জমিদার বুধাই মণ্ডল মৃত্যুর পূর্বে তার বিদূষী ও বুদ্ধিমতি কন্যা গোলাপিকে তার বিশাল জমিদারির উত্তরাধিকারিণী মনোনীত করেন। আপনজনদের নানামুখী বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে তাকে জমিদারি হারাতে হয়েছিল। কিন্তু শত্রুদের হাতে তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর পুনরায় তিনি জমিদারি ফিরে পান। সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীসুলভ দুর্বলতার কারণে তিনি নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতার পরিচয় দিতে পারেননি।
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু নারীত্বের কারণেই গোলাপি ও সুলতান রাজিয়ার পতন ঘটেছিল।
ভারতের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম ও একমাত্র নারী ছিলেন সুলতান রাজিয়া। শাসনকার্যে চারিত্রিক দৃঢ়তায় তিনি নিজেকে পুরুষ অপেক্ষা যোগ্যতয় প্রমাণ করেন। তিনি তার প্রশাসনের দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত শক্তি-সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যেই মহিলা পোশাক পরিত্যাগ করেন। কিন্তু তুর্কি অভিজাত শ্রেণি নারী বলে সুলতান রাজিয়ার এ সকল কর্মকান্ডের বিরোধিতা করেন। অভিজাত শ্রেণির এ বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের ফলেই তার পতন হয়। গোলাপির ব্যর্থতার পেছনেও এ ধরনের বিষয় প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায় যে, গোলাপি জমিদারি গ্রহণ করে সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীসুলভ দুর্বলতার কারণে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতার পরিচয় দিতে পারেননি। ঠিক একইভাবে সুলতান রাজিয়াও সিংহাসনে আরোহণ করার পর শাসন ক্ষেত্রে নানাবিধ গুণাবলি ও যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও ব্যর্থ হন। মূলত নারীত্বই ছিল তার প্রধান অযোগ্যতা। ভি.ডি মহাজন বলেন, 'যদি রাজিয়া একজন নারী না হতেন তাহলে তিনি ভারতের অন্যতম সফলতম শাসক হতেন।' শক্তিশালী পুরুষ আমির-উমরাহগণ একজন নারী কর্তৃক শাসিত হতে অপমান বোধ করে তার উৎখাত সাধনে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। তাছাড়া রাজিয়ার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও কঠিন হস্তে শাসন পরিচালনা সুলতানি সাম্রাজ্যের ওপর তুর্কি অভিজাতদের অপ্রতিহত ক্ষমতা স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে তুর্কি অভিজাতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং সুলতান রাজিয়ার পতন ঘটায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?