Summary
বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রত্যেক শিশুর নৈতিক দায়িত্ব। তারা হলেন মা-বাবা, দাদা-দাদি, শিক্ষক, প্রতিবেশী ইত্যাদি। শ্রদ্ধা দেখানোর উপায়গুলো হল:
- বয়োজ্যেষ্ঠদের salut বা অভিবাদন জানানো।
- কথা বলার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা।
- বড়দের আদেশ মেনে চলা এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করা।
- বড়দের মতামত জানাতে হলে সম্মানের সাথে বক্তব্য উপস্থাপন করা।
- বৃদ্ধ আত্মীয়দের সেবা ও গল্পের মাধ্যমে তাদের সান্নিধ্যে থাকা।
শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর প্রয়োজন আছে, কারণ তারা জ্ঞান প্রদান করেন এবং শিশুকে গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শ্রদ্ধা ও সম্মানের মাধ্যমে শিক্ষকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে, যা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত কাজগুলি:
- মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান নিয়ে পোস্টার তৈরি করা।
- বৃদ্ধ আত্মীয়দের প্রতি করণীয় লেখার বিষয়বস্তু।
- স্কুলে এবং বাইরের পরিবেশে শিক্ষককে সম্মান প্রদর্শনের উপায় বর্ণনা করা।
তোমাদের চেয়ে বয়সে যারা বড় তারাই তোমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে মা-বাবা, বড় ভাই- বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, চাচা-চাচি, মামা-মামি সবাই তোমাদের আত্মীয়- স্বজন। এছাড়া শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী সে যে পেশারই হোক না কেন, যারা তোমাদের চেয়ে বয়সে বড় তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানো তোমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এটা ভদ্রতামূলক আচরণ। বড়দের আদেশ-উপদেশ মেনে চলাকেই তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া বোঝায়। তোমরা যদি শ্রদ্ধাশীল হও, তাহলেই বড়রা তোমাদের ভালোবাসবে। শ্রদ্ধা হতেই ভালোবাসার জন্ম।

তোমরা হয়তো বলতে পারো শ্রদ্ধা ও সম্মান কীভাবে দেখাব?
শ্রদ্ধা দেখানোর উপায়
- বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখলে সালাম বা অভিবাদন জানাবে। কুশল বিনিময় করবে।
- বড়রা যখন কথা বলবেন তখন মন দিয়ে শুনবে। কথার মাঝে কোনো কথা বলবে না।
- বড়দের আদেশ উপদেশ মেনে চলবে এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে।
- বড়দের কোনো কথা বা কাজ তোমার পছন্দ না হলে সম্মানের সাথে তোমার মতামত জানাবে।
- বাড়িতে বৃদ্ধ দাদা-দাদি, নানা-নানি থাকলে সেবা করবে এবং সঙ্গ দিবে, গল্প করবে। কারণ তারা বয়সের কারণে নিজের কাজও নিজে করতে পারেন না, একাকিত্বে ভোগেন। এছাড়া তাদের সাথে গল্পের মাধ্যমে তোমরাও অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
তোমার বাবা-মা যেভাবে তোমাদের লালন-পালন করছেন, তোমার দাদা-দাদি/নানা-নানিও সেভাবেই তোমার বাবা-মাকে লালন-পালন করেছেন। তোমরা তাঁদের অনেক আদরের। অতি শৈশব থেকে তাঁরা তোমাদের অনেক আদর ও স্নেহ করেন, অনেক দোয়া করেন। সুতরাং বৃদ্ধ বয়সে তাঁরা যাতে কোনো দুঃখ কষ্ট না পান সে দিকে খেয়াল রাখাও তোমাদের কর্তব্য। বড়দের প্রতি তোমাদের সৌজন্যমূলক আচরণ ও শ্রদ্ধাবোধ তাঁদের স্নেহ, ভালোবাসা অর্জনে তোমাদের জন্য সহায়ক হবে এবং সামাজিক জীবন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হবে।
কাজ - ১ একজন সন্তানের তার মা-বাবাকে কীভাবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা উচিত তার উপর একটি পোস্টার তৈরি করো। কাজ- ২ বৃদ্ধ দাদা-দাদি বা নানা-নানির প্রতি তোমার করণীয় সম্পর্কে লেখো। |
শিক্ষকের প্রতি সম্মান- শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষক জ্ঞান দান করেন আর তোমরা সেই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে গড়ে তোল। পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষকের প্রতি প্রকৃত সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়েই তোমাদের পাঠ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকগণ সন্তানের মতো কল্যাণ কামনা করে ছাত্রদের গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তোমরা শিক্ষকের আদর্শ মেনে চলবে। শিক্ষক যখন পাঠ দেন তখন মনোযোগী হবে। নম্র ও ভদ্র আচরণ করবে। এগুলো তোমাদের কর্তব্য।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম ক্লাসে শিক্ষকের উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে একটুও দেরি করে না। পাঠদানকালে সে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শিক্ষকের কথা শোনে। শিক্ষকের দেওয়া শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ সে সময় মতো সম্পাদন করে। এভাবে সে শিক্ষকের নির্দেশ পালন করার মাধ্যমে শিক্ষককে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।
শুধু তাই নয়, সে শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলের বাইরেও শিক্ষকদের একই ভাবে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানায়। তার এই ধরনের আচরণে সবাই তার প্রশংসা করে। সুতরাং শিক্ষকের সাথে তোমাদের সম্পর্ক হবে ঘনিষ্ঠ ও সম্মানজনক। এতে উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যা সকলের কাম্য।
| কাজ-৩ : স্কুলে এবং স্কুলের বাইরে তুমি কিভাবে শিক্ষককে সম্মান দেখাবে বর্ণনা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রনিদের বাড়িতে তার দাদি থাকেন। রনি দাদিকে অনেক সময় দেয়, তার কাজে সহযোগিতা করে। সে তার দাদির কথা মন দিয়ে শোনে।
Read more