'ক' অঞ্চলের এক ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী যুদ্ধে বিদেশি শক্তি উত্ত অঞ্চলের স্থানীয় অমর্তদের সহযোগিতায় ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অনুপ্রেণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শাসককে পরাজিত করে প্রত্যক্ষভাবে শাসন কার্যে অংশগ্রহণ না করে পরোক্ষভাবে শাসন করতে থাকে এবং ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ফলে উক্ত অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হয় এবং এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা গ্রহণ অর্থাৎ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা-ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি সনদের মাধ্যমে লর্ড ক্লাইভ বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া অধিকার প্রাপ্ত হন। আবার, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য ক্লাইভ এ দেশে একটি অভিনব শাসনব্যবস্থা চালু করেন, যা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। এতে দেওয়ানি ও দেশ রক্ষা ব্যবস্থা থাকে কোম্পানির হাতে এবং বিচার ও শাসনভার থাকে নবাবের হাতে। উদ্দীপকেও ক্ষমতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির এ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
কোম্পানির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীগনের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছিল; দ্বৈতশাসন অনুসারে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব কোম্পানির হাতে ন্যস্ত হওয়ায় কোম্পানির কর্মচারি ও বণিকরা রাতারাতি প্রশাসক বনে যায়। এসব তথাকথিত প্রশাসকদের ভারতীয় রাজস্ব রীতিনীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় ইংল্যান্ডের রীতিনীতি ভারতে প্রয়োগ করতে থাকেন। এতে প্রশাসনিক জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করে। পি ই রবার্টস বলেন, বাংলার নবাব এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মদ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল খুবই জটিল এবং দুর্বোধ্য; দ্বৈতশাসনের ফলে রাজনৈতিক ও পরোক্ষভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতালাভের সাথে সাথে কোম্পানির কর্মচারীদের অবৈধ ব্যবসায়-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। দ্বৈতশাসন বাংলায় কোম্পানির চরম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বৈদেশিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলার জন্য নবাবকে কোম্পানির সাহায্যের উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়। দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব সরাসরি আদায় করার ক্ষমতা অর্জন করে। তাছাড়া নায়েব সুবাদার নিয়োগ করার ক্ষমতা কোম্পানি সংরক্ষণ করার সুবাদে নিয়ামতের সাধারণ প্রশাসনের উপর কোম্পানির চরম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়; এবং দ্বৈতশাসনে নবাবের পক্ষে রেজা খান রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে। সুতরাং বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?