পাঠ-পরিচিতি

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - বাংলা - সাহিত্যপাঠ | NCTB BOOK
2.2k
Summary

প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি "আমার পথ" শীর্ষক। এখানে নজরুল এমন একটি 'আমি' র কথা বলেছেন, যা সত্যের পথে অভিযাত্রা করে এবং সত্য প্রকাশে সাহসী। তিনি মানুষকে পূর্ণ 'আমি'র সীমায় নিয়ে যেতে চান এবং একসঙ্গে 'আমরা' হয়ে উঠতে উত্সাহিত করেন।

নজরুলের মতে, সত্যের উপলব্ধি জীবন শক্তির উৎস এবং তিনি মনে করেন, 'আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।' তাঁর এই 'আমি' সত্তা মিথ্যার বিপক্ষে দাঁড়ায় এবং সত্যকে গ্রহণ করে। তিনি সমাজে বিশ্বাস ও সত্য প্রকাশের অভাবকে পরনির্ভরতা তৈরি করে এবং ব্যক্তিত্বকে আঘাত করে বলে দেখেন।

নজরুল ভণ্ডামি থেকে দূরে থাকতে চান এবং যে ভুল হয় তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাঁর বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস regained হলেই মানবতার মধ্যে যোগাযোগ সুগম হবে এবং ধর্মীয় বিরোধ কমে যাবে।

সম্প্রীতির মাধ্যমে তিনি মানব সমাজের একীকরণে বিশ্বাসী, যা সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে একটি উন্নত মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে সংকলিত হয়েছে। “আমার পথ” প্রবন্ধে নজরুল এমন এক ‘আমি’র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নিৰ্ভীক অসংকোচ । তাঁর এই ‘আমি’-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক ‘আমি’র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আমরা’ হয়ে উঠতে চেয়েছেন। স্বনির্ধারিত এই জীবন-সংকল্পকে তিনি তাঁর মতো আরও যারা সত্যপথের পথিক হতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। এই সত্যের উপলব্ধি কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তিনি তাই অনায়াসে বলতে পারেন, ‘আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।' রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে নজরুলের এই 'আমি' সত্তা। তাঁর পথনির্দেশক সত্য অবিনয়কে মেনে নিতে পারে কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করে না। সমাজ ও সমকাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রাবন্ধিক দেখেছেন যে, সুস্পষ্টভাবে নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা, আহত হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব। নজরুলের কাছে এই ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের গ্লানি গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রয়োজনে দাম্ভিক হতে চান; কেননা তাঁর বিশ্বাস – সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের পক্ষেই কেবল অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।
নজরুল এই প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, তিনি ভুল করতে রাজি আছেন কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন । ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেবার কপটতা কিংবা জেদ তাঁর দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। এই ভুল ব্যক্তির হতে পারে, সমাজের হতে পারে কিংবা হতে পারে কোনো প্রকার বিশ্বাসের। তবে তা যারই হোক আর যেমনই হোক এর থেকে বেরিয়ে আসাই নজরুলের একান্ত প্রত্যাশা । তিনি জানেন, এই বেরিয়ে আসা সম্ভব হলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে। মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে, এক ধর্মের সঙ্গে অপর ধর্মের বিরোধ মিটে যাবে। সম্ভব হবে গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ে। ভিন্ন ধর্ম-মত-পথের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে । আর এই সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...