ব্যাপন (পাঠ ১ ও ২)

অষ্টম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বিজ্ঞান - ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন | NCTB BOOK
2k
Summary

ব্যাপন প্রক্রিয়া

প্রতিক্রিয়াসমূহের মাধ্যমে আমরা জানি যে সব পদার্থ ক্ষুদ্র অণু দ্বারা গঠিত, যা সবসময় গতিশীল থাকে। তরল ও গ্যাসে অণুর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলা হয়।

ব্যাপনকারী পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তির ফলে একটি চাপ সৃষ্টি হয়, যা অণুগুলোর ছড়িয়ে পড়াকে ত্বরান্বিত করে। ব্যাপন চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হয়। এর উদাহরণ হিসেবে ঘরে সেন্ট বা আতর ছড়ানোর পর সুবাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করা যায়।

ব্যাপন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

  • জীবজগতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ যেমন সালোকসংশ্লেষণ, শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাপন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • উদ্ভিদ বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন ত্যাগ করে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ব্যাপন দ্বারা ঘটে।
চিত্র ৩.১ : সেন্টের ব্যাপন।

আমরা জানি সব পদার্থই কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো সবসময় গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অপুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে। কোনো পদার্থের অণুর ব্যাপন ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ না উক্ত পদার্থের অণুগুলোর ঘনত্ব সর্বত্র সমান হয়। অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হওয়া মাত্রই পদার্থের ব্যাপন বন্ধ হয়ে যায়। 

ব্যাপন কাতে কী বোঝায় তা কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে সহজে বোঝা যায়। পরীক্ষালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে আলোচনা করে ব্যাপন সম্বন্ধে বাস্তব জ্ঞান পাওয়া যায়। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়ার কয়েকটি পরীক্ষা আলোচনা করা হলো-

ব্যাপনের অনেক প্রমাণ আমাদের আশে পাশেই দেখা যায়। যেমন- ঘরে সেন্ট বা আতর ছড়ালে বা ধূপ জ্বালালে সমস্ত ঘরে তার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপনের কারণে ঘটে। ধূপের ধোঁয়া ও সেন্টের অণুগুলো অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় সম্পূর্ণ ঘরে কম ঘনত্ব সম্পন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সমস্ত ঘর সুবাসে ভরে যায় ৷

 

ব্যাপনের পুরুত্ব : জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। যেমন- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। প্রাণীদের শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, অক্সিজেন প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে পরিবহন করা ব্যাপন দ্বারা সম্পন্ন হয়।

Content added || updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...