আমিনুর সাহেব পনেরো বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। নিজ গ্রামে এসে দেখেন যে, আগের থেকে গ্রামের অনেক জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। যুবক ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া না করে অলস সময় পার করছে। শিক্ষিত অনেক যুবক বেকার বসে আছে। আর গ্রামের মেয়েদের চৌদ্দ-পনেরো বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে অভিভাবরা। তিনি যুবকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন এবং বছরখানেক পরেই গ্রামের চিত্র পরিবর্তন হয়ে গেল। এখন গ্রামে কেউই বেকার বসে নেই এবং একই সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে গেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আমিনুরের গ্রামে অধিক জনসংখ্যা বর্তমানে আশীর্বাদ বলে আমি মনে করি। নিচে এ সম্পর্কে আমার মন্তব্য দেওয়া হলো-
অর্থনীতিতে জনসংখ্যাকে একই সাথে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ জনসংখ্যা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধারও সৃষ্টি করে। যেসব দেশ বা অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা কম, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও স্বল্প সেসব স্থানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য। আবার যেসব দেশ বা অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অধিক, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি, সেসব স্থানে জনসংখ্যা অভিশাপ হিসেবে গণ্য। উদ্দীপকের আমিনুরের গ্রামে অধিক জনসংখ্যাকে বর্তমানে আমি আশীর্বাদ মনে করি, কারণ যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেকোনো দেশের প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে জনশক্তির প্রয়োজন। আবার অধিক জনসংখ্যার ফলে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়। এছাড়া উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সৃষ্টি করে এসব জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়; এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। এছাড়াও জনসংখ্যা অধিক হলে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি পায়। ফলে কল-কারখানায় শ্রম বিভাগ প্রবর্তন ও বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভম্ব হয়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?