নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরবাটা গ্রামের দরিদ্র চাষি নওয়াব আলী। পূর্বে তার জমিতে পর্যাপ্ত উৎপাদন হতো না। তাই তিনি চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জমির ফলন বৃদ্ধির অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। তবে বর্তমানে নওয়াব আলীর আর অর্থকষ্ট নাই। তার দুই ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। বড় ছেলে আরাফ বাবার জমিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে আলু, পটোল, ঢেঁড়শ, ঝিঙা প্রভৃতি উৎপাদন করে প্রচুর আয় করে। অন্যদিকে ছোট ছেলে জারাফ গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি প্রতিপালন করে। জারাফও দুধ, ডিম, মাংস বিক্রি করে প্রচুর আয় করে। আরাফ ও জারাফের কার্যক্রম দ্বারা চরবাটা গ্রামের জনগণও উপকৃত হচ্ছে।
আরাফ ও জারাফের কার্যক্রম দ্বারা চরবাটা গ্রামের জনগণ যেভাবে উপকৃত হচ্ছে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
চরবাটা গ্রামে আরাফ তার বাবার জমিতে আলু, পটোল, ঢেঁড়শ, ঝিঙা উৎপাদন করে। এসব ফসল খাদ্যশস্য হিসেবে পরিচিত। আরাফ এসব ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে উক্ত গ্রামের খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাচ্ছে। এর ফলে চরবাটা গ্রামের মানুষের পুষ্টির চাহিদা এমনকি দৈনন্দিন খাবারে সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এসব খাদ্যশস্য বিক্রি করে আরাফ প্রচুর অর্থ আয় করে। এছাড়া তার এ কার্যক্রমে অনেকের কর্মসংস্থানও হতে পারে, যা ঐ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারে। এসব জমি চাষাবাদে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হয়।
আরাফের ভাই জারাফ গ্রামে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি প্রতিপালন করে। এগুলো থেকে সে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রি করে। দুধ, ডিম, মাংস মানুষের শরীরে আমিষের চাহিদা মেটায়। গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের পুষ্টির চাহিদা মেটায়। এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। আবার জারাফের খামারে অনেক লোক কাজ করতে পারে। এই কাজের মাধ্যমে তাদের পরিবারও স্বাবলম্বী হতে পারে।
অতএব বলা যায়, আরাফ ও জারাফের কার্যক্রমের মাধ্যমে চরবাটা গ্রামের মানুষের খাদ্যচাহিদা, পুষ্টিচাহিদা পূরণ হয়।
আবার তাদের খামারে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারগুলো স্বাবলম্বীও হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য থাকে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?