সমাজের উৎপত্তি হয়েছে পরিবার থেকে।
পিতৃতান্ত্রিক পরিবার বলতে বোঝায় যে পরিবারে ক্ষমতা ও বংশ পরিচয় পিতা, স্বামী অর্থাৎ পুরুষ ব্যক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় তাকে।
পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে সকল দায়িত্ব পুরুষের ওপর ন্যস্ত থাকে বিধায় পরিবারের ভরণ-পোষণ সবকিছুর দায়িত্ব পুরুষ পালন করে। এ পরিবারের সন্তানেরা পিতা বা আদি পুরুষের পদবি গ্রহণ করে।
রাতুল পারিবারিক সংকটের শিকার। পারিবারিক সংকটে পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেসব পরিবারে বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদের কারণে ভাঙন হয় সেসব পরিবারের সন্তানেরা বাবা-মার আক্রমণাত্মক ও মারমুখী আচরণ অনুসরণ করে আক্রমণাত্মক, মারমুখী, অবিশ্বাসী ও অনির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
পারিবারিক ভাঙনের ক্ষতির প্রভাব দেখা যায় রাতুলের জীবনে। মা- বাবার বিচ্ছেদের কারণে সে বিষণ্ণ থাকে। প্রায়ই সে স্কুল থেকে পালিয়ে আসে। বার্ষিক পরীক্ষায় তার ফলাফল খুবই খারাপ হয়েছে।
এসব কিছুর পিছনে দায়ী তার বাবা-মার বিচ্ছেদ। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে শিশু যদি বাবা অথবা মা যেকোনো একজনের কাছে থাকে তবে বাবা অথবা মাকে হারানোর ভয়ে সে-শঙ্কিত হয়। শিশুরা অনেক সময় স্কুলের বন্ধু বান্ধবদের ঠাট্টা মসকরা এড়ানোর জন্য ঘরকুনো ও অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। পরিবার ভাঙনে কিশোরেরা হতাশাগ্রস্ত হয়। তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা যায়। যেমন- স্কুল পালানো, চুরি করা, মারামারি করা ইত্যাদি বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে পারিবারিক ভাঙন রোধ করা সম্ভব বলে। আমি মনে করি।
পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সুখ-দুঃখ এবং কাজগুলো সবার মধ্যে ভাগ করে নিলে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি বাড়ে ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরিবারের বন্ধন অটুট রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাবা-মা এবং সন্তানদের কর্তব্য।
ছেলেমেয়েরা তাদের জীবনের চলার পথে যেসব সমস্যায় পড়ে সেগুলো যদি পিতামাতা সমাধান করে সিদ্ধান্ত দেন তবে ছেলেমেয়েরা বাবা-মার ওপর আস্থাশীল হয়। এতে ছেলেমেয়েরা তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পায় এবং পিতামাতার সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ে না। পরিবারে শুধুমাত্র বড়দের নয় ছোটদেরও দায়িত্ব থাকে পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখা।
পরিবারের সদস্যদের উদারতা পারিবারিক বন্ধনের ক্ষেত্রে জরুরি। ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার চেয়ে পরিবারের শান্তি বজায় রাখার প্রতি সকলের মনোযোগী হতে হবে। পরিবারের সদস্যদের স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। অর্থনৈতিক সংকট পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার বড় বাধা। পরিবারের সকল সদস্য যদি নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু কাজ করে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে তবে পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় না। সুতরাং পরিবারের সকল সদস্যদের যথাযথ ভূমিকা পারিবারিক ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!