তানজিম, বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ খ্যাত দেশের বাসিন্দা। সে সূর্যোদয়ের দেশে পড়াশুনা করতে গিয়ে সে দেশের বসতির ধরন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা দেখে বিমোহিত হয়।
উদ্দীপকে তানজিমের নিজ দেশ হলো বাংলাদেশ এবং ভ্রমণকৃত দেশ হলো জাপান। ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু ভিন্ন হওয়ায় এ দুই দেশের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশে শিল্পের পরিবেশ তেমন উন্নত নয়। তাই এ দেশ শিল্পে সমৃদ্ধ নয়। তবুও বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকার কারণে এ দেশে ছোট বড় অনেক শিল্প গড়ে উঠেছে। পাট, বস্ত্র, চিনি, সিমেন্ট, সার, পোশাক শিল্প এ দেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প। বাংলাদেশে প্রচুর আখ উৎপন্ন হওয়ায় চিনি শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশের কয়েকটি স্থানে চুনাপাথর আবিষ্কৃত হওয়ায় সিমেন্ট শিল্প কিছুটা উন্নত হয়েছে। এভাবে বিভিন্নভাবে কাঁচামালের লভ্যতার কারণে এদেশে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। তবে এদেশ পোশাক শিল্পে বেশ উন্নত। সস্তা শ্রমিক ও কাঁচামালের সহজপ্রাপ্ততার কারণে এ দেশে পোশাক শিল্প বেশ উন্নতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে পোশাক শিল্পই প্রথম।
অন্যদিকে জাপান এশিয়া মহাদেশের 'উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। জাপানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। জাপানের পরিবেশ শিল্পের জন্য অনুকূল হওয়ায় এ দেশ একটি শিল্পোন্নত দেশ। আর্দ্র জলবায়ু, সুলভদক্ষ শ্রমিক, পর্যাপ্ত পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন সুবিধা, পর্যান্ত মূলধন সরবরাহের উৎসাহ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এদেশের শিল্পকে আরও উন্নত করেছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে এদেশের শিল্পজাত পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কাঁচামালের সহজল্যতার দরুন এদেশে কার্পাস ও বয়ন, রেশম, লৌহ-ইস্পাত, জাহাজ, কাগজ প্রভৃতি শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ায় এদেশে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পও গড়ে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন পরিবেশের ভিন্নতায় তানজিমের নিজ দেশ বাংলাদেশ ও ভ্রমণকৃত দেশ জাপানে ভিন্ন ভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?