Academy

পল্লির সন্তান অমিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্স যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুব ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ফরাসিদের দেশপ্রেম দেখে সে বিস্মিত হয়। ওদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়ীভাবে সেখানে থেকে যায়। তার অতীত স্মৃতি ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায়।

Created: 5 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় এক শিশু।

5 months ago

আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় 

হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে; 

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে 

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়; 

হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়, 

সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে; 

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে 

জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়,

 

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে, 

হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে, 

হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে; 

রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে 

ডিঙা বায়; – রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে 

দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে –

Content added || updated By

Related Question

View More

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকতে চান বলে মানুষ না হলেও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসতে চান।

কবি জানেন, মৃত্যুর মধ্য একদিন তাঁকে এদেশ থেকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু কবি তাঁর দেশকে ভালোবাসেন। প্রিয় জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। তিনি এদেশের বিভিন্ন রূপবৈচিত্র্যের অনুষঙ্গ হয়ে আবার ফিরে আসতে চান। তিনি তাই বলেন যে, মানুষ হয়ে তিনি আর এদেশে ফিরে আসতে না পারলেও প্রকৃতির বুকে শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে ফিরে আসবেন।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।

জন্মভূমির সন্তানদের কাছে জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও অনেক মূল্যবান। মানুষ তাই প্রিয় জন্মভূমির রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চায়।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে। অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফরাসিদের দেশপ্রেম প্রকাশ পায় যা 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি জীবনানন্দ দাশের দেশপ্রেমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও বাংলাকে ভালোবেসে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশের সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।

"অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন"- উক্তিটি যথার্থ।

জন্মভূমির প্রতি সবার অনুভূতি এক নয়। অনেকেই বিদেশে গিয়ে জন্মভূমিকে ছেড়ে থাকতে পারে না। আবার অনেকে বিদেশের সৌন্দর্যে মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মভূমিকে ভুলতে বসে।

উদ্দীপকের অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সুপ্রশস্ত রাজপথ, বিচিত্র উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। তাদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়ীভাবে ফ্রান্সে থেকে যায়। ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায় তার স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বদেশের স্মৃতি। উদ্দীপকের অনুভূতি ও চেতনা সম্পূর্ণভাবে জীবনানন্দ দাশের চেতনা ও অনুভূতি থেকে ভিন্ন। কারণ দেশকে ভালোবেসে কবি পুনরায় যেকোনো রূপে স্বদেশে ফিরে আসতে চান।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি তাঁর নিজের দেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। জন্মভূমির অতি তুচ্ছ জিনিসগুলো তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। উদ্দীপকের অমিত উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্সে গিয়ে সেখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার অতীতের স্মৃতি ধূসর হয়ে যায়। আর কবি মৃত্যুর পরও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে হলেও ফিরে আসতে চান তাঁর জন্মভূমির রূপময় আকর্ষণের টানে। এ বিষয় থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

'বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা' বলতে সবুজ প্রকৃতি ঘেরা বিষণ্ণ বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।

কবি জীবনানন্দ দাশের চোখে তাঁর জন্মভূমি সবচেয়ে সুন্দর। চারদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। অসম্ভব সৌন্দর্যের মাঝে বিষণ্ণতাও থাকে। সেই সৌন্দর্য ও বিষণ্ণতা এক সঙ্গে প্রকাশ করতে কবি বাংলাকে সবুজ করুণ ডাঙ্গা আখ্যায়িত করে উক্তিটি করেছেন। তবে যেমনই হোক তিনি মৃত্যুর পরেও এই বাংলায় ফিরে আসতে চান।

উদ্দীপক ও 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটেছে।

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সবাই মুগ্ধ হয়।

উদ্দীপকে বাংলার হাওয়া, বাংলার জল বাঙালির হৃদয়কে সুশীতল * করে তোলে, সুখ-শান্তিতে ভরিয়ে দেয় বুক। প্রকৃতির এমন সুখের ছোঁয়া পৃথিবীতে বাংলা ছাড়া আর কোথাও নেই। 'আবার আসিব ফিরে' এ কবিতায় কবিও বাংলার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিত্র এঁকেছেন। এ কবিতায় কবি ধানসিঁড়ি নদী, শঙ্খচিল, শালিক, লক্ষ্মীপেঁচা, সাদা বক, পাখি, নতুন ধান কাটার উৎসব, কাঁঠাল গাছের ছায়া, বাংলার নদী-মাঠ-খেত, শিমুলের শাখাসহ কবি প্রকৃতির বিচিত্র উপকরণের বর্ণনা করেছেন। প্রিয় জন্মভূমির এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত কবি তাই মৃত্যুর পরেও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে হলেও আবার এদেশে ফিরে আসতে চেয়েছেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...