রায়হানের খালাতো ভাই আসাদ ও পাশের বাসার মিজান ঢাকায় একই বাসায় থেকে ব্যবসা করেন। রায়হানের মা অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলো। এমতাবস্থায় অন্য লোকের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া গেলেও আসাদ ও মিজান কোনো খোঁজখবর নেয়নি।
আসাদের আচরণে আত্মীয়ের অধিকার পালন হয়নি। কারণ রায়হানের মা আসাদের আপন খালা। তার খালা অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলেও আসাদ তাকে দেখতে যায়নি। অথচ আত্মীয়ের অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো কোনো আত্মীয় অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা দেওয়া, সেবা দেওয়া, বিপদে সাহায্য করা। কিন্তু আসাদ তা করেনি। সে স্বার্থপরের মতো নিজের কাজে ব্যস্ত ছিল। তাই বলা যায়, আসাদের কাজে আত্মীয়তার অধিকার পালিত হয়নি।
মহান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা হিসেবে পাঠিয়েছেন। মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন সুন্দর আচার-আচরণ। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব আচার- ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ ঘটে সেসবের সমষ্টিই আখলাক। এটি শুধু মানুষের সাথেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং জীবজন্তু, পশুপাখি, গাছপালা ও পরিবেশের সাথেও সুন্দর আচরণ প্রয়োজন।
মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার এবং সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে। কখনো আখলাক (আচরণ) প্রশংসনীয় হয় আবার কখনো নিন্দনীয় হয়। প্রশংসনীয় আচরণকে আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র বলে। আর নিন্দনীয় আচরণকে আখলাকে যামিমাহ্ বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা প্রশংসনীয় আচরণগুলো হলো সত্যবাদিতা, পিতামাতার প্রতি উত্তম ব্যবহার, শিক্ষকদের সম্মান করা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠীদের সাথে সদাচরণ, বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটোদের প্রতি স্নেহ ইত্যাদি।
আখলাকে যামিমাহ্ বা নিন্দনীয় আচরণগুলো হলো মিথ্যা কথা বলা, পরনিন্দা করা, আমানতের খিয়ানত করা, গালি দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ইত্যাদি। প্রতিটি মানুষের আখলাকে হামিদাহ্ অর্জন ও আখলাকে যামিমাহ্ বর্জন করা উচিত। আমরা আখলাকে হামিদাহ্ অর্জন করব এবং আখলাকে যামিমাহ্ বর্জন করব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?