কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অথবা হাট-বাজারের গ্রোথ সেন্টারে যে সভা করে তাকে কৃষক সভা বলে।
ফসল চাষাবাদে মৌসুম শুরুর আগে অথবা মাঝে কৃষক সভা ও উঠোন বৈঠক করা হয়।
কৃষক সভা ও উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়। কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান বাড়ে এবং কাজে স্পৃহাও বাড়ে। এছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক কৃষক সভার মাধ্যমে সমস্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষক সভা ও উঠোন বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস আইপিএম বা সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
যে বিদ্যালয়ে কৃষকরা কৃষির তথ্য পায় তাই কৃষক বিদ্যালয়। আইপিএম কৃষক বিদ্যালয়ে আধুনিকভাবে ও বিভিন্ন বিশেষ ব্যবস্থার সমন্বয়ে বালাই নাশের তথ্য ও শিক্ষা প্রদান করা হয়। এখানে কৃষকদের উপকারী ও অপকারী পোকা চেনানো হয়। পোকা দমনের জন্য এখানে হাতজাল, ফেরোমন ফাঁদ, ডিম নষ্ট করার পদ্ধতি ইত্যাদি শেখানো হয়। এসব জ্ঞানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতেই কৃষি অফিস এ বিদ্যালয় স্থাপন করেছে। এই বিদ্যালয় স্থাপনের জন্যে যেসব ধাপ অনুসরণ করা হয় সেগুলো হলো- গ্রাম শনাক্তকরণ, গ্রামের অবস্থা পর্যালোচনা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, কৃষক নির্বাচন, পরিকল্পনা সভা আয়োজন এবং কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনার সময় নির্ধারণ ইত্যাদি। মাঠের কোণায়, বাড়ির উঠোনে, ক্লাব ঘরকে কৃষক মাঠ বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত মাঠের কোণায় কৃষক মাঠ বিদ্যালয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
মূলত কৃষকদের হাতে-কলমে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্যে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস কৃষক বিদ্যালয় স্থাপন করেছে।
কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গৃহীত পদক্ষেপ ছিল সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা।
বোরো ধানের জমিতে সার ও পানির ব্যবহার বেশি করার কারণে গাছ দ্রুত বেড়ে উঠে এবং এ সময়ে রোগ-পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। তাই উচ্চ ফলন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে রোগ-পোকা দমনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। যদি পোকা দমন না করা হয় তাহলে ফলন ১৩ শতাংশ নষ্ট হতে পারে।
সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থায় কোনো একক দমন পদ্ধতি ব্যবহার না করে জৈবিক দমন, যান্ত্রিক দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, বালাই সহনশীল জাতের ব্যবহার এবং রাসায়নিক দমন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়। ফলে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে, পরিবেশের জৈবিক ভারসাম্য রক্ষিত হয়, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পায়। এছাড়া ফসলের উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শস্য মুক্ত থাকায় জনস্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু পোকাগুলোর রাসায়নিক দমন পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব ফসলের মধ্যে থেকে যেতে পারে, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তাই বলা যায়, কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গৃহীত পদক্ষেপ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!