Academy

মহব্বত সাহেব প্রচুর ধনসম্পদের মালিক। তিনি সকল সম্পত্তির আয় ব্যয়ের বাৎসরিক হিসাব রাখেন। কেননা গচ্ছিত সম্পত্তি ও অর্থের উপর তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দান খয়রাত করতে হয়। উক্ত ব্যক্তির এ দান সমাজে শান্তি সৃষ্টি করে। 

উক্ত ব্যবস্থা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 11 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ যাকাত ব্যবস্থা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে-উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

যাকাত ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে সম্পদ সমাজের মুষ্টিমেয় লোকদের মধ্যে কুক্ষিগত হতে পারে না। সামাজিক ক্ষেত্রে যাকাত দরিদ্রতা দূর করে সামাজিক সংহতি, প্রগতি ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার উত্তম পন্থা হলো যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। যাকাত সম্পদশালীদের লোভ-লালসা এবং সম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করে। সমাজের অসহায়, বঞ্চিত ও নিঃস্ব শ্রেণির কল্যাণে সম্পদশালীদের সচেতন করে তোলে। যেকোনো রাষ্ট্রে যাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলে মানুষ জমানো

টাকা অলসভাবে ফেলে না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পকারখানায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে। এতে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবার সম্ভাবনা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বেকার সমস্যা হ্রাস, উৎপাদন বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ পুঁজি গঠন ইত্যাদি বহুমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইসলামি বিধান মোতাবেক পরিকল্পিত উপায়ে যাকাত সংগ্রহ এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাজের অসংখ্য দরিদ্র শ্রেণিকে আর্থিক দিক দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে আসবে এবং মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।

উদ্দীপকে বর্ণিত মহব্বত সাহেব দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের যাকাত প্রদান করেন। তার দানকৃত যাকাতের অর্থ দরিদ্র ব্যক্তিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে। এর ফলে বিদ্যমান নানা সমস্যা দূর হয়ে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। 
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত যাকাত ব্যবস্থা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

10 months ago

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

2 লঙ্কারখানা বলতে কী বোঝ? (অনুধাবন)

Created: 11 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।

উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।

সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।

সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...