Academy

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যুবরাজ আলাল রাজ্যহারা হন। বাস্তুচ্যুত যুবরাজ প্রায় অর্ধযুগ ধরে আশ্রয়ের সন্ধানে পথে-প্রান্তরে ঘুরতে থাকেন। অবশেষে বহু প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এ যুবরাজ দূরবর্তী অঞ্চলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় লাভ করেন। অতঃপর রাজনৈতিক গোলযোগের সুযোগ নিয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী রাজ্যে আক্রমণ চালিয়ে তা দখল করে নেন এবং স্বীয় বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিহিংসার স্বরূপ প্রথম আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রে কীরূপ ছিল? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিহিংসার স্বরূপ প্রথম আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই রকম ছিল।

উমাইয়া ও আব্বাসি দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিনের। তাদের যে কোনো এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসলে অন্যদের চরমভাবে দমন-পীড়ন চালাত। উমাইয়াদের সরিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসলে আব্দুর রহমান ভাগ্য বিপর্যয়ের শিকার হন।
উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের নৃশংসভাবে হত্যা শুরু করে। এই নৃশংসতার হাত থেকে কেবল উমাইয়া যুবরাজ আব্দুর রহমান রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে গিয়ে উত্তর আফ্রিকার সিউটায় মামার আশ্রয় লাভ করেন এবং একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যুবরাজ আলাল যেমন রাজ্য হারা হন, একইভাবে আব্বাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রথম আব্দুর রহমান নিজ বাস্তুভূমি ত্যাগ করে পলায়ন করতে বাধ্য হন। দীর্ঘকাল পথে-প্রান্তরে ঘুরে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি নিজেকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুবরাজ আলালের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এবং আব্বাসিদের ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতায় প্রথম আব্দুর রহমানের ভাগ্য বিপর্যয়ের ঘটনা একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।

2 months ago

স্পেনে উমাইয়া শাসন

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

প্রথম আব্দুর রহমানের অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেন।
প্রথম আব্দুর রহমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার প্রদর্শনে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি তার গতিপথের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে একক শক্তি দিয়ে নির্মূল করতেন। আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের বিরুদ্ধে খলিফা আল মনসুর একটি অভিযান প্রেরণ করেন। আদ-দাখিল আল মনসুরের সেনাপতিকে পরাজিত করে তার ছিন্ন মস্তক ও একটি চিঠিসহ আল মনসুরের দরবারে প্রেরণ করেন। তার এ অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেছেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত যুবরাজ আলালের মতো প্রথম আব্দুর রহমানও নিজ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।

আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা। বর্বর ইয়েমেনি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং সামাজিক দক্ষতার বলে এ সকল বিপদ হতে তিনি মুসলিম রাজ্য স্পেনকে মুক্ত করতে সমর্থ হন। যদিও তিনি একসময় আব্বাসীয়দের অত্যাচারের শিকার হয়ে পালিয়ে স্পেনে এসেছিলেন। উদ্দীপকের আলালও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাজ্যহারা হন এবং পুনরায় নিজেকে সুসংগঠিত করে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।

উদ্দীপকে আলাল রাজ্য দখলের ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন ঠিক একই ধরনের কৌশলের মাধ্যমে আব্দুর রহমানও স্পেন দখল করেন। শুধু কৌশল বা শান্তি প্রস্তাব নয়, আব্দুর রহমান আদ-দাখিলকে 'মাসারা' নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। এ যুদ্ধে স্পেনের শাসক ইউসুফ আল ফিহরি পরাজিত হলে আব্দুর রহমান স্পেন দখল করেন। স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফ আল ফিরির কুশাসনে রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। সিমারীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুর রহমানকে স্পেন আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে যান। তিনি বাবার, নির্যাতিত মুদারীয়দের ঐক্যবন্ধ করেন। ফলে তার শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মুন্যে জয়লাভ করে স্পেনে আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। আব্দুর রহমান যেমন রাজ্য দখল ও জনগণের মন জয় করেছিলেন, উদ্দীপকের আলালের ক্ষেত্রেও তা লক্ষণীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের আলাল খলিফা আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের ন্যায় বিজিত অঞ্চলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।

4 আদ-দাখিল বলা হয় কাকে (জ্ঞানমূলক)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago

স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আব্দুর রহমানকে আদ-দাখিল বলা হয়।

মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসক কাউন্ট জুলিয়ানের আমন্ত্রণ পেয়ে খলিফা আল ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে মুসা ইবনে নুসায়ের সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে স্পেনে পাঠান। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে তারিক রাজা রডারিকের সম্মুখীন হন। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পর তারিক বিজয় লাভ করেন এবং রডারিক পরাজিত হয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারান। তারিকের সুদক্ষ রণকৌশল আর সাহসী মনোভাবে স্পেনে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হয়। এ কারণেই তিনি ইতিহাসে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডের সাথে আমার পঠিত স্পেনের উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ-দাখিল-এর কাজের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

স্পেনে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠায় আব্দুর রহমান আদ-দাখিল অনন্য ভূমিকা পালন করেন। ক্ষমতায় আরোহণ করেই সাম্রাজ্যের সংহতি রক্ষায় তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি স্পেনে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। শিল্পকলা, স্থাপত্যশিল্প এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি অপরিসীম অবদান রেখেছেন। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ফজলুল হক বাদশাহ জনগণের কল্যাণে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিসহ সাম্রাজ্যের উন্নয়নে তিনি নানা ধরনের পদক্ষেপ নেন। ঠিক একইভাবে আব্দুর রহমান আদ-দাখিল ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে 'মাসারা' নামক যুদ্ধে স্পেনের শাসনকর্তা ইউসুফকে পরাজিত ও নিহত করে স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করে নেন। ক্ষমতায় আরোহণ করে তিনি স্পেনের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সমগ্র রাজ্যকে ছয়টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। তিনি জনসাধারণের সুবিধার্থে একটি বৃহৎ অনিন্দ্য সুন্দর জলাধার নির্মাণ করেন। তার নির্মিত কর্ডোভা মসজিদটি ছিল তৎকালীন স্পেনীয় মুসলমানদের জন্য গৌরবের। এছাড়াও অসংখ্য মসজিদ, হাম্মাম, দুর্গ, পুল নির্মাণ করে তিনি মুসলিম ইতিহাসে অনন্যকীর্তি স্থাপন করেছেন। তাই বলা যায়, আব্দুর রহমানের এ কাজগুলোর সাথে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...