রফিক সিডরে মারা যাওয়ায় তার পরিবার অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় রফিকের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চলে না। এমন কি স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতারও শিকার হচ্ছে। উপরন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের ব্যয়ভার মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্দীপকে রফিকের পরিবারের মাধ্যমে নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যার কথা উঠে এসেছে যেগুলো মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম রয়েছে।
শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানেও সব নাগরিকের শিক্ষা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া সরকারিভাবে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ, মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খাতে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আওতায় সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথম থেকে উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের রফিকের পরিবারে নিরক্ষরতা ছাড়াও স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যাও লক্ষ করা যায়। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১১-১৬ মেয়াদে ৫১,০৮২.৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত উন্নয়ন কর্মসূচি-Health, Population & Nutrition Sector Development Programme (HPNSDP) শীর্ষক তৃতীয় সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে (মোট ৪৮২টি হাসপাতাল) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ভিটামিন এ ক্যাপসুল সপ্তাহ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এসএমএস এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও চালু আছে। এ খাতে সরকার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার বিভিন্ন ভাতা বাবদ ২৩,৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কর্মসূচিগুলো ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?