যাকাত আরবি শব্দ। 'যাকাত الزو শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিশুদ্ধি।
'নিসাব' অর্থ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণ।
নিসাবের পরিমাণ হলো- সোনা কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা, অথবা রূপা কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন তোলা অথবা ঐ মূল্যের অর্থ বা সম্পদ। ঐ পরিমাণ সম্পদ কারও নিকট পূর্ণ এক বছরকাল থাকলে ঐ সোনা, রূপা বা সম্পদের মূল্যের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে দেওয়া ফরজ।
মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয়, না করায় লোকমান সাহেবের পুনর্বাসন কাজে আর্থিক সহায়তায় যাকাত আদায় হয়নি।
মাসারিফ আরবি শব্দ। এর অর্থ ব্যয় করার খাত। শরিয়তের পরিভাষায় ইসলামি বিধান অনুযায়ী যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, তাদেরকে বলা হয় যাকাতের মাসারিফ। যাকাতের মাসারিফ অর্থাৎ কোন কোন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করতে হবে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কুরআন মজিদে বলা হয়েছে- "যাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য। আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য, ইহা আল্লাহর বিধান।" (সূরা আত-তাওবা: ৬০) এছাড়া নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে ৪০ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা ২.৫ ভাগ হারে হিসাব করে যাকাত প্রদান করতে হবে।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চল সাইক্লোন সিডরে আক্রান্ত হলে লোকমান সাহেব ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজে প্রচুর টাকাপয়সা ব্যয় করেন। তার এ ব্যয় নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার এবং এর দ্বারা তিনি সওয়াবও হাসিল করেছেন। কিন্তু তার এ দান যাকাত হিসেবে পরিগণিত হবে না। কারণ যাকাত দিতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্ধারিত নিয়মে এবং নির্ধারিত ব্যক্তিদের। লোকমান সাহেব তা করেননি। অতএব, লোকমান সাহেবের যাকাত আদায় হয়নি।
ধনী তার অর্থসম্পদ হতে একটি অংশ গরিবকে প্রদান করবে। কারণ, এটি তাদের অধিকার।
যারা জীবন সংগ্রামে ব্যর্থতার সম্মুখীন, দারিদ্র্যের কশাঘাতে যাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত, যারা বিপদগ্রস্ত তাদের অধিকার রয়েছে প্রতিটি ধনী মুসলমানের ধনসম্পদে। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, "তাদের (ধনীদের) ধনসম্পদে অবশ্যই দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।" এ আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়। যে, যাকাত কিংবা দান-খয়রাত ধনীদের অনুগ্রহ নয় বরং দরিদ্রের অধিকার। সুতরাং যার ওপর যাকাত ফরজ তা যদি কেউ স্বেচ্ছায় আদায় না করে তবে ইসলামি সরকারের পক্ষে তার কাছ থেকে জোর খাটিয়ে তা আদায় করা জায়েয। কেউ যদি সম্পদ জমা রাখে, প্রাপকের হক (অধিকার) যথাযথভাবে আদায় না করে, তবে তাকে কঠোর আযাব ভোগ করতে হবে। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, দরিদ্রকে দান করলে ধনসম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ খুশি হন।
অনুচ্ছেদটি পাঠে আমরা জানতে পারি যে, লোকমান সাহেব যথাসময়ে যাকাত আদায় করেননি। তিনি দুবার করে তার প্রতিবেশীকে যাকাত প্রদান না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার এ কর্মকান্ডের প্রতিবাদে তার বাবা উল্লিখিত আয়াতাংশ বর্ণনা করেন।
অতএব, আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করে পরকালে শান্তি পেতে হলে অসহায় দরিদ্রের হক যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। তাদের বিপদে-আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সুতরাং উল্লিখিত আয়াতাংশ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View Allহজে মহিলাদের চুলের অগ্রভাগের কিছুটা কাটলেই চলে।
নামাজের উদ্দেশ্যে যেমন তাহরিমা বাঁধতে হয়, হজের জন্যও তেমনি ইহরাম বাঁধতে হয়। সালাতে তাকবিরে তাহরিমার পর যেমন সকল দুনিয়াবি চিন্তা বন্ধ হয়ে যায় তদ্রুপ ইহরাম বাঁধার পর দুনিয়ার বৈধ কাজ অবৈধ হয়ে যায়। শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত যেকোনো দিন ইহরাম বাঁধা যায়। এ সময় ছাড়া অন্য সময় ইহরাম বাঁধলে হবে না।
আমিরুল সাহেবের কাজটিতে আকিকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
'আকিকা' আরবি শব্দ। এর অর্থ ভাঙা, কেটে ফেলা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিনে তার কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর নামে কোনো হালাল গৃহপালিত পশু জবাই করাকে আকিকা বলা হয়। আকিকা করা সুন্নাত। এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। সন্তানের বিপদাপদ দূর হয়। কাজেই প্রত্যেক পিতামাতার উচিত নবজাত সন্তানের যথাসময়ে আকিকা করা। হাদিসে আছে, "প্রতিটি নবজাত সন্তান আকিকার সাথে সম্পৃক্ত তার জন্মের সপ্তম দিনে তার নামে পশু জবাই করতে হবে। তার নাম রাখা হবে, তার মাথার চুল মুন্ডন করা হবে।" (নাসায়ি)
উদ্দীপকের আমিরুল সাহেব পুত্র সুহানের জন্মের সপ্তম দিনে দুটি ছাগল জবাই করেছেন। যাকে ইসলামি শরিয়তে আকিকা বলে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, 'ছেলে সন্তানের জন্য-দুটি ছাগল ও মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল জবেহ করাই যথেষ্ট।' (নাসায়ি)
খাইরুল সাহেবের কাজটিতে কুরবানি পালিত হয়েছে। আর এতে মানবজাতির জন্য ত্যাগের শিক্ষা রয়েছে।
কুরবানির সমার্থক শব্দ 'উযহিয়্যাহ'। এর আভিধানিক অর্থ ত্যাগ, উৎসর্গ ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যে পশু জবাই করা হয় তাকে কুরবানি বলে। কুরবানি আল্লাহর নবি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অতুলনীয় ত্যাগের স্মৃতি বহন করে। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ ঘোষণা করেন যে, তাদের কাছে নিজ জানমাল অপেক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল্য অনেক বেশি।
প্রদত্ত উদ্দীপকে ইমাম সাহেব বলেন, কুরবানিতে আমাদের জন্য ত্যাগের শিক্ষা রয়েছে। কেননা কুরবানি বলতে শুধু গরু, ছাগল, মহিষ, দুম্বা ইত্যাদি জবাই করা বোঝায় না। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন বোঝায়।
সুতরাং কুরবানির ত্যাগের শিক্ষা আমাদেরকে পরোপকারে উৎসাহিত করবে ও মানবতাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটাবে। যা ইমাম সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) নবি হওয়ার পর নিজের আকিকা নিজেই করেছিলেন।
যাকাতের মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বিরাজমান বৈষম্য দূর হয়। আল্লাহর নির্দেশমতো যথাযথভাবে যাকাত প্রদান করলে সমাজের কোনো লোক অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গৃহহীন থাকবে না। কেউ বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে না। সম্পদশালী ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যাকাত ও সদকার অর্থে অভাবীদের প্রয়োজন মিটিয়েও অনেক জনহিতকর এবং কল্যাণমূলক কাজ করা যায়। বহু দরিদ্র ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। যারা কর্মক্ষম তাদের উপযোগী বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!