বিশ শতকের শেষের দিকে দুটি দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্বসভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এ যুদ্ধাবস্থার উদ্ভব যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি বিশ শতকের শেষের দিকে এসে যুদ্ধাবস্থার অবসান একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা বলতে স্নায়ুযুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আশির দশকে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা কমতে কমতে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। ১৯৮৭সালে দুই পরাশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ ধ্বংস করতে দুই পরাশক্তি ঐকমত্যে পৌঁছে। অতঃপর ১৯৮৯ সালের ২ এপ্রিল নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক নিবন্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের ঘোষণা প্রদান করে। ঐ বছরেরই ৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ মাল্টায় শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। এ শীর্ষ সম্মেলন থেকে উভয়ে উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ শতকে একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্ব সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের কথাই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?