কোনো পরমাণুতে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি বিকিরণ করে যা আলোকশক্তি রূপে তথা বর্ণালী রূপে প্রকাশ পায়।
যে উপশক্তিস্তরের শক্তির মান কম ইলেকট্রন আগে ঐ উপস্তরে প্রবেশ করবে। 4s অরবিটালের জন্য n = 4 , l = 0 এবং ( n + l )=4 এবং 3d অরবিটালের জন্য, n = 3 l = 2 এবং (n + l) = 5
আমরা জানি, যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম তার শক্তি কম এবং ইলেকট্রন আগে সেখানে প্রবেশ করে। যেহেতু 4s অরবিটালের শক্তি 3d অরবিটালের চেয়ে কম, ভাই পটাসিয়ামের 19তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে 4s অরবিটালে যায়।
উদ্দীপকের ৪ ইলেকট্রন বিশিষ্ট মৌলটি হলো অক্সিজেন। এক্ষেত্রে অক্সিজেন মৌলটির আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নির্ণয় করতে হবে। কার্বন-12 আইসোটোপ (12C) এর একটির পরমাণুর ভরকে 12 একক ধরে অন্যান্য মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নির্ণয় করা হয়।
আমরা জানি, আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হলো-
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভর কার্বন-12 আইসোটোপের ভরের অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী, সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলা হয়।
অর্থাৎ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = মৌলের ১টি পরমাণুর ভর / কার্বন-12 এর ১টি পরমাণুর ভর
অক্সিজেনের ১টি পরমাণুর ভর-
= 8p + 9n
তাহলে অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = অক্সিজেন ১টি পরমাণুর ভর 12 / কার্বন -12 এর ১টি পরমাণুর ভর
=
= 17.126
উদ্দীপকের মডেলটি হলো বোরের পরমাণু মডেল। বোরের পরমাণু মডেলের সাথে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের তুলনা নিম্নে তুলে ধরা হলো -
| রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল | বোরের পরমাণু মডেল | |
| i | রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সাধারণ বলবিজ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত। | বোরের পরমাণু মডেলের মূল ভিত্তি হলো প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম মতবাদ। |
| ii | রাদারফোর্ডের পরমাণুর মডেল অনুযায়ী, পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে যেকোনো ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো আবর্তন করতে পারে। | বোরের পরমাণু মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রনগুলি ইচ্ছামতো যেকোনো ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন করার পরিবর্তে, কতকগুলি নির্দিষ্ট ও সুস্থিত শক্তিস্তরে আবর্তন করে। |
| iii | তড়িৎ গতিবিদ্যা অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারদিকে আবর্তনশীল ইলেকট্রন ক্রমশ শক্তি বর্জন করবে। ফলে ইলেকট্রনটি ক্রমহ্রাসমান ব্যাসার্ধের কুন্ডলী পথে আবর্তন করতে করতে নিউক্লিয়াসের উপর গিয়ে পড়বে। সুতরাং রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল দ্বারা পরমাণুর সুস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। | বোরের পরমাণু মডেল অনুযায়ী নির্দিষ্ট শক্তি সম্পন্ন স্থায়ী কক্ষপথে ঘূর্ণনের সময় ইলেকট্রনগুলি কোনো শক্তি বিকিরণ করে না। সুতরাং, শক্তি হারিয়ে ইলেকট্রনের নিউক্লিয়াসে গিয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অর্থাৎ এই মডেল পরমাণুর সুস্থিতি ব্যাখ্যা করতে সামর্থ্য হয়। |
| iv | এই মডেল অনুসারে, পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রনের নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণের ফলে নিরবিচ্ছিন্ন পারমাণবিক বর্ণালী পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমন নিরবিচ্ছিন্ন রেখা বর্ণালী পাওয়া যায় না। রাদারফোর্ডের মডেল দ্বারা পরমাণুর রেখা বর্ণালীর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায় না। | এই মডেলের স্বীকার্য অনুযায়ী; উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কক্ষ থেকে নিম্ন শক্তিসম্পন্ন কক্ষে ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ফলে শক্তি নির্গত হয়। দুটি কক্ষপথের শক্তির পার্থক্য নির্দিষ্ট। তাই নির্গত শক্তির কম্পাঙ্কও নির্দিষ্ট এবং এর ফলে পরমাণুর রেখা বর্ণালীর সৃষ্টি হয়। সুতরাং, বোরের তত্ত্ব দ্বারা পরমাণুর রেখা বর্ণালীর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায়। |
| v | এই মডেলের সাহায্যে কক্ষপথের ব্যাসার্ধ, ইলেকট্রনের গতিবেগ, শক্তি ও বর্ণালীতে উৎপন্ন রেখার কম্পাঙ্ক নির্ণয় করা যায় না। | এই মডেলের সাহায্যে কক্ষপথের ব্যাসার্ধ, ইলেকট্রনের গতিবেগ, শক্তি এবং বর্ণালীতে উৎপন্ন রেখার কম্পাঙ্ক নির্ণয় করা যায়। |
Related Question
View Allকোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
এবং মৌল দুটির প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 29 ও 30 এবং ভরসংখ্যা যথাক্রমে 64 ও 64। অর্থাৎ নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই। নিউক্লিয়ন সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল। আমরা জানি, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা (A) – পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
সুতরাং এর নিউট্রন সংখ্যা = 64-29 = 35
এর নিউট্রন সংখ্যা = 64 - 30 = 34
যেহেতু, মৌল দুটির পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাই পরমাণু দুটির নিউক্লিয়ন সংখ্যা সমান হলেও, নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হবে।
ফরিদের আঁকা মডেলটি রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সমর্থন করে। মডেলটির স্বীকার্যসমূহ হলো-
i. পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে একটি ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী বস্তু বিদ্যমান। এই ভারী বস্তুকে পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস বলা হয়। পরমাণুর মোট আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াসের 'আয়তন অতি নগণ্য। নিউক্লিয়াসে পরমাণুর সমস্ত ধনাত্মক চার্জ ও প্রায় সমস্ত ভর কেন্দ্রীভূত।
ii. পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ। অতএব নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে পরিবেষ্টিত করে রাখে।
iii. সৌরজগতের সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান গ্রহসমূহের মতো পরমাণুর ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারদিকে অবিরাম ঘুরছে। ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ও ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ইলেকট্রনসমূহের পারস্পরিক স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্র বহির্মুখী বল পরস্পর সমান।

চিত্র: রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
উদ্দীপকে বিদ্যমান ফরিদের অঙ্কিত মডেল হল রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল। এটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইলেকট্রনগুলো সর্পিলাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিউক্লিয়াসে পতিত হচ্ছে, তাই অঙ্কিত মডেলটি একটি অস্থায়ী পরমাণু মডেল।
ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে কোন চার্জযুক্ত কণা কোনো বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকলে তা ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ করবে এবং তার আবর্তন কক্ষপথের ব্যাসার্ধ ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। সুতরাং ইলেকট্রনসমূহ ক্রমশ শক্তি হারাতে হারাতে নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করবে। ফলে মডেলটি অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুসারে পরমাণু স্থায়ী হবে না।
কোনো মৌলের পূর্ণ নামের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ মৌলের প্রতীক বলা হয়।
বর্ণালি হলো বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমাবেশ। বোর পরমাণু মডেল অনুসারে পরমাণুর মধ্যে কোনো ইলেকট্রন যখন একটি নিম্নতর কক্ষপথ থেকে উচ্চতর কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে। আবার যখন উচ্চতর শক্তিস্তর থেকে নিম্নতর শক্তিস্তরে স্থানান্তরিত হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে। বিকিরিত শক্তি আলোক শক্তিরূপে আমাদের চোখে ধরা পড়ে। এ আলোক শক্তিকে বর্ণালি হিসাবে পাওয়া যায়। এভাবে পরমাণুতে বর্ণালির সৃষ্টি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!