ইসলামি শিক্ষার মূল শিক্ষক হলেন নবি-রাসুলগণ।
ইসলামি শিক্ষা তাওহিদভিত্তিক। এ শিক্ষার মূলকথা হলো-
الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
তাওহিদে বিশ্বাস ব্যতীত কোনো ব্যক্তিই ইমান বা ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শই তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুনিয়াতে যত নবি-রাসুল এসেছেন সকলেই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। কারণ তাওহিদ হলো ইমানের মূল। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
ছকে উপরের সারিতে ইসলামি শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম সারিতে এ শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য তথা আল্লাহকে জানার কথা বলা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারলে তাকওয়া অর্জন করা সহজ হয়। আল্লাহকে ভয় করাকে বলা হয় তাকওয়া যা মুমিনদের জন্য অপরিহার্য। সে কারণে আল্লাহকে জানা ইসলামি শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
এ শিক্ষার অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহর প্রতি ইমান মজবুতকরণ। ইমান গ্রহণ, ইমানের বিভিন্ন বিষয় জানা এবং ইমান শক্তিশালী করার জন্য আমরা এ শিক্ষালাভ করি।
এ শিক্ষার আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মহানবি (স) বলেছেন- যে ব্যক্তি ইসলামি ইলম অর্জনের জন্য বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই থাকে। অর্থাৎ ইসলামি শিক্ষা অর্জনকারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এ. শিক্ষা অর্জন করে।
উল্লিখিত ছকের প্রথম সারিতে আমরা ইসলাম শিক্ষার এ উদ্দেশ্যগুলো দেখতে পাই। অর্থাৎ ইমান মজবুতকরণ, আল্লাহর পরিচয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই এ শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
ছকের নিচের সারিতে ইসলামি শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগত দিক ফুটে উঠেছে। এ সারিতে আমরা কয়েকটি উপশিরোনাম দেখতে পাই। তা হলো- চির প্রগতিশীল, নির্ভুল, সার্বজনীন, চরিত্র গঠনমূলক ও পূর্ণাঙ্গ। এগুলো ইসলামি শিক্ষার বৈশিষ্ট্য।
ইসলামি শিক্ষা চিরপ্রগতিশীল। এ শিক্ষা কোনো যুগ বা কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (স) যে কোনো সময় এবং যে কোনো উৎস থেকে জ্ঞানের কথা কুড়িয়ে নিতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। সে যেখানেই পাবে তা যেন সে কুড়িয়ে নেয়। কারণ সে তো এর হকদার। (তিরমিযি) ইসলামি শিক্ষার অন্য একটি বৈশিষ্ট্য হলো- তা নির্ভুল ও সন্দেহমুক্ত। এ শিক্ষার প্রধান উৎস কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
ذَالِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ
অর্থ: এটা সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। (সুরা বাকারা: ২)
ইসলামি শিক্ষার অপর একটি বৈশিষ্ট্য হলো- এ শিক্ষা সার্বজনীন। নারী-পুরুষ তথা সকল মানুষের জন্য এ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত।
মহানবি (স) বলেছেন, طَلَب العِلْمِ فَرِيضَة على كُلِّ مُسْلِم
অর্থ: ইসলামি জ্ঞান (ইলম) অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিম নর- নারীর ওপর ফরজ। (ইবনে মাজাহ) ইসলামি শিক্ষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এ শিক্ষা চরিত্র গঠনমূলক। এ শিক্ষার প্রধান শিক্ষক ও বাস্তবায়নকারী মহানবি (স)। তিনি এ শিক্ষার মাধ্যমে গোটা মুসলিম জাতির চরিত্র গঠনে নিরলস প্রয়াস চালিয়েছেন। ইসলামি শিক্ষা সকল বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ। এ শিক্ষায় ধর্মীয় বিষয়াবলি যেমন শিক্ষা দেওয়া হয়, তেমনি শিক্ষা দেওয়া হয় পার্থিব জগতের সকল বিষয়ে। এ শিক্ষার এ. দিকগুলোই ছকের দ্বিতীয় সারিতে ফুটে উঠেছে। এ শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে থেকে সকল বিষয়ের জ্ঞানার্জন করা সম্ভব।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!