নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সংখ্যা হলো 7টি।
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদান এবং শেয়ারের মাধ্যমে পরমাণুসমূহের শেষ শক্তিস্তরে যে আটটি ইলেকট্রনের বিন্যাস লাভ করে তাকে অষ্টক নিয়ম বলে।
যেমন, সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠনের সময় সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং ক্লোরিন পরমাণু ঐ ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এভাবে, উভয় মৌলের পরমাণুই সর্ববহিঃস্থ স্তরে অষ্টক কাঠামো লাভকরে।
অষ্টক নিয়মের সাহায্যে বেশিরভাগ যৌগের বন্ধন ব্যাখ্যা করা যায়। মৌলসমূহ অষ্টক পূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই রাসায়নিক বন্ধনে অংশ নেয়।
উদ্দীপকের Y মৌলটি হলো, পটাসিয়াম এবং B মৌলটি হলো ফ্লোরিন (F)। পটাসিয়াম গ্রুপ-। এর মৌল এবং একটি ক্ষার ধাতু। ফ্লোরিন গ্রুপ 17 এর মৌল এবং এটি একটি অধাতু। ধাতু একটি তড়িৎ ধনাত্মক এবং অধাতু তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল। ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তাই আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।
K(19) এর ইলেকট্রন বিন্যাস-
পটাসিয়ামের সর্ববহিঃস্থস্তরে একটি মাত্র ইলেকট্রন রয়েছে। পটাসিয়াম সহজেই এই ইলেকট্রনটি ত্যাগ করে Ar এর সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে। এর ফলে, পটাসিয়াম মৌল (K) পটাসিয়াম আয়নে ( K ^ + ) পরিণত হয়।
অপরদিকে ফ্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো 9।
F(9) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: ফ্লোরিনের ২য় শক্তিস্তরে রয়েছে টি ইলেকট্রন। সুতরাং ফ্লোরিন একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে ফ্লোরাইড (F-) আয়নে পরিণত হয়। পটাশিয়াম আয়ন ( ) এবং ফ্লোরাইড ( ) আয়ন পরস্পর স্থির-বৈদ্যুতিক আকর্ষণে যুক্ত হয়ে KF অণু গঠন করে। স্থির-বৈদ্যুতিক আকর্ষণে সৃষ্ট বন্ধনকে আয়নিক বন্ধন বলে।

উদ্দীপকের A মৌলটি অক্সিজেন এবং C মৌলটি হলো ক্লোরিন। উল্লিখিত মৌলদ্বয় দ্বি-পরমাণুক গ্যাস হিসেবে প্রকৃতিতে বিরাজ করে।
মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাস পর্যালোচনা করে তাদের অণুতে বন্ধন-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, অধাতুসমূহ তাদের নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ার করে (সমযোজী বন্ধন) অণু গঠন করে।
ক্লোরিন অণুর গঠন: Cl₂ অণুর মধ্যে দুটি CI পরমাণু থাকে। প্রত্যেকটি ক্লোরিন পরমাণুর সর্বশেষ শক্তি স্তরে 7টি করে ইলেকট্রন থাকে। ঐ দুটি CI পরমাণুর প্রত্যেকটি থেকে ।টি করে ইলেকট্রন এসে 1টি ইলেকট্রন পরমাণুই ঐ ইলেকট্রন জোড়কে সমভাবে ব্যবহার করে ইলেকট্রন জোড় বা একটি একক বন্ধন গঠন এভাবে উভয় ক্লোরিন লাভ করে।

অক্সিজেন অণুর গঠন: অক্সিজেন পরমাণুর শেষ স্তরে 6টি ইলেকট্রন আছে। অক্সিজেন অণু গঠনের সময় প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু, শেষ স্তরের 2টি করে ইলেকট্রন দিয়ে ২টি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে, যাকে দুটি O পরমাণুই সমভাবে ব্যবহার করে। ফলে প্রত্যেকটি পরমাণুই নিষ্ক্রিয় নিয়ন গ্যাসের কাঠামো লাভ করে। ২টি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে বলে দ্বি-বন্ধন দ্বারা অক্সিজেন পরমাণু দুটি পরস্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়।

অর্থাৎ, CI ও O এর মধ্যে অণু শুধু তার অণুতে দ্বিবন্ধন গঠন করে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!