Academy

জাকারিয়া সাহেব একজন ন্যায়বিচারক। ন্যায়বিচারের কারণে ঘুষ লেনদেনকারীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এমনকি তাকে বদলি করিয়ে দেওয়ার চেস্টা করে। বিচারক সাহেব এটা জানার পরেও তার কর্তব্যে অবিচল থাকেন। তিনি আসমাউল হুসনার বিষয়গুলো নিজের জীবনে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার চেস্টা করেন এবং আল্লাহর ভয়ে সবসময় ভীত থাকেন। বিচারকের এমন মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে অবশেষে ঘুষ লেনদেনকারীরা তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
 

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

আসমাউল হুসনা' অর্থ সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামসমূহকেই 'আসমাউল হুসনা' বলা হয়।

8 months ago

আকাইদ

আকাইদ শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলো আকিদাহ। আকিদাহ অর্থ বিশ্বাস। আর আকাইদ শব্দের অর্থ বিশ্বাসমালা। ইসলামের সর্বপ্রথম বিষয় হলো আকাইদ। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর উপর মনে প্রাণে বিশ্বাস করাকেই আকাইদ বলা হয়। আকাইদের সবগুলো বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করলে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, আসমানি কিতাব, ফেরেশতা, তাকদির ইত্যাদির উপর বিশ্বাস স্থাপন করার নাম আকাইদ। যে এসব বিষয়ে বিশ্বাস করে, সে-ই ইসলামে প্রবেশকারী বা মুসলিম।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • তাওহিদের স্বরূপ, গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • কুফরের পরিচয়, কুফল ও পরিণতি বর্ণনা করতে পারব।
  • শিরকের পরিচয়, কুফল ও পরিণতি বর্ণনা করতে পারব।
  • বাস্তব জীবনে কুফর ও শিরক পরিহার করার উপায়সমূহ বলতে পারব।
  • ইমান মুফাস্সাল (ইমানের বিস্তারিত পরিচয়) অর্থসহ শুদ্ধভাবে পড়তে, বলতে এবং এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আল্লাহর কয়েকটি গুণবাচক নাম ও এসবের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আল্লাহর গুণবাচক নাম সম্পর্কিত গুণসমূহ নিজ আচরণে প্রতিফলনের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
  • রিসালাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।
  • ওহির পরিচয় ও এর উপর বিশ্বাস স্থাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব এবং সিরাত ও মিযানের পরিচয় বর্ণনা করতে পারব।
  • আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে নৈতিক জীবনযাপনের উপায় বলতে পারব।
  • নৈতিক জীবনযাপনে তাওহিদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
Content added || updated By

Related Question

View More

1 তাওহিদ কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

তাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা।

আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে দুনিয়ার ভালো কাজের জন্য জান্নাত লাভ করবে এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম পাবে। আখিরাতে অবিশ্বাস করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। আর এজন্যই মুত্তাকি আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

নামাযের প্রতি রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।

আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো একটির অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। যেমন- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করা কুফর। নামায যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদত সেহেতু এটি অস্বীকার করা কুফরি।

উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, সমাজপতি রাজা মিয়া তার প্রকল্পে কর্মরত জনাব ফরিদ উদ্দিনকে নামায পড়তে নিষেধ করে বলেন, নামায আবার কিসের জন্য, কাজ কর তাহলেই সুখ পাবে। এজন্য রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।

আখিরাতে বিশ্বাস ফরিদ উদ্দিনকে নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে সে আখিরাতে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তাঁর আবাসস্থল হবে চিরশান্তির জান্নাত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ইমান আনবে না এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ করবে সে আখিরাতে শাস্তি ভোগ করবে। সর্বোপরি আখিরাতে বিশ্বাস করলে মানবজীবন সুন্দর হয়। মানুষ উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সবধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
ফরিদ উদ্দিন বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হলো আমল করার স্থান। আখিরাত হলো ফলভোগের স্থান। আখিরাতে মানুষ কোনো আমল করতে পারবে না। বরং দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ আমল করেছে সেরূপ ফল ভোগ করবে।
সুতরাং বলা যায়, যে মূল বিশ্বাসের ফলে ফরিদ উদ্দিন নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল, সেটি হলো আখিরাতে বিশ্বাস।

আল্লাহ তায়ালা অতুলনীয়। তাঁর সত্তা যেমন অনাদি ও অনন্ত, তাঁর গুণাবলিও তেমনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালার এসব গুণ নানা শব্দে নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়। এসব গুণের প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, দয়াবান, ক্ষমাশীল, শান্তিদাতা ও পরাক্রমশালী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান; তিনিই মালিক। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং বলা হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"

বিচারপতি জাকারিয়া সাহেব আল্লাহর 'আযিযুন' (মহা পরাক্রমশালী) গুণের ভয়ে ভীত থাকেন।
বিচারপতি জাকারিয়া সাহেব জানেন যে, আল্লাহ তায়ালাই সকল ক্ষমতার উৎস ও মালিক। তাঁর ক্ষমতা অসীম। কেউ তাঁকে অপারগ করতে পারে না। তাঁর সাথে কেউ ধোঁকা-প্রতারণা করতে পারে না। কেউ তাঁর কৌশল বা পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে পারে না। তিনি যা চান তা-ই হয়। তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার মোকাবিলা করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি যাকে ইচ্ছা অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে পারেন। এজন্য আল্লাহকেই ভয় করতে হবে।
সুতরাং জাকারিয়া সাহেব আল্লাহর 'আযিযুন' গুণের ভয়ে ভীত থাকেন Vindows এবং ন্যায়বিচার করেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...