Academy

রফিক সিডরে মারা যাওয়ায় তার পরিবার অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় রফিকের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চলে না। এমন কি স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতারও শিকার হচ্ছে। উপরন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের ব্যয়ভার মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। 

উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাসমূহ মোকাবেলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 10 months ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago
Ans :

উদ্দীপকে রফিকের পরিবারের মাধ্যমে নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যার কথা উঠে এসেছে যেগুলো মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম রয়েছে।

শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানেও সব নাগরিকের শিক্ষা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া সরকারিভাবে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ, মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খাতে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আওতায় সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথম থেকে উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্দীপকের রফিকের পরিবারে নিরক্ষরতা ছাড়াও স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যাও লক্ষ করা যায়। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১১-১৬ মেয়াদে ৫১,০৮২.৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত উন্নয়ন কর্মসূচি-Health, Population & Nutrition Sector Development Programme (HPNSDP) শীর্ষক তৃতীয় সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে (মোট ৪৮২টি হাসপাতাল) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ভিটামিন এ ক্যাপসুল সপ্তাহ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এসএমএস এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও চালু আছে। এ খাতে সরকার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার বিভিন্ন ভাতা বাবদ ২৩,৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।

সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কর্মসূচিগুলো ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

10 months ago

বাংলাদেশে মৌলিক মানবিক চাহিদা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

2 চাহিদা বলতে কী বোঝ? (অনুধাবন)

Created: 10 months ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

কোন কিছুর প্রয়োজন পূরণের বিশেষ তাগিদ অনুভব করা হলো চাহিদা।

চাহিদা হলো অবশ্য পূরণীয় প্রয়োজন। নিজের জীবন রক্ষার জন্য মানুষকে যেসব প্রয়োজন অবশ্যই পূরণ করতে হয় সেসবই চাহিদা।
মানুষের দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন চাহিদার মধ্যে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের চাহিদার কোন অন্ত নেই।

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

বস্ত্র মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা। এটি মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের বিকাশে বস্ত্রের গুরুত্ব অত্যধিক। মানবসভ্যতার প্রথম নির্দেশক হিসেবে বস্ত্রই মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছে। এটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। তাছাড়া এটিই মানুষকে শীত, তাপ, ধুলোবালি, রোগ-জীবাণু প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকের হাসনা ও তার ছোট দুই ভাই-বোনের প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক নেই। ফলে তারা শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পায় এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বস্ত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক কারণে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বক্তব্যটির যথার্থতা রয়েছে।

মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। বস্তু সভ্যতার সর্বপ্রথম নির্দেশক। কিন্তু এ খাতে আমাদের দেশের বার্ষিক গড় কাপড়ের চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ বজ্রনীতি, বস্ত্রখাতের অনিয়ম, প্রতিকূল পরিবেশ, দুর্ঘটনা, উৎপাদন হ্রাস ইত্যাদিকে চিহ্নিত করা হয়। অনুমান করা হয়, মাথাপিছু বার্ষিক গড়ে ১০ মিটার কাপড়ের ব্যবহার জরুরি হলে ১৫ কোটি ৮৯ লাখ জনসংখ্যার জন্য ১৫৮.৯ কোটি মিটার কাপড়ের প্রয়োজন হবে। অথচ মে ২০১২ তে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বুক এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক পুরাতন কাপড় প্রাপ্তি ০.০৩ মিটার এবং নতুন কাপড় ১৫.৭ মিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশে বস্ত্রের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণ প্রয়োজনীয় বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। এখনও গ্রামের গরিব কৃষক একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে এবং গ্রামের দরিদ্র নারী একটি মোটা কাপড় পড়ে বছর পার করে দেয়। বস্ত্রের অভাবে গ্রাম ও শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ শীত ও গ্রীষ্মকালে প্রতিকূল পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যার চিত্র হাসনা ও তার পরিবারের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না- বক্তব্যটি সঠিক।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০১১-২০১৫ সাল পর্যন্ত।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন। তাই মানবজীবনের সবচেয়ে প্রথম ও প্রয়োজনীয় চাহিদা হলো খাদ্য।

খাদ্য বলতে ঐসব বস্তু বা দ্রব্যকে বোঝায় যা শরীরে হজম হয় এবং শরীরের বৃদ্ধি ও কর্মশক্তি যোগানে সাহায্য করে। খাদ্য না খেলে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও বুদ্ধি লোপ পায়। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...