নিচে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের একটি তথ্য প্রদান করা হলো- (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
| বছর | প্রাথমিক দ্রব্য রপ্তানি | শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি |
| ২০১০-১১ | ১৩১৬ | ২১৬১২ |
| ২০১১-১২ | ১২৬৭ | ২৩০৩৫ |
| ২০১২-১৩ | ১৩১০ | ২৫৭১৭. |
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারার উপর মন্তব্য করা হলো-
গতি স্বল্প হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ক্রমেই বাড়ছে। উদ্দীপক থেকে তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে ২০১০-১১ অর্থবছরে শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি আয় ২১,৬১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৫,৭১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমানে প্রচলিত পণ্যের রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় রপ্তানি আয় এদিকে থেকে একটু কম। বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত দ্রব্য এবং চা জাতীয় প্রচলিত পণ্যের রপ্তানি অনেক হ্রাস পেয়েছে। সেই তুলনায় আবার অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদেশে তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, জুতা, কাগজ, শাকসবজি ইত্যাদি রপ্তানি অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের স্বল্পতার কারণে রপ্তানি বাণিজ্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এদেশের তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য ও চামড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫% উপার্জন করে। এর মধ্যে বর্তমানে শিল্পজাত দ্রব্যের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ে শিল্পজাত দ্রব্যের অবদান ৯৫.৯%।
আবার এদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ বলে এখান থেকে দক্ষ-অদক্ষ জনশক্তিও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসছে। তবে এদেশের জনশক্তি বেশিরভাগই অদক্ষ বলে এদের মজুরিও কম হয়ে থাকে।অন্যদিকে নিজ দেশে শ্রমঘন প্রযুক্তিতে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদিত হয় বলে সেসব দ্রব্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক কম। তবে আশার কথা এই যে, বর্তমানে বাংলাদেশ পাউন্ড-স্টার্লিং এলাকাসহ ডলার, ইউরো এলাকার সাথেও বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। এর ফলে রপ্তানি বাণিজ্য যেমন সম্প্রসারিত হয়েছে তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?