উত্তরঃ

মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ-১৯৬১ কে একাধারে শিশুকল্যাণ, নারীকল্যাণ, নিরাপত্তামূলক সামাজিক আইন বলা হয়।

উত্তরঃ

সামাজিক আইন বর্তমান সমস্যা প্রতিকার এবং ভবিষ্যত সমস্যা প্রতিরোধে আইনগত ভিত্তি তৈরি করে। এর ফলে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূর হয়।

সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা ও অনাচার দীর্ঘদিন সমাজে বিদ্যমান ছিল। এসব সমস্যা প্রতিরোধে সমাজ সংস্কারকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে সামাজিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর প্রতিকার করা সম্ভব হয়। ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিরোধ আইন, বাল্যবিবাহ আইন-১৯২৯, যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ প্রভৃতি সামাজিক আইন এ সংশ্লিষ্ট সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

উত্তরঃ

ছকে উল্লিখিত প্রশ্নবোধক চিহ্নিত বক্সে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২ লিখলে ছকটি সম্পূর্ণ হবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সম্পর্কিত আইনটি মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রণীত হয়। এই আইনে মোট ১৫টি ধারা এবং কিছু উপধারা আছে। বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু নাগরিকদের জন্য এ আইন প্রযোজ্য। এ আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী হিন্দু নারী এবং ২১ বছরের কম বয়সী হিন্দু পুরুষের বিবাহকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সেইসাথে হিন্দু ধর্ম, রীতিনীতি এবং আচার অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হবার পর দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আবেদনের প্রেক্ষিতে নিবন্ধক কর্তৃক বিবাহ নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়। এছাড়াও নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধনের প্রতিলিপি সরবরাহেরও ব্যবস্থা রাখা হয়।

উদ্দীপকে ছকটির প্রশ্নবোধক স্থানে একটি সামাজিক আইনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আইনটির কতগুলো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো- নিবন্ধক নিয়োগ, বিবাহ নিবন্ধন ও প্রতিলিপি গ্রহণ, নিবন্ধিকরণ পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধক ফিস প্রভৃতি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ছকটিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনের ইঙ্গিত আছে।

উত্তরঃ

আইনটি অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২, যেদিন থেকে প্রণীত হয়েছে সেই দিন থেকে নয়, বরং পূর্ববর্তী দম্পতিরাও ছকে উল্লিখিত অধিকার ভোগ করতে পারবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২ এর বিবাহ নিবন্ধিকরণ পদ্ধতি অংশে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার অনুষ্ঠান অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হবার পর তার দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে যেকোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাহ নিবন্ধক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করবেন। তবে এ আইন কার্যকর হবার পূর্বে হিন্দু ধর্ম, রীতি নীতি ও আচার অনুষ্ঠান অনুযায়ী সম্পন্নকৃত বিয়ের যেকোনো পক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাহ নিবন্ধন করা যাবে। এমনকি, আইন কার্যকর হবার পূর্বে যাদের বিয়ে হয়েছে তারা এ আইনের অধীনে নিবন্ধিত না হলেও শাস্ত্র অনুযায়ী বিয়ের বৈধতা ক্ষুণ্ণ হবে না। সেইসাথে তারা বিবাহ নিবন্ধন প্রাপ্তি, প্রতিলিপি গ্রহণের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ফিস প্রদান, নিবন্ধকের মাধ্যমে প্রতিলিপি গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট জেলার রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধন প্রভৃতির সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে আইন কার্যকর হবার আগে বিয়ে সম্পন্ন করা কোনো বাধা হিসেবে কাজ করবে না।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, হিন্দু বিবাহ আইনের বিধান অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা আইনটি প্রণীত হবার পূর্বে অথবা পরে বিয়ে সম্পন্নকারী যেকোনো দম্পতি ভোগ করতে পারবেন।

61

Related Question

View All
উত্তরঃ

সামাজিক সমস্যা হলো এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

259
উত্তরঃ

পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।

556
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। তবে এ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই থানায় দাপাড় গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন যা উপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ঐ এলাকার একজন সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

187
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা, যেমন- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধান করা যায়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছে। আবার, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, কৌতূহল, হতাশা প্রভৃতির কারণে যুবকবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এতে সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সমস্যাগুলো দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সামাজিক আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসাথে সরকার প্রণীত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন, যা ওপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে এলাকায় কর্মরত সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সচেতনতা সৃষ্টি আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ আইন প্রণয়ন আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন। একইভাবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।

205
উত্তরঃ

১৯৮৩ সালের নারী নির্যাতন আইন নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- নারীর মানসিক নির্যাতনের শাস্তি এ আইনে নেই। এছাড়া যৌতুক আদায়ের জন্য যে অপরাধ করা হয় তা প্রতিরোধে যে আইনি বিধান রাখা হয়েছে তা কঠোর কিন্তু যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ আইনে নারী নির্যাতন প্রতিকারে শাস্তির বিধান করলেও বিবাহ ভাঙনজনিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া নির্যাতিত নারীসমাজের এক বিরাট অংশই এ আইনের আলো থেকে বঞ্চিত। এর কার্যকারিতার অভাবে দেশে নারী নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

448
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews