জনাব হাসান আলী ক্ষমতা লাভ করার পর দেশে শান্তি- শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ববর্তী শাসকের সময়ে নিয়োগকৃত অধিকাংশ প্রাদেশিক গভর্নরকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেন। দেশের স্বার্থে সবাই তাঁর আদেশ মেনে নিয়ে পদত্যাগ করলেও একজন প্রাদেশিক গভর্নর পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। হাসান সাহেব তাঁকে অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারি সম্পদ ফেরৎ দিতে বলেন। সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকায় তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও হাসান আলী প্রতিপক্ষের কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে যান।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা আমার পঠিত সিফফিনের যুদ্ধের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
হযরত আলী (রা)-এর খিলাফতকাল ছিল আন্তঃবিপ্লব ও গোলযোগে পরিপূর্ণ। এ সময় হযরত ওসমান (রা)-এর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তিনটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এগুলোর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ একটি। উদ্দীপকের বর্ণনায় এ যুদ্ধের ঘটনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলী, আশরাফ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। গভর্নর মুহিব ব্যতীত সকলে তার নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখান। এছাড়া আলী আশরাফ মুহিবের সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে আলী আশরাফ ও মুহিবের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সিফফিনের যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষণীয়। হযরত আলী (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়েই শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে হযরত ওসমান (রা) এর সময়কার প্রাদেশিক গভর্নরদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। সকল গভর্নর তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলেও সিরিয়ার গভর্নর আমির মুয়াবিয়া এ সিদ্ধান্ত মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে দুর্নীতি করে রাজকোষের অর্থের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। হযরত আলী (রা) এসব সম্পত্তি পুনরায় রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে মুয়াবিয়ার স্বার্থে আঘাত লাগে। ফলে তিনি আলী (রা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে আলী (রা)-ও যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ফলে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের সংঘর্ষ সিফফিনের যুদ্ধেরই ইজিাত বহন করে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?