মহব্বত সাহেব প্রচুর ধনসম্পদের মালিক। তিনি সকল সম্পত্তির আয় ব্যয়ের বাৎসরিক হিসাব রাখেন। কেননা গচ্ছিত সম্পত্তি ও অর্থের উপর তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দান খয়রাত করতে হয়। উক্ত ব্যক্তির এ দান সমাজে শান্তি সৃষ্টি করে।
উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ যাকাত ব্যবস্থা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে-উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যাকাত ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে সম্পদ সমাজের মুষ্টিমেয় লোকদের মধ্যে কুক্ষিগত হতে পারে না। সামাজিক ক্ষেত্রে যাকাত দরিদ্রতা দূর করে সামাজিক সংহতি, প্রগতি ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার উত্তম পন্থা হলো যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। যাকাত সম্পদশালীদের লোভ-লালসা এবং সম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করে। সমাজের অসহায়, বঞ্চিত ও নিঃস্ব শ্রেণির কল্যাণে সম্পদশালীদের সচেতন করে তোলে। যেকোনো রাষ্ট্রে যাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলে মানুষ জমানো
টাকা অলসভাবে ফেলে না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পকারখানায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে। এতে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবার সম্ভাবনা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বেকার সমস্যা হ্রাস, উৎপাদন বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ পুঁজি গঠন ইত্যাদি বহুমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইসলামি বিধান মোতাবেক পরিকল্পিত উপায়ে যাকাত সংগ্রহ এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাজের অসংখ্য দরিদ্র শ্রেণিকে আর্থিক দিক দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে আসবে এবং মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মহব্বত সাহেব দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের যাকাত প্রদান করেন। তার দানকৃত যাকাতের অর্থ দরিদ্র ব্যক্তিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে। এর ফলে বিদ্যমান নানা সমস্যা দূর হয়ে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত যাকাত ব্যবস্থা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?