বাংলাদেশের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বাংলা জনগোষ্ঠী। তাই জনমানুষের আকারে, অবয়বে, চেহারায় যেমন বৈচিত্র্য তেমনি নানা ভাষাজাতির সহাবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য দেখা যায়।
ইসলাম এদেশে আসে সুফিসাধকদের মাধ্যমে। মধ্যযুগে তুরস্ক, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়া থেকে আগত মানুষের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম সমাজের প্রসার ঘটেছে। দীর্ঘকালের পরিক্রমায় এদেশে বিশাল এক মুসলিম জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
সবধর্মের মূল শিক্ষা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। ধর্মীয় রীতিনীতি আচার-অনুষ্ঠান পালনে পার্থক্য থাকলেও সব ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলে।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো বড়দিন। যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে বড়দিন পালন করা হয়।
হাজার বছর ধরে নানা জাতির মানুষ বাংলাদেশে এসেছে। তাদের ভাষার প্রভাব পড়েছে বাংলা ভাষায়। এভাবেই অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, সংস্কৃতি, পালি, আরবি, ফার্সি, পর্তুগিজসহ অনেক বিদেশি ভাষার মিশ্রণ ঘটে বাংলা ভাষায়।
মানুষ যা করে, যা ভাবে, যা কিছু সে ব্যবহার করে এমন সকল কিছুই তার সংস্কৃতি। কাজেই গ্রামের মানুষ যে নানা ধরনের পেশার সাথে যুক্ত থাকে, ফলে সে যে আচরণ করে, যা সৃষ্টি করে বা যে ভূমিকা রাখে তার একত্রিত রূপই গ্রামীণ সংস্কৃতি।
গ্রামের সফল মানুষ একে অন্যের খবর রাখে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একত্রিত হয়। একারণে গ্রামীণ জীবনে সামাজিক বন্ধন বেশ অটুট।
গ্রামীণ জীবন প্রণালি প্রধানত কৃষির সাথে সম্পর্কিত। যাদের নিজের জমি আছে, জমির উৎপাদিত ফসলে তারা জীবন নির্বাহ করে। আবার, যাদের জমি নেই তারা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবনযাপন করে।
যেসব পেশাজীবী গ্রামে বাস করে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঝি, দর্জি, কবিরাজ, ডাক্তার, ওঝা, বৈদ্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম এবং পুরোহিত প্রভৃতি।
অঞ্চলভেদে গ্রামের মানুষ 'মাটির ঘর, বাঁশ, কাঠ ও ছনের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করত। তবে এখন এসব ঘরের পাশাপাশি টিনের দোচালা, চৌচালা এবং ইটের দালানও তৈরি হচ্ছে।
মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা। এছাড়া শবেবরাত, ঈদ-এ-মিলাদুন্নবি এবং ওয়াজ মাহফিলেও কিছুটা উৎসবের আমেজ থাকে।
হিন্দু ধর্মের মানুষ নানা পূজা উৎসব উদযাপন করে। যেমন-দুর্গা পূজা, লক্ষ্মী পূজা, কালী পূজা, সরস্বতী পূজা, দোল পূর্ণিমা, রাস ও রথযাত্রা উৎসব ইত্যাদি।
গ্রামীণ মানুষের মতো ভাত, মাছ, মাংস খেলেও শহুরে মানুষের খাবারে ভিন্নতা রয়েছে। শহরের অনেকেই ফাস্ট ফুডের দোকানে যায়। তাদের অনেকের কাছেই স্যান্ডউইচ, বার্গার ইত্যাদি প্রিয়।
যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ যে সংস্কৃতি লালন করে আসছে সাধারণ অর্থে তাই লোকসংস্কৃতি। লোক-সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।
সাধারণত মানুষের মুখে মুখে, তাদের চিন্তায় ও কর্মে লোকসংস্কৃতির জন্ম হয়। হাজার বছর ধরে এই সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সময়ের সাথে সাথে একটু একটু পরিবর্তন হয়ে নতুন রূপ লাভ করে।
লোকসংস্কৃতির যেসব উপাদান ধরা যায় ছোঁয়া যায়, তা বস্তুগত উপাদান। যেমন- লোকশিল্প, তাঁতশিল্প, শাখা বা শঙ্খশিল্প, কাঁসাশিল্প, মৃৎশিল্প, নকশিকাঁথা, বেতশিল্প ইত্যাদি। এসব ছাড়া রয়েছে লোকতৈজসপত্র, লোকবাদ্য, লোকঅলংকার ইত্যাদি লোকসংস্কৃতির বস্তুগত. উপাদান।
লোকসংস্কৃতির যেসব উপাদান ধরা বা ছোঁয়া যায় না অর্থাৎ মানুষের চিন্তা থেকে জন্ম নেয় এবং মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তাকে লোকসংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদান বলা হয়। অবস্তুগত উপাদানের প্রধান বিষয়টিই হচ্ছে সাহিত্য। এসব সাহিত্যের লিখিত রূপ নেই। মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে আছে। যেমন- লোককাহিনি বা কিসসা, 'লোকগীতি, লোকচিকিৎসা, লোকসংগীত, প্রবাদ-প্রবচন, খনার বচন, ছেলে ভুলানো ছড়া, ধাঁধা, লোকনাটক ইত্যাদি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব হলো বৈসাবি। মূলত বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে বৈসাবি পালন করে।
বাংলাদেশের প্রায় সকল ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মতো মনিপুরিরাও নাচ গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। মনিপুরিরা রাধা-কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে কীর্তন ও নাচের যে আয়োজন করে তাকে 'গোপী নাচ' বলা হয়।
ঔপনিবেশিক শক্তির সংস্পর্শে আসার ফলে এবং আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের আওতাভুক্ত হয়ে যাওয়ায় ভিন্ন নৃগোষ্ঠীগুলো প্রভাবিত হয়। আধুনিক সভ্যতার ধর্ম, বিশ্বাস, রীতিনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি তাদেরকে বিভিন্ন নতুন ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
চাকমা পুরুষদের প্রধান পোশাক লুঙ্গি ও শার্ট। মেয়েরা সাধারণত নিচের অংশে লাল ও কালো রঙের পোশাক পরে থাকে। এর নাম 'পিনোন'। উপরের অংশে তারা একধরনের ব্লাউজ পরে।
কোনো কোনো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বিশ্বাস করে একটি নির্দিষ্ট প্রাণী হচ্ছে তাদের গোত্রের প্রতীক। এই বিশ্বাসকে টোটেম বলে। সাধারণত যেকোনো নৃগোষ্ঠীর মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ টোটেম খাওয়া নিষিদ্ধ।
নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়গুলো অধিকাংশ বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এ ছাড়াও বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, কক্সবাজার ও পটুয়াখালী অঞ্চলেও এদের বসবাস রয়েছে।
বাংলাদেশে গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রভাব বেশি।
মানুষ যা করে, যা ভাবে এমন সবকিছুই তার সংস্কৃতি।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে, বিভিন্নতা বিদ্যমান তাই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ যে সংস্কৃতি লালন করে আসছে সাধারণ অর্থে তাই লোকসংস্কৃতি।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান ভাষা হলো বাংলা।
সুফিসাধকরা এদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার করে।
মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের নাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।
বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে।
খ্রিস্টানদের বড় উৎসবের নাম বড় দিন।
হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নৃত্যের স্থান রয়েছে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।
এক সময় বাংলাদেশকে একটি বড় গ্রাম বলা হতো।
গ্রামীণ জীবন প্রধানত কৃষির সাথে জড়িত।
মাছে-ভাতে বাঙালি' কথাটা কিছুকাল আগেও গ্রামের মানুষের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
প্রাচীনকালে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান উৎস ছিল কৃষিকাজ।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত।
গ্রামে নানা ধরনের পিঠাপুলি তৈরি হয়।
গ্রামীণ সমাজের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ব্যবস্থা ছিল গরুর গাড়ি ও নৌকা।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী।
বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের পর হিন্দু ধর্মের মানুষের অবস্থান।
লোকসংস্কৃতি হাজার বছরে ধরে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
লোকসংস্কৃতির উপাদান দুই ধরনের হতে পারে।
রথযাত্রা উৎসব হিন্দু সমাজের লোকেরা পালন করে।
বড় বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে শহরাঞ্চলে।
শহরে জাঁকজমকের সাথে পালন করা হয় পহেলা বৈশাখ ও পহেলা ফাল্গুন।
বাংলাদেশে লোকসংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয়েছে গ্রামীণ কৃষিজীবী সমাজ হতে।
প্রবাদ-প্রবচন লোকসংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদান।
খাসিয়া ও মণিপুরিরা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বাস করে
বাংলাদেশের কৃষি প্রকৃতির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল।
মণিপুরি নৃগোষ্ঠী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
মণিপুরিদের সবচেয়ে প্রিয় নাচ হলো গোপী নাচ।
মারমা ও রাখাইনরা জল উৎসব পালন করে।
খিয়াংরা নবজাতক সন্তান ছোঁয়ার আগে আগুনে হাত গরম করে নেয়।
গারো ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের ছোট মেয়েরা সমুদয় সম্পত্তি লাভ করে।
মারমা নারীদের পোশাকের নাম থামি।
মানুষ মারা গেলেও আত্মা অমর' এ ধারণা থেকে ভূত থাকার ব্যাপারে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময়তার অন্যতম কারণ হলো- ধর্ম, সংস্কৃতি, জলবায়ু ও ভৌগোলিক কাঠামো। বিভিন্ন কারণে বাংলার সংস্কৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ, নানা ভাষা জাতির আগমন, প্রচুর নদী ও জলাভূমি, মূলত বাংলার সংস্কৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যেসব সাংস্কৃতিক বিষয় ধরা বা ছোঁয়া যায় না অর্থাৎ মানুষের চিন্তা থেকে জন্ম নেয় এবং মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তাকে লোকসংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদান বলা হয়। অবস্তুগত উপাদানের প্রধান বিষয়টিই হচ্ছে সাহিত্য। এসব সাহিত্যের লিখিত রূপ নেই। মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে আছে। যেমন- লোককাহিনী বা কিসসা, লোকগীতি, লোকচিকিৎসা, লোকক্রীড়া, ছড়া, ধাঁধা, লোকনাটক ইত্যাদি।
পৃথিবীর প্রত্যেক জাতির ও দেশের সংস্কৃতির নিজস্ব একটা ধরন রয়েছে। তেমনি বাঙালির সংস্কৃতিরও নিজস্ব ধরন রয়েছে। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলে বাংলার জনমানুষের আকারে, অবয়বে, চেহারায় এত বৈচিত্র্য। তেমনি নানা ভাষাজাতির আগমনে সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। তবে পল্লি ও কৃষিপ্রধান এদেশে গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতির প্রভাবই বেশি। প্রচুর নদী ও জলাভূমি এ দেশকে জালের মতো ঘিরে আছে বলে এদেশের মানুষের সংস্কৃতি নদীকেন্দ্রিক ও ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পাশাপাশি চলতে গিয়ে এক সংস্কৃতি আরেক সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে। এভাবে বিভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিশ্রণ ঘটে থাকে। এই মিশ্রণ ঘটে ভাষা, খাবারদাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, নানা উৎসব-অনুষ্ঠান এমনকি ধর্ম পালনে। এভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতেও নানা ধর্ম-সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটেছে।
মানবিক মূল্যবোধে সব ধর্মের, সব ভাষার, সব পেশার, সব দেশের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতিতে বাস করতে পারে। এটা সকল ধর্মের মৌলিক শিক্ষা। অবশ্য বাংলার সাধারণ মানুষ আজীবন সেই জীবনসাধনাই করেছে।
বাংলাদেশের মাটি খুব উর্বর। এ উর্বর ভূমিতে সহজেই চাষাবাদ করে ফসল ফলানো যেত। সে সময় প্রচুর পরিমাণে ফসল উৎপাদিত হওয়ায় কৃষক সমাজের জীবনযাত্রাও ছিল সমৃদ্ধ। তাই কৃষিকাজই বাংলার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল।
খাদ্য যেকোনো সংস্কৃতির অন্যতম একটি বিষয়। খাদ্যের দিক থেকেও বাঙালি সংস্কৃতি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বহন করছে। মাছ-ভাতই বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান খাবার। পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল খাবারেও বাঙালি অভ্যস্ত। একটি ছড়ায় এমন আছে- ভাত আর ডাল খেতে খুব ভালো লাগে, লাল শাক পাতে তুলে দাও তার আগে।
মানুষ পৃথিবীর যে অঞ্চলেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন তার পক্ষে সেখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ুকে উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এসবই তার কাছে নিজের পরিবারের মতো। এ প্রকৃতিই তাকে শিক্ষা দেয় কীভাবে জীবনে সংগ্রাম করতে হবে, কীভাবে জীবন চালাতে হবে। এ প্রকৃতিও পরিবেশ, জলবায়ু, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে এভাবে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য দান করে থাকে। এজন্য মানুষ এগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!