সমাজকর্ম হচ্ছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা।
প্রতিকার, প্রতিরোধ এবং উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।
সামাজিক সমস্যাগুলো জটিল এবং বহুমুখী। একটি সমস্যার সাথে অন্যান্য নানা ধরনের সমস্যা জড়িত থাকে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন পরিকল্পনা এবং কৌশল গ্রহণ। প্রথমত সমস্যার মূল চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক বিধান গ্রহণ করলে ঐ সমস্যা পুনরায় সৃষ্টি হতে পারে না। আবার প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমস্যার বিস্তৃতি ও প্রভাব বিবেচনা সাপেক্ষে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
উদ্দীপকে সমাজকর্ম সম্পর্কিত সমাজকল্যাণ প্রত্যয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
সমাজকল্যাণ বলতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সুসংগঠিত সাহায্য ও সেবামূলক কার্যক্রমকে বোঝায়। তবে বৃহৎ পরিসরে সমাজের মানুষের কল্যাণার্থে গৃহীত ও পরিচালিত যাবতীয় সেবা কার্যক্রমকে সমাজকল্যাণ বলা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকারী দলের মতামত সমাজকর্মের এ ধারণাকেই প্রতিফলিত করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত করিমগঞ্জ গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় এখানে গবেষণাকারী একটি দল মনে করছে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাধ্যমে তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পারলে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দূর হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সমাজকল্যাণ সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করে সার্বিক কল্যাণ সাধনই সমাজকল্যাণের মূল লক্ষ্য। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় মূলত সমাজকল্যাণ প্রত্যয়টিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজকল্যাণ এবং সমাজকর্ম প্রত্যয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন- উদ্দীপকের ঘটনাই এ কথার সত্যতা প্রমাণ করে।
সমাজকর্ম এবং সমাজকল্যাণ প্রত্যয় দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং ধারণাগত দিক দিয়ে অভিন্ন। কারণ উভয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন। এ লক্ষ্য অর্জনে সমাজকল্যাণ সেবাগত দৃষ্টি ভঙ্গিতে কাজ করে। অন্যদিকে সমাজকর্ম পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের কল্যাণে সাধনে ব্রতী হয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, করিমগঞ্জ গ্রামের কল্যাণে গবেষণাকারী দল গ্রামের মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক সেবা এবং আত্মনির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আবার এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের একজন সমাজসেবক আফজাল সাহেবও গবেষণাকারী দলের মতামতের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। অর্থাৎ সেবাগত বা পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন উভয়ের লক্ষ্য হচ্ছে সোহাগপুর গ্রামের মানুষের কল্যাণ সাধন। মানুষের কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে সমাজকর্ম গঠনমূলক উপায়ে সেবা দান করে। আবার, সমাজকল্যাণও সুসংগঠিতভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদারকরণে প্রচেষ্টা চালায়। সমাজকল্যাণ এবং সমাজকর্ম উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিক সেবাদানের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান সমস্যা প্রতিরোধ, সমস্যার প্রতিকার এবং সমস্যার সাথে সামঞ্জস্য বিধানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। আর এভাবেই সমাজকর্ম এবং সমাজকল্যাণ সামাজিক কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রাখে।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে সমাজকর্ম এবং সমাজকল্যাণ একই লক্ষ্য অর্জনে কার্যক্রম পরিচালনা করে
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!