Summary
নারী অধিকারের ধারণা
মানব সমাজে নারীর অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। নারীদের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষার, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নারীর অবস্থান
বাংলাদেশে নারীরা পুরুষের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এবং বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এখনও অনেক পরিবার কন্যাসন্তানকে বোঝা হিসেবে দেখেন। তবে বর্তমানে মেয়েরা পরিবার ও সমাজে সমান দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হচ্ছে এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
সামাজিক বৈষম্য ও অধিকারহীনতা
যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বাস্তবে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা পরিবারে ও সমাজে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে। গ্রামের এলাকায় কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাদের শিক্ষা লাভের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
প্রধান সমস্যা
নারীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তাদের শিক্ষায় অযত্নের ফলে নারীদের অধিকার অর্জন করা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশ্য আলোচনা
নারীর ভূমিকা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে।
নারী অধিকারের ধারণা
আমরা সমাজে বাস করি। সমাজে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং সমাজের সদস্য হিসেবে আমাদের বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার। এসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া নাগরিকের জন্য এক ধরনের অধিকার। কাজেই নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। নারীর অধিকার মানবাধিকার। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানুষের এসব অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুমোদন করেছে "মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র।” এই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা পূর্ববর্তী শ্রেণিতে এ অধিকারগুলো সম্বন্ধে জেনেছি। এদের মধ্যে একটি বিশেষ অধিকার হলো, নারী-পুরুষের সমান অধিকার। নারীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অধিকার সংরক্ষণ যেমন-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে জাতিসংঘ অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের সংবিধানেও নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দেশের নারীরা কী অবস্থায় আছে তা জানা দরকার। আমাদের সমাজে নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা বেশ কঠিন ব্যাপার নয়। আমরা যদি আমাদের অধিকারগুলো সম্পর্কে জানি তাহলে আমরা এ অধিকারগুলো ভোগ করতে পারব এবং নারী-পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। বাস্তবে নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিশ্চিত না হওয়ার প্রধান কারণ হলো নারী অধিকার সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা।
বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
নানা দিক থেকেই বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক অধিকার থেকে তারা আজও অনেক বঞ্চিত। বিভিন্ন বৈষম্য-বঞ্চনারও শিকার হতে হয় তাদেরকে। আমাদের দেশে এখনও অনেক পিতামাতা কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করে। তারা মনে করে পুত্র বড় হয়ে বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াবে, সংসারের হাল ধরবে। অন্যদিকে কন্যা বিয়ের পর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, উপরন্তু তাকে বিয়ে দিতে গিয়ে পিতামাতাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এই মনোভাব থেকেই তারা পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়। যদিও বর্তমানে অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে মেয়েরাও ছেলেদের মতো সমানভাবে বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছে। একইভাবে নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটছে। তবে সমাজে নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দিতে অনেকেই এখনও প্রস্তুত নয়। আমাদের সংবিধানে, সরকারি বিধিবিধানে নাগরিক হিসেবে নারীকে পুরুষের পাশাপাশি সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। চাকরি বা অন্যান্য পেশা এবং মজুরির ক্ষেত্রেও তাদের অধিকার সমান। কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। পরিবারে ও সমাজে তারা নানা রকম বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার হয়। ছেলে-সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে পরিবার যতটা আগ্রহ দেখায়, মেয়েদের বেলায় তা দেখায় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ভালো ছাত্রী হয়েও মেয়েরা অনেক সময় প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ পায় না। এছাড়া নারীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা তো আছেই।
| কাজ- ১: সমাজে নারীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা আলোচনা কর। |
Read more