যদি দুটো শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকে যে, একটার ব্যক্ত্যর্থ অন্যটার ব্যক্ত্যর্থ অপেক্ষা কম এবং কম ব্যক্ত্যর্থযুক্ত শ্রেণি বেশি ব্যক্ত্যর্থযুক্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে কম ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন শ্রেণিকে বেশি ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন শ্রেণির 'উপজাতি' বলা হয়।
জাতি ও উপজাতির পার্থক্য হলো, জাতি হচ্ছে বৃহত্তর শ্রেণির নাম পক্ষান্তরে উপজাতি জাতির অন্তর্গত ক্ষুদ্রতর শ্রেণির নাম। জাতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণি হচ্ছে পরমতম জাতি, কিন্তু উপজাতির সর্বোচ্চ শ্রেণি হচ্ছে জাতি। জাতি হচ্ছে ঊর্ধ্ব প্রক্রিয়া, পক্ষান্তরে উপজাতি হচ্ছে নিম্ন প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকে ব্যবহৃত উপজাতি শব্দের সাথে জড়িত আছে জাতি শব্দটি। মানব সম্প্রদায়কে 'জাতি' বলা হলে সাঁওতাল হবে একটি উপজাতি। একটি জাতির আওতায় অনেক উপজাতি থাকতে পারে। নিম্নোক্ত ছকের সাহায্যে জাতি উপজাতির পারস্পরিক সম্পর্ক দেখানো যায়। তা হলো:
উল্লিখিত ছক অনুসারে 'দ্রব্য' হলো পরতম জাতি; সাঁওতাল সম্প্রদায় হলো ক্ষুদ্রতম উপজাতি। গারো সম্প্রদায়, অন্যান্য সম্প্রদায় এবং সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নিকটতম জাতি হলো 'মানুষ'। অন্যদিকে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সমজাতীয় উপজাতি হলো গারো সম্প্রদায় এবং অন্যান্য সম্প্রদায়। অন্যভাবে বলা যায় 'মানুষ' পদের উপজাতি হলো গারো সম্প্রদায়; সাঁওতাল সম্প্রদায় এবং অন্যান্য সম্প্রদায়।
জাতি এবং উপজাতি পদ দুটির তাৎপর্য ব্যাপক। উদ্দীপকের তাৎপর্যের প্রেক্ষাপট থেকে উদ্দীপকের সাঁওতালদেরকে ক্ষুদ্রতম উপজাতি বলে চিহ্নিত করা যায়। যে শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থ এতই কম যে, তাকে আর কোনো ক্ষুদ্রতম উপজাতিতে বিভক্ত করা যায় না, তাকে 'ক্ষুদ্রতম উপজাতি' বলে। যেমন- সাঁওতাল। উপজাতি শব্দটি বিশ্লেষণ করলে কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যথা:
১. কম ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন পদটি উপজাতি।
২. জাতির ক্ষুদ্রতম শ্রেণির নাম উপজাতি।
৩. উপজাতি হচ্ছে পদের নিম্ন প্রক্রিয়া।
৪. ক্ষুদ্রতম উপজাতির চেয়ে ক্ষুদ্র হয় শুধু ব্যক্তি, কোনো শ্রেণি নয়।
৫. ক্ষুদ্রতম উপজাতি কখনো জাতিতে পরিণত হয় না।
উপর্যুক্ত বৈশিষ্টগুলো পর্যালোচনা করে বলতে পারি 'সাঁওতাল' একটি ক্ষুদ্রতম উপজাতির নাম। যদি বলা হয় "সব সাঁওতাল হয় বাঙালি" তবে সাঁওতাল শব্দটির বাঙালি পদের তুলনার কম ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন। বাঙালি জাতির ক্ষুদ্রতম পদ হলো সাঁওতাল। সুতরাং সার্বিক বিচারে সাঁওতালকে উপজাতির ক্ষুদ্রতম উপজাতি (Infima Species) বলা হয়। বস্তুত জাতি ও উপজাতি শ্রেণিবাচক পদ দুটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ। তবে দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে একটি অপরটি অপেক্ষা বেশি ব্যাপক হলে এবং বেশি ব্যাপক পদটি কম ব্যাপক পদটিকে অন্তর্ভুক্ত করলে বেশি ব্যাপক পদটিকে কম ব্যাপক পদটির জাতি আর কম ব্যাপক পদটিকে বেশি ব্যাপক পদটির 'উপজাতি' বলে।
Related Question
View Allযে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় তাই হলো 'বিভেদক লক্ষণ'।
জাতির মধ্যে উপজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং উপজাতিকে জাতি নিজের মধ্যে ধারণা করে। এরা যদিও আলাদা তথাপি জাতির আলোচনা করতে গেলে উপজাতির চলে আসবে এবং উপজাতি আলোচনা করতে গেলে জাতি আবশ্যিকভাবে চলে আসে। কারণ জাতিকে যদি ব্যাখ্যা করতে চাই তবে উপজাতির সাহায্য নিই এবং উপজাতিকে বিশ্লেষণ করতে জাতির সাহায্য নিই। সুতরাং জাতি এবং উপজাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্যভাবে পরস্পরের সাথে জড়িত ও সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়ককে নির্দেশ করে।
উপলক্ষণ বিধেয়কের পাঁচটি শ্রেণির একটি। যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাই হলো উপলক্ষণ। যেমন- সকল মানুষ হয় চিন্তাশীল প্রাণী। এই 'চিন্তাশীলতা' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। ঠিক তেমনি উদ্দীপকের বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি হলো মানুষ পদের উপলক্ষণ। মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। তাই বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটিকে মানুষ পদের উপলক্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে এমন গুণ উল্লেখ করবে বা উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু গুণটি জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত।
বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ না হয়েও জাত্যর্থ থেকে অপরিহার্যভাবে আসে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়কের অন্তর্ভুক্ত। যা কোনো জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু তা অপরিহার্যভাবে জাত্যর্থ থেকে এসেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যে বিষয়গুলো দেওয়া আছে, তথা ২৫ মার্চ, ভোজনরসিক এবং অন্যকে খাওয়ানো এগুলো বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
অবান্তর লক্ষণ হলো যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে অনুমিত নয়। যেমন- ভোজন রসিক বা খাওয়ানো মানুষের একটা অবান্তর লক্ষণ। এই গুণাবলি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কিন্তু তা জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে নিঃসৃত হয় না।
অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারে আবার ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে। অবান্তর লক্ষণ চার ধরনের হতে পারে। (ক) শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (খ) শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (গ) ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (ঘ) ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
উদ্দীপকে যেসব অবান্তর লক্ষণ দেওয়া আছে তা মূলত ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। ২৫ মার্চ অবান্তর লক্ষণটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ- ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো তাই যা ব্যক্তির মধ্যে সব সময় বর্তমান এবং তা কোনোক্রমে পরিবর্তন করা যায় না। শিক্ষক নোমান ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে তার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ তার জন্ম সাল বা তারিখ বদলে দেওয়া যাবে না। আবার, নোমান ভোজনরসিক ও খাওয়ানো যে গুণ তা হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো যা ব্যক্তির মধ্যে কখনো বর্তমান আবার কখনো অবর্তমান থাকে। ভোজনরসিক এবং খাওয়ানো নোমান সাহেবের মধ্যে আছে। কিন্তু এমন হতে পারে যে কিছুদিন পর তা তাঁর মধ্যে নেই। সুতরাং এটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
যুক্তিবিদ অ্যারিস্টেটল সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়কের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে চার ভাগে ভাগ করেন।
সদর্থক যুক্তিবাক্যে শ্রেণিবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সেগুলোকে বলা হয় বিধেয়ক। আর এই বিধেয়ক বিষয়টি যুক্তিবিদ্যায় সর্বপথম অন্তর্ভুক্ত করেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টেটল। তিনি বিধেয়ক-এর চারটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হলো- ১. সংজ্ঞা, ২. জাতি, ৩. উপলক্ষণ, ৪. অবান্তর লক্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!