Academy

মমতা ও শিউলি দুই বান্ধবী। তারা কেরানীগঞ্জে থাকে। রোজ নৌকা করে পার হয়ে কলেজিয়েট স্কুলে আসে। একদিন তাদের নৌকা ডুবে গেলে মমতা সাঁতার কাটতে থাকে। কিন্তু শিউলি সাঁতার না জীনায় ডুবতে থাকে। এ সময় সমতা তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায়। শিউলি মমতাকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে মমতাও ডুবতে থাকে। মমতা তখন শিউলিকে ছেড়ে নিজের প্রাণ বাঁচায়। মমতা আর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে না।

"উদ্দীপকের মমতা 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের 'সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে।"- মন্তব্যটি আলোচনা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 4 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago
Ans :

"উদ্দীপকের মমতা 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ পৃথিবীতে চিরদিন বেঁচে থাকে না। তবে মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ মৃত্যুকে জয় করে। আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করাই মহৎ কর্মের লক্ষণ।

'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর পিতৃস্নেহের মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন। সন্তানম্নেহের কাছে তাঁর নিজ জীবন তুচ্ছ হয়ে গেছে। পুত্রের মঙ্গল ও সুস্থ জীবনের জন্য বাদশা বাবর নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেছেন। তাঁর পিতৃস্নেহের ক্লাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে। নিঃস্বার্থ একজন পিতার মহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সন্তানস্নেহের কাছে পৃথিবীর সবকিছু হয়ে পড়েছে মূল্যহীন। অন্যদিকে উদ্দীপকের মমতা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে বান্ধবীকে বিপদের মুখে ছেড়ে দিয়ে নিজের জীবন বাঁচায়। নিজের জীবন বাঁচানোই তার কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা তার স্বার্থপর মানসিকতারই প্রকাশ।

উদ্দীপকের মমতা নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করেছে। মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে জয় করতে পারেনি। তার চিন্তা-চেতনায় স্বার্থপরতা ফুটে উঠেছে। আর 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করে বাদশা বাবর আত্মস্বার্থ ত্যাগের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের বিষয়টি মমতার সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 months ago

জীবন বিনিময়

বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর-

পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর!

চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার ।

রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ দরবেশ

এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,

সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ ।

তবু তাঁর সেই দুরন্ত রোগ হটিতেছে নাক হায়,

যত দিন যায়, দুর্ভোগ তার ততই বাড়িয়া যায়-

জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অস্তরবির প্রায় ৷

শুধাল বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে ভিষকবৃন্দে ডাকি,

“বল বল আজি সত্যি করিয়া, দিও নাকো মোরে ফাঁকি,

এই রোগ হতে বাদশাজাদার মুক্তি মিলিবে নাকি?'

নতমস্তকে রহিল সবাই, কহিল না কোন কথা,

মুখর হইয়া উঠিল তাঁদের সে নিষ্ঠুর নীরবতা

শেলসম আসি বাবরের বুকে বিঁধিল কিসের ব্যথা!

হেনকালে এক দরবেশ উঠি কহিলেন- ‘সুলতান,

সবচেয়ে তব শ্রেষ্ঠ যে-ধন দিতে যদি পার দান,

খুশি হয়ে তবে বাঁচাবে আল্লা বাদশাজাদার প্রাণ ।’

শুনিয়া সে কথা কহিল বাবর শঙ্কা নাহিক মানি -

‘তাই যদি হয়, প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবানি,

সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে ধন জানি তাহা আমি জানি ।’

এতেক বলিয়া আসন পাতিয়া নিরিবিলি গৃহতল

গভীর ধেয়ানে বসিল বাবর শান্ত অচঞ্চল,

প্রার্থনারত হাতদুটি তাঁর, নয়নে অশ্রু জল।

কহিল কাঁদিয়া- ‘হে দয়াল খোদা, হে রহিম রহমান,

মোর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আমারি আপন প্ৰাণ,

তাই নিয়ে প্রভু পুত্রের প্রাণ কর মোরে প্রতিদান ।

স্তব্ধ-নীরব গৃহতল, মুখে নাহি কারো বাণী

গভীর রজনী, সুপ্তি-মগন নিখিল বিশ্বরাণী,

আকাশে বাতাসে ধ্বনিতেছে যেন গোপন কি কানাকানি ।

সহসা বাবর ফুকারি উঠিল - ‘নাহি ভয় নাহি ভয়,

প্রার্থনা মোর কবুল করেছে আল্লাহ যে দয়াময়,

পুত্র আমার বাঁচিয়া উঠিবে - মরিবে না নিশ্চয় ।

ঘুরিতে লাগিল পুলকে বাবর পুত্রের চারিপাশ

নিরাশ হৃদয় সে যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস,

তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস ।

সেইদিন হতে রোগ-লক্ষণ দেখাদিল বাবরের,

হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের,

নতুন জীবনে হুমায়ুন ধীরে বাঁচিয়া উঠিল ফের।

মরিল বাবর - না, না ভুল কথা, মৃত্যু কে তারে কয়?

মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়,

পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়!

Content added || updated By

Related Question

View More

'জীবন বিনিময়' কবিতায় প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবনকে 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন' বলা হয়েছে।

কবি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন হুমায়ুনের রোগমুক্তির উপায় নেই এমন ভাব প্রকাশ পাওয়ায়।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাবরপুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত চিকিৎসক আছেন সবাই আসার পরও হুমায়ুনের রোগমুক্তির কোনো উপায় হয় না। একসময় বাবর যখন রাগান্বিত হয়ে চিকিৎসকদের বলেন, রোগ থেকে বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না, তখন রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয় ভেবে চিকিৎসকরা নীরব থাকেন। এ কারণেই নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলা হয়েছে।

উৎপলকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয় মেলে তা হলো পুত্রের জন্য পিতার আত্মত্যাগ।

সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহের তুলনা হয় না। পিতা হলেন সন্তানের জীবনের প্রধান ছায়া। পিতা সন্তানের সুখের জন্য হাজারো কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে ভালো রাখতে পিতার চেষ্টার শেষ নেই।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। রাজ্যের কোনো চিকিৎসক তার রোগমুক্তির উপায় বের করতে পারেন না। শেষে যখন এক দরবেশ বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন কোরবানি দিতে বলেন তখন তিনি নিজের প্রাণই দিয়ে দেন। সন্তানকে ভালো রাখার জন্য এমন আত্মত্যাগ উদ্দীপকের উৎপলের পিতার মধ্যেও দেখা যায়। যখন তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তখন উৎপলকে সরিয়ে তার পিত্য ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন। এভাবে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের আত্মত্যাগের পরিচয় মেলে।

"ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।

জগতে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন। সন্তানের সুখের জন্য অনেক পিতা নিজ জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেন। আবার সন্তানও পিতাকে অনেক শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। তারা একে অপরের ঢালস্বরূপ।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের এক মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা তার রোগমুক্তির কোনো উপায় বের করতে পারেন না। তারপর এক দরবেশ যখন বাবরকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন কোরবানি করতে বলেন তখন বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন হলো নিজের প্রাণ। তিনি বিধাতার কাছে নিজের প্রাণের বিনিময়ে অসুস্থ পুত্রের প্রাণভিক্ষা চান। উদ্দীপকেও পুত্রের প্রতি পিতার ভালোবাসার দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। তবে 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহ অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী।

উদ্দীপক ও কবিতা উভয় জায়গাতেই পিতার অপত্যস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। তবে আলোচ্য কবিতায় পিতার প্রাণদানের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণরক্ষা অনেক বেশি মর্মস্পর্শী। উদ্দীপকে এমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। উদ্দীপকে পিতা ও পুত্র দুজন দুজনের ঢালস্বরূপ। তাই বলা যায়, ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীরন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় রোগ হলো বাদশাজাদা হুমায়ুনের।

"জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়"- কথাটি দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন, বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন অন্তপ্রায় সূর্যের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তপ্রায় সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...