গ্রামের বাজারে সিয়ামের একটি ওষুধের দোকান আছে। তার ওষুধ ব্যবসার লাইসেন্স নবায়নের জন্য ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে এলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেন। আবেদন জমা দেওয়া মাত্র কিছুদিন পর তার মুঠো ফোনে একটি ক্ষুদ্র বার্তা আসে। তাতে বলা হয় তার লাইসেন্স নবায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া তার ওষুধ ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন হয়ে যাওয়ায় সে খুব খুশি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়া তথা ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন কারণে এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উন্নয়নশীল দেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। উদ্দীপকের সিয়াম সাহেব তার ওষুধ ব্যবসার লাইসেন্স নবায়নের জন্য ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে এলেন। কিছুদিনের মধ্যেই কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া তার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল। এটি সম্ভব হয়েছে ই-গভর্নেন্সের কারণে। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি ও পৃষ্ঠপোষকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ পদ্ধতিতে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি ডাটাবেস থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে এরূপ কোনো ডাটাবেস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার ও বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব না দেওয়া, উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট ও নিম্নমানের গতি, বিদ্যুৎ সমস্যা, পেশাদারিত্ব ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবহেলা, শিক্ষার অভাব, তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি উদাসীনতা, খুচরা যন্ত্রাংশ ও বিক্রয়োত্তর সেবা সহজলভ্য না হওয়া ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতার কারণেও ই-গভর্ন্যান্স প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ সেবা জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে চাইলে উপরিউক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ আগে দূরীভূত করা প্রয়োজন। অন্যথায় ই-গভর্নেন্সের সেবা সবাই উপভোগ করতে পারবে না।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?