জমির মিয়া মৎস্য চাষ ও পশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তার বসতি জমির একপাশে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেন। এতে সফল হলে তিনি একটি দুগ্ধ খামারও গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে জমির মিয়া এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পান।
উদ্দীপকের জমির মিয়ার প্রথম কার্যক্রমটি হলো মৎস্য চাষ। জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য চাষের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো- দেশের রপ্তানি আয়ের ১.৫১% মৎস্য উপখাত থেকে আসে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ০.৬৮ লক্ষ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪৩০৯ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। বিশ্বের ৫৬টি দেশে বাংলাদেশের মাছ রপ্তানি হয়। বাংলাদেশের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে মৎস্য খাত। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮ এর তথ্যমতে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি'র ৩.৫৭% এবং মোট কৃষিজ আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মৎস্য খাত থেকে আসে। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষ মোট জনসংখ্যার ১১% এর অধিক লোক জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক বেকার লোক মাছ চাষ করে হ্যাচারি, নার্সারি, খামার, মাছের খাদ্য তৈরি করে বেকারত্ব দূর করছে। মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাবান, ওষুধ, গ্লিসারিন, বার্নিশ ইত্যাদি তৈরিতে মাছের তেল ব্যবহৃত হয়। মাছের ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই গ্রামগঞ্জে নৌকা, লঞ্চ, বরফ তৈরি ও জাল বুননের মত বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাছ চাষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?