Academy

বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছে। এ অনুষ্ঠান ধর্ম-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলে পালন করে থাকে। মুঘল আমলে এমন একজন শাসক ছিলেন যিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণির সমর্থন আদায়ের জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছিলেন।

'উক্ত নীতি গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হলো সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা' এর পক্ষে যুক্তি দেখাও। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

উত্ত নীতি অর্থাৎ দীন-ই-ইলাহী গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হলো সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা উক্তিটি যথার্থ।

সম্রাট আকবরের দীন-ই-ইলাহী নামক ধর্মনীতির প্রবর্তন তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। তার প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহী ছিল একেশ্বরবাদী ধর্ম। এ ধর্মমতের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে সকল ধর্মের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টি করে মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধান করা

ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর আবাসস্থল। এই স্থানে সুদৃঢ় সাম্রাজ্য স্থাপনে সকল ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এটি সম্রাট আকবর ভালভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এজন্য তিনি মুঘল সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসার জন্য দীন-ই-ইলাহী নামে নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। সম্রাট ভেবেছিলেন এ ধর্মমত প্রবর্তনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ভারতে স্থায়ী মুঘল আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত জরুরি। ভারতে মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের স্বার্থে হিন্দু মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সম্রাট ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণ করেছিলেন। আর মি. মজুমদারের মতে, 'আকবরের সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ডার ধর্মচিন্তাকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছিল'। ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, আকবরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল তার সাম্রাজ্যের সকলকে একটি কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করা।

উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা।

2 months ago

ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন (১৫২৬-১৮৫৮ খ্রি.)

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...