উত্তরের সুনামগঞ্জ। সাধারণের ভাষা তার কাছে অপবিত্র মনে হওয়ায় তিনি বহি বা বইয়ের ভাষায় কথা বলেন। এ কারণেই তার নাম বহিপীর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!