জীবের সব অদৃশ্য ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককই হলো জিন।
বিভিন্ন জৈবিক নমুনা থেকে ডিএনএ (DNA) সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ পূর্বক বিশেষ কোনো কাজে ব্যবহারের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিকে বলা হয় ডিএনএ (DNA) টেস্ট। সঠিকভাবে অপরাধী শনাক্তকরণের জন্য DNA টেস্ট করা হয়। এছাড়া বংশগত রোগের চিকিৎসায়, অনাকাঙ্খিত সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্যও DNA টেস্ট করা হয়। এসকল ক্ষেত্রে DNA টেস্ট সঠিক ফলাফল প্রদান করে থাকে।
ঘটনা-১ এ উল্লেখ করা হয়েছে "একটি মাছ প্রচুর সংখ্যক ডিম দিলেও দিন দিন নদীতে মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।" একে বিবর্তনতত্ত্বের ভিত্তিতে ডারউইনের যোগ্যতমের টিকে থাকা মতবাদের আলোকে ব্যাখ্যা করা যায়। বর্তমানে নদীর পরিবেশ তথা পানি দূষণ, পর্যাপ্ত খাদ্যের ও অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদির কারণে ডিম থেকে বের হওয়া ছোট্ট মাছগুলোর সবাই প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না। কেবল প্রতিযোগিতায় যারা টিকে থাকে তারাই শুধুমাত্র প্রতিকূল নদীর পানিতে বেঁচে থাকে। এ কারণে একটি মাছ প্রচুর সংখ্যক ডিম দেওয়া সত্ত্বেও নদীতে কেবল টিকে থাকে অল্পসংখ্যক মাছ। এটি মূলত ডারউইনের যোগ্যতমের টিকে থাকা তত্ত্বকে সমর্থন করে।
জেলেদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ড হতে নিঝুম দ্বীপে স্থানান্তরিত কুকুরগুলো নতুন পরিবেশ ও প্রতিবেশে স্থান পেয়েছে। নতুন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটাই স্বাভাবিক। খাদ্য, বাসস্থান, শত্রুর ও পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার জন্য তাদের মধ্যে পরিবর্তন তথা বিবর্তন ক্রমাগত ঘটেই চলেছে। খাদ্য বা বাসস্থানের জন্য তাদের লড়াই, এমনকি স্থানীয় কুকুরদের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং তাদের উপর প্রভাব বিস্তার, এসকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে তারা ধীরে ধীরে হিংস্র স্বভাবের হয়ে ওঠেছে। অর্থাৎ জৈব বিবর্তনের তত্ত্বানুযায়ী নিঝুম দ্বীপে স্থানান্তরিত কুকুরগুলো মূল ভূ-খণ্ডের কুকুরগুলোর তুলনায় ধীরে ধীরে অনেক বেশি হিংস্র প্রকৃতির হয়ে উঠছে।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে বিশেষ শাখায় সকল প্রকার জীবের বংশগতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তাই এক কথায় বলা বংশগতিবিদ্যা।
যে প্রক্রিয়ায় একটি অণু (DNA) থেকে অনুরূপ দুটি নতুন অণুর (DNA) সৃষ্টি হয় তাকে অনুলিপন (DNA) অনুলিপন বলে। এই প্রক্রিয়াটি DNA অণুর সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন DNA অণু তৈরি করে।
সিফাতের বড় কন্যাটি যেহেতু দেখতে হুবহু বাবার মত সেহেতু তার এ চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি বাবার কাছ থেকেই এসেছে এবং মায়ের চেহারার জন্য দায়ী জিনটি তার 'দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় আছে। অর্থাৎ মায়ের ঐ জিনটি তার দেহে প্রচ্ছন্ন জিন।
আবার, ছোট কন্যাটির চুল ও গায়ের রং বাবার মত। অর্থাৎ চুল ও গায়ের রং এর জন্য দায়ী প্রকট জিনগুলো সে বাবার কাছ থেকে পেয়েছে। কিন্তু তার চেহারা মায়ের মতো হওয়ায় চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি সে মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। মা বাবার অন্যান্য যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়নি সেগুলোর জন্য দায়ী জিন তার দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সুতরাং সিফাতের সন্তানদের ক্ষেত্রে এরূপ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতার কারণ হলো প্রকট জিন। প্রকট জিনই যে কোন জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ায় সে তার স্ত্রীর উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ, স্ত্রী লোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স কোমোসোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X, অপরটি Y ক্রোমোসোম অর্থাৎ XY। মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কন্যা বা পুত্র সন্তানের জন্ম হবার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মা সবসময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অপরদিকে পিতা X এবং Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপাদন করে। গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ। যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যভাবে নিষেক ঘটাবে তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায় তা হলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোট হবে XY এবং সন্তান হবে পুত্র। উপরের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য তার স্ত্রী কোনভাবেই দায়ী নয়, বরং কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য সিফাতই দায়ী। সুতরাং স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হওয়া সিফাতের অনুচিৎ এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই লোকাস।
পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই ভিন্ন পরিবেশে জীবগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে আছে। বিভিন্ন পরিবেশে বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবের নিজেকে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকাই হলো অভিযোজন। অভিযোজন জীবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
