একচেটিয়া কারবারে বিবেচ্য দ্রব্যের কোনো নিকট পরিবর্তক না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে। একচেটিয়া কারবারে ফার্মকে দাম সৃষ্টিকারী বলা হয়। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য কেবল একটিমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়। তাই একচেটিয়া কারবারি দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে বা কমিয়ে দ্রব্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে একচেটিয়া কারবারি তার ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC) এর চেয়ে গড় আয় (AR) বেশি হওয়ায় অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জিত হয়। নিচে ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন ও মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য অনুসারে অঙ্কিত উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে MC = MR এবং MR এর ঢাল অপেক্ষা MC-এর ঢাল বেশি হয়। ফলে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জিত হয়। এ অবস্থায় ভারসাম্য উৎপাদনের পরিমাণ OQ, এবং ভারসাম্য দাম OP,। OQ, পরিমাণ উৎপাদনে ফার্মটির গড় ব্যয় হয় OP।। ফলে ফার্মটির
মোট আয়, TR = OPOX OQo
= OPEQO
এবং মোট ব্যয়, TC = OP₁× OQD
= OPFQo
সুতরাং মুনাফা, π = TR – TC
= OPEQ- OPFQo
= POEFP1
অর্থাৎ, প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন OQ০ এবং মুনাফার পরিমাণ PoEFP, যা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অস্বাভাবিক মুনাফাকে নির্দেশ করে।
বর্ষার সময় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC)-এর চেয়ে গড় আয় (AR) কম হওয়ায় ফার্মটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বর্ষার পানিতে ঘাস ডুবে যাওয়ায় ফার্মটির গড় ব্যয় রেখা AC থেকে উপরে AC, এ স্থানান্তরিত হয়। এতে গড় ব্যয় OP হতে বেড়ে OP₂ হয়। এ অবস্থায় গড় ব্যয় OP: তে ভারসাম্য দাম OP, এর চেয়ে বেশি হয়। ফলে বর্ষার সময় ফার্মটির উৎপাদন OQ, দাম OP, এবং গড় ব্যয় OP₂। সুতরাং-
মোট আয়, TROQX OP
=OPEQ
এবং মোট ব্যয়, TC-OQ OP
x= OPGQ
সুতরাং, মুনাফা, TR-TC
OPEQOP GQ
=-POPGE
সুতরাং ফার্মটির ক্ষতির পরিমাণ PP-GE হবে। এমতাবস্থায় ফার্মটির গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (AVC) যদি গড় আয়ের চেয়ে কম হয়। তবে ফার্মটি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে। আর যদি AVC > AR হয়, তবে ফার্মটি উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত ফার্মটি বর্ষার সময় POP-GE পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং প্রচলিত দামের ওপর কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না বলে একে দামগ্রহীতা বলে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। এই দামকে মেনে নিয়ে একটি ফার্ম বাজারের মোট যোগানের সামান্য অংশ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। বাজারের প্রচলিত দামের ওপর এককভাবে কোনো ফার্ম প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি ফার্মকে দামগ্রহীতা বলা হয়।