একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যখন সার্বভৌম ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং সেই ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
যে সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বণ্টিত থাকে সেটিই হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। এ সরকার কাঠামোতে একাধিক রাষ্ট্র বা প্রদেশ মিলে সরকার গঠন করে। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো প্রভৃতি রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারগুলো হলো যথাক্রমে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থারই ভিন্ন দুটি রূপ।
যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থার মধ্যে সর্বোত্তম শাসনব্যবস্থা হলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আরেকটি প্রধান রূপ। উদ্দীপকের বিলাশ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারল। উক্ত দুটি দেশে যথাক্রমে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে সর্বোত্তম শাসনব্যবস্থা হলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। এ সরকার ব্যবস্থায়সরকার জনমতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং জনসাধারণের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয়। এ শাসনব্যবস্থায় আইনসভার প্রাধান্য থাকে। রাষ্ট্রপতি হন এ সরকারব্যবস্থার নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। প্রকৃত
শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে। তিনিই আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। গণতান্ত্রিক সরকারের আরেকটি প্রধান রূপ হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং রাষ্ট্রপতি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না; বরং তার দায়বদ্ধতা থাকে জনগণের নিকট। এ সরকারব্যবস্থাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থার বিপরীত মনে করা হয়।গণতান্ত্রিকশাসনব্যবস্থার এ দুটি ভিন্ন রূপই বর্তমানে সমান জনপ্রিয়
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকারব্যবস্থা হলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার যাদের মধ্যে নানাবিধ পার্থক্য বিদ্যমান। এ দুটি সরকার ব্যবস্থাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। কিন্তু উক্ত দুটি শাসনব্যবস্থাকে একে অপরের বিপরীত বলে মনে করা হয়। উদ্দীপকের বিলাশ জানতে পারল যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুসারে দুই দেশের সরকার পরিচালনা পদ্ধতিও ভিন্ন। বাংলাদেশে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুই শাসনব্যবস্থায় সুস্পষ্টভাবেই বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থায় আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এ শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। প্রকৃত শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তিনিই আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। উক্ত শাসনব্যবস্থায় আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। এ শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন এবং রাষ্ট্রপতির সহকর্মীও নন বরং অধস্তন কর্মচারী মাত্র। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের প্রাধান্য থাকে। অতএব দেখা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন সকল ক্ষমতার শীর্ষে। তাই বলা যায়, উক্ত দুটি শাসনব্যবস্থায় উপরিউক্ত নানা ধরনের পার্থক্য লক্ষণীয়।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!