Academy

যে কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা (প্রবন্ধ রচনা কর)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা

ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি সুপ্রাচীন দেশ। প্রাচীনত্বের গরিমায় বাংলা সারা বিশ্বে পরিচিত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ-দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দারুণভাবে উন্নতি লাভ করেছে। দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে দেশের জনা আর্থিক সমৃদ্ধি আনয়ন করেছে। বর্তমানে পর্যটনকে শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবন বর্তমান।

পর্যটনের বিকাশ: মানুষের একে অপরকে জানার আগ্রহ থেকেই পর্যটনের বিকাশ ঘটেছে। হয়ত পর্যটনের নামে নয়। কিন্তু পর্যটন বিষয়টি অনেক পুরাতন। মার্কোপোলো, ইবনে বতুতা, ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং-সহ বিশ্ববিখ্যাত পর্যটকরা ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে আছেন, সেই সময়ে যখন যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল খুবই কষ্টকর, সেই সময়েও ভ্রমণপিপাসুরা। ঘুরে বেড়েয়িছেন দেশে দেশে। এসব বিখ্যাত পর্যটকদের অনেকেই এ উপমহাদেশে এসেছিলেন সে কথা আমরা ইতিহাস থেকে পাই। আজ পর্যটনের যে ধারণ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে পৃথিবীব্যাপী, দেশে দেশে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশ-দেশান্তরে তা কিন্তু জগৎ সম্পর্কে তার কল্পন ও জগৎ সত্যের প্রত্যক্ষ সমন্বয়ের অদম্য অভিপ্রায়ের কারণে।

আমরা জনি খ্রিস্টপূর্বকালে প্রথম বিশ্ব জয় করেছিল বাংলার মসলিন। পৃথিবীব্যাপী এদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল সোনারগাঁও-এ তৈরি সুক্ষ্ম বস্ত্র মসলিনের মাধ্যমে। এছাড়াও পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) রয়েছে বাংলাদেশে যা বিশ্ববাসীকে পর্যটন আকর্ষণে রাখতে পরে ব্যাপক ভূমিকা। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যা অবিচ্ছিন্নভাবে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। আরো একটি কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে গৌরবজনক আসন অলংকৃত করে আছে যা 'একুশে ফেব্রুয়ারি' আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

পৃথিবীকে আজ আমরা গ্লোবাল ভিলেজ বলছি। অথাৎ সারা পৃথিবীর সব দেশ মিলেমিশে একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে সময় এসেছে পরস্পরের কাছে পরস্পরকে মেলে ধরার। নিজের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ভ্রমণপিপাসু বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের এখনই সময়। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতে বাংলাদেশেও পর্যটন শিল্পের যথাযর্থ উন্নতি ও তদারকিতে লাভজনক হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া পর্যটন শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরে মুল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও বেকারত্ব বিমোচনের লক্ষে ১৯৭২ সালে ২৭ নভেম্বর ভারিখে জারিকৃত মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১৪৩ নং আদেশ বলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সম্ভাবনাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের উদ্যোগ সূচিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জন্মলাভ করে এবং ১৯৭৫ সালে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন নবগঠিত মন্ত্রণালয়ের অধীনে নীত হয়। জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে এই সংস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানসমূহের অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটকদের সেবা প্রদান, বিদেশে ইতিবাচক ভাবমুর্তি তুলে ধরা ও দেশের পর্যটন সম্পদের বিকাশের পাশাপাশি এ শিল্পের বিভিন্ন অঙ্গনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ দেশের দারিদ্র্যবিমোচনে সহায়তা করা।

শ্রেণিভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ: বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোকে নিম্নরূপে ভাগ করা যায়। যথা:

(ক) প্রাকৃতিক বা বিনোদনমূলক পর্যটনঃ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, শহরের যান্ত্রিক জীবনের বাইরে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসা কিংবা হঠাৎ করে কোনো নতুন পরিবেশের ছোয়া পাবার জন্য মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতির কাছে। এ ধরনের নয়ন-কাড়া প্রাকৃতিক অবস্থান বাংলাদেশে প্রচুর। রয়েছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল ও চা বাগান, তামাবিল, জাফলং, রাঙামাটির নয়নভিরাম কৃত্রিম হ্রদ, সুন্দরবনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চল। এছাড়াও রয়েছে উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল, বর্ণাঢ্য উপজাতীয় ও গ্রামীণ জীবনধারা।

(খ) রোমাঞ্চকর ভ্রমণ এবং পরিবেশভিত্তিক পর্যটন: রোমাঞ্চকর ও পরিবেশভিত্তিক পর্যটনের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিচিত্র বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদসম্ভার দেখা যায়। রাঙামাটির হ্রদে নৌবিহার, মৎস্য শিকার, জলক্রীড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ট্রেকিং, হাইকিং ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। সাগরের বুক চিরে অপরূপ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটক আকর্ষণের এমনি অনেক সুযোগ আছে আমাদের এই বাংলাদেশে।

(গ) সাংস্কৃতিক পর্যটন: ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন সাংস্কৃতিক পর্যটনের পর্যায়ভুক্ত। মহাস্থানগড়, ময়নামতি , পাহাড়পুর, ঢাকার লালবাগের দুর্গ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় জাদুঘর, সোনারগাঁও জাদুঘর, রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর, নাটোর ও পুঠিয়ার রাজবাড়ি এবং এমনি আরো অনেক সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্মিক নিদর্শন রয়েছে বাংলাদেশে।

(ঘ) ধর্মীয় পর্যটন: বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোকেরা মূলত ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই কিছু কিছু স্থানে ভ্রমণ করে। ঐতিহাসিক ধর্মীয় সাংস্কৃতিক আকর্ষণীয় স্থান বাংলাদেশে বিস্তত। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মাজার, দরগাহ, মঠসহ বিভিন্ন নিদর্শন ছড়িয়ে আছে সারাদেশময়। এসব আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের ঘাটগম্বুজ মসজিদ, ঢাকার সাতগম্বুজ মসজিদ, রাজশাহীর শাহ মখদুমের মাজার, পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়, নবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আর্মেনিয়ান চার্চ, চট্টগ্রমের বায়েজিদ বোস্তামীর দরগাহ, সীতাকুণ্ড মন্দির, সিনেটের হযরত শাহজালারের দরগা, কক্সবাজারের রামু মন্দির, রাজশাহীর তাহেরপুর রাজাবাড়ি প্রভৃতি।

(ঙ) নৌ পর্যটন: বিনোদনমূলক পর্যটনের জন্য এদেশের নদনদী আকর্ষণীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বহুকাল যাবৎ। বাংলাদেশ নদীবহুল দেশ। ২৫৭টি ছোটবড় নদনদী জালের মতে বিস্তৃত হয়ে আছে সারাদেশময়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য অনেকাংশেই ফুটে ওঠে নৌভ্রমণের মাধ্যমে এখান থেকেই অনুভব করা যায় সোনারবাংলার প্রকৃত ছবি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প নানাভাবে অবদান রাখতে পারে। প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্র অর্জনে এ শিল্প একটি গরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশে এমনিতেই রপ্তানি কম। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের কোনো খাতই তেমন শক্তিশালী কিংবা যাতসহ নয়। এই প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিলে পর্যটনের মতো 'অদৃশ্য রপ্তানি পণ্য খাতে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পরে। পর্যটন কর্পোরেশন মুনাফা অর্জনকারী সংস্থার মধ্যে একটি। ১৯৮৩-৮৪ থেকে ২০০৩-২০০৪ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান সর্বমোট ৪৯৭৩.১০ লক্ষ টাকা করপূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে। বর্তমান সরকার পর্যটন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিত ও সুনাম অর্জনে বিরাট অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ ২ বছরের জন্য (২০০১-২০০৩) বিশ্ব পর্যটন সংস্থার কমিশন ফর সাউথ এশিয়ান চেয়ারম্যয়ন নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ১৯৭৪ সালে জাতীয় হোটেল ও পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত এখানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে ২২,০০০-এর বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশ-বিদেশ কর্মরত আছেন। পর্যটন শিল্পের উন্নতির সঙ্গে যে সব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হতে পারে সেগুলো হল:

১. ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বেকারত্ব লাঘব; 

২. প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, 

৩. কুটিরশিল্প ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন; 

৪. বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি; 

৫. অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: 

৬. বৈদেশিক বিনিয়োগ;

৭. আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সমস্যা: অনেক সম্ভাবনাময় শিল্প হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ নানা কারণে পর্যটন শিল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি সাধন করতে পারে নি। এক্ষেত্রে যেসব সমসয় রয়েছে সেগুলো হল: 

১. অবকাঠামোগত দুর্বলতা: এই খাতের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল। পরিবহণ ব্যবস্থা মান্ধাতার আমলের। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সত্ত্বেও এখনও রয়েছে অনেক দুর্বলতা। রাস্তাঘাট সংকীর্ণ, অনেক জায়গায় বিপজ্জনক। প্রায়শই যানজটে অযথা সময় ও শক্তি নষ্ট হয়। পর্যাপ্ত আধুনিক স্কেটেল ও মোটেল নেই। পর্যটন কেন্দ্রগুলোও অবহেলিত। এগুলোর সুপরিকল্পিত আধুনিকায়ন ও শুল্কমুক্ত বিপণির অভাবও এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। 

২. রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে না ওঠায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে বড় সমস্যা। 

৩. উন্নত সেব্য ও তথ্যের অভাব: দক্ষ, মার্জিত জনবলের অভাব এ শিল্পে একটা বড় সমস্যা। সেই সঙ্গে রয়েছে উন্নত ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থার অজব। 

৪. সামাজিক বাধা: বিদেশি পর্যটকদের সংস্কৃতিকে এদেশে অনেকেই সহজ ও স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না। অনেকেই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অনেকেই অদের সম্পর্কে পোষণ করেন নেতিবাচক মনোভাব। অনেক সময় পর্যটকরা দুষ্টলোকের পাল্লায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্তও হন। এগুলোও এ শিল্পের বিকাশে সমস্যয় হয়ে আছে। 

৫. প্রচারের অভাব: আজকে আমরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, বিবিসি, সিএনএন, ডিসকভারী, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যসহ প্রাকৃতিক রূপ অবলোকন করে থাকি। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন কোনো প্রচার নেই বললেই চলে। প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কথা তুলে ধরা যায়।

৬. নিরাপত্তার অভাব: অস্থিতিশীলা, চুরি, ছিনতাই, হত্যা, রাহাজানি, সহিংসতা, থেকে পর্যটকদের রক্ষা করতে হবে। পর্যটকদের দিতে হবে নির্বিঘ্নে চলাফেরার নিশ্চয়তা।

পর্যটন শিল্প বিকাশে করণীয়: বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ শিল্পের বিকাশে

(১) সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যটন স্পটগুলোকে বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে; 

(২) যাতায়াতের সুষ্ঠু ব্যবস্থা তথা বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন; 

(৩) নিরাপদ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যবস্থাকরণ; 

(৪) দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবাসন সুবিধাদি করতে হবে।

এছাড়া সচেষ্ট হতে হবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে জাতীয় ঐকামত প্রতিষ্ঠায়। পাশাপশি পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য চাই প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার। চাই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা। আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর পরিকল্পিত নান্দনিক উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন পর্যটন-কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। পর্যটন সংক্রান্ত নান বিষয়ে প্রয়োজন তথাপূর্ণ আকর্ষণীয় প্রচার। এই শিল্পের বিকাশের জনা পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পর্যটকদের নিরাপত্তা। বিভিন্ন দেশের মতো পর্যটকদের বাড়তি কিছু সুবিধা দিতে হবে। সৈকতে রাখতে হবে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা, ব্যবহার করতে হবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যন্য দৃষ্টিনন্দন স্থানকে পর্যটনের আওতায় এনে সমৃদ্ধ করতে হবে।

কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতের অবস্থান আমাদের বাংলাদেশের কক্সবাজারে যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। আরও রয়েছে দক্ষিণ অঞ্চলের কুয়াকাটি সমুদ্র সৈকত। যেখানে অবস্থান করে অবলোকন করা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। যা খুবই বিরল। সেন্টমার্টিন: আমাদের আছে জগদ্বিখ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রবাল দ্বীপের নামই সেন্টমার্টিন। নারিকেল বিথীতে ঘেরা যার সৈকত। এখানে রয়েছে পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ করার অপার সম্ভাবনা।

রাঙামাটি ও বান্দরবান: পাহাড়-পর্বত যেরা বান্দরবান, রাঙামটির সবুজ বনানীতে অপরূপ সৌন্দর্য সহসাই মনকে উচাটন করে দেয়। ছোট-বড় পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদী, কপা আর হ্রদের অপার নান্দনিকতা। যে-কোনো মানুষকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড়ি উপজাতিদের কৃষ্টি সংস্কৃতি জীবনযাত্রার বর্ণাঢ্যও মুগ্ধ করে পর্যটন প্রিয়দের।

সুন্দরবন: এই বাংলাদেশেই অবস্থিত পৃথিবীর বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন যার নাম সুন্দরবন। খাল, নদী, সাগর বেষ্টিত সুন্দরবনের জলে কুমির আর ভাঙায় বাঘ। যে বাধ ভুবন বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে অভিহিত। সুন্দরবন ছাড়া এই বাষ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এছাড় আছে ঝাঁকে ঝাঁকে চিত্রল হরিণ, বানর, শূকর, বনমোরগ, অজগরসহ নানা প্রকার বন্যপ্রাণী। সুন্দরবনে অবস্থানকালে পর্যটকদের ঘুম ভাঙাবে অগুনতি পাখির কল-কাকলীতে যা একজন পর্যটককে স্বপ্নিল আবেশে মুগ্ধ করতে পারে।

চা বাগান ও জলপ্রপাত: সিলেট অঞ্চলের চা বাগানগুলোও বেশ সৌন্দর্যমণ্ডিত। যা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।

জাফলংয়ের জলপ্রপাত, হায়কের পাথর কেয়ারী নয়নভোলানো স্থান। এছাড়া তামাবিল, চট্টগ্রামে ফয়েজ লেক, যমুনা সেতু ইত্যাদি পর্যটনের স্থান হিসেবে বেশ সমাদৃত।

উপসংহার: পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরে উন্নত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ৭ম শতকে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন: 'A sleeping beauty emerging from mists and water. এই টাচ্ছ্বসিত প্রশংসাকে সর্বদা ধরে রাখার মাধ্যমে পঘটন শিল্পের বিকাশের দায়িত্ব আমাদের। সরকারের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি উদ্যোগে বিকাশ ঘটাতে পারি পর্যটন শিল্পের। আমর সম্মিলিতভাবে যদি প্রচেষ্টা চালাই তাহলেই অচিরেই পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিবে। আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমিকে অনিবার ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলি। আর জগদ্বাসীকে আপন করে গ্রহণ করি নিজের দেশে পরম আতিথেয়তায়।

1 year ago

বাংলা

📘 এইচএসসি বাংলা বই (২০২৫) – ১ম ও ২য় পত্র | NCTB PDF + স্মার্ট প্রস্তুতি

আপনি কি এইচএসসি বাংলা বই খুঁজছেন অনলাইনে পড়ার বা PDF ডাউনলোড করার জন্য? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

Satt Academy–তে আপনি পাবেন ২০২৫ সালের NCTB (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) অনুমোদিত বাংলা বইয়ের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ – সরাসরি টেক্সট ফরম্যাটে, অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো, যা মোবাইল বা যেকোনো ডিভাইসে পড়ার জন্য সহজ এবং দ্রুত


📖 আপনি যা পাচ্ছেন:

✅ বাংলা ১ম ও ২য় পত্র বইয়ের সম্পূর্ণ টেক্সট
✅ অধ্যায়ভিত্তিক আলাদা লিংক – পড়তে ও বুঝতে সহজ
✅ ইন্টারনেট স্লো হলেও দ্রুত লোড হয়
✅ পাঠ্যক্রম অনুযায়ী কনটেন্ট বিন্যাস
✅ PDF ছাড়াও টেক্সট ফরম্যাটে ব্যবহারযোগ্য
✅ একদম ফ্রি, অ্যাপ ছাড়াই পড়া যায়


📘 বাংলা ১ম পত্রে যা রয়েছে:

  • কবিতা, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ
  • লেখক পরিচিতি ও সাহিত্য বিশ্লেষণ
  • ব্যাখ্যা সহ পাঠ উপস্থাপন

📗 বাংলা ২য় পত্রে যা রয়েছে:

  • ব্যাকরণ (কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, বচন ইত্যাদি)
  • ভাষা ব্যবহার, রচনা, পত্র, অনুচ্ছেদ
  • সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরের প্রস্তুতি

📥 সরকারি NCTB PDF ডাউনলোড লিংক

আপনি চাইলে মূল PDF ফাইল NCTB-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারেন:

🔗 বাংলা ১ম পত্র PDF ডাউনলোড
🔗 বাংলা ২য় পত্র PDF ডাউনলোড


🎯 শুধু বই নয়, পূর্ণ প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম

Satt Academy শুধুমাত্র বই পড়ার সুযোগই দিচ্ছে না, বরং একটি স্মার্ট, ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রস্তুতির সিস্টেম তৈরি করেছে।

🎥 টপিকভিত্তিক ভিডিও কোর্স

  • প্রতিটি অধ্যায়ের ব্যাখ্যা, উদাহরণসহ ভিডিও
  • অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা উপস্থাপিত

🧪 আনলিমিটেড লাইভ টেস্ট

  • অধ্যায়ভিত্তিক কুইজ
  • বোর্ড স্টাইলে প্রশ্ন
  • রিয়েল-টাইম মার্কিং

📝 ধারাবাহিক মডেল টেস্ট

  • বোর্ড পরীক্ষার মতো সিমুলেশন
  • সময় ধরে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস

📊 স্টাডি ট্র্যাকিং ও Mark-as-Read

  • কোন অধ্যায় পড়েছেন তা টিক দিয়ে রাখতে পারবেন
  • ব্যক্তিগত অগ্রগতি ও প্রস্তুতির বিশ্লেষণ

🎓 বাংলাদেশে প্রথমবার এইচএসসি পর্যায়ের জন্য এমন ইন্টিগ্রেটেড প্রস্তুতি ইকোসিস্টেম।


🆓 ১০০% ফ্রি | 📱 মোবাইল-ফ্রেন্ডলি

আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা সবার নাগালে পৌঁছানো উচিত।
এই কারণেই SATT Academy–তে আপনি পাচ্ছেন বিনামূল্যে এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য শিক্ষাসামগ্রী – যেকোনো সময়, যেকোনো ডিভাইসে।


🔍 সার্চ ফ্রেন্ডলি কিওয়ার্ড (SEO Keywords):

এইচএসসি বাংলা বই ২০২৫

hsc bangla book pdf download

nctb hsc bangla 1st paper

hsc bangla grammar book

bangla 2nd paper book class 11-12

hsc bangla online read

hsc bangla video course

hsc live test bangladesh

hsc model test online

study tracking hsc

mark as read bangla book

smart hsc preparation


👉 এখনই পড়া শুরু করুন

আপনার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হোক জ্ঞানভিত্তিক, গাইডভিত্তিক এবং প্রযুক্তিভিত্তিক
Satt Academy–র সাথে থাকুন, প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ হোক সহজ ও সুনিশ্চিত।

🎓 SATT Academy – শিক্ষার পথ সহজ করি, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য

Content added || updated By

Related Question

View More
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...