'ক' রাষ্ট্রে একটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় ঘটে। বিজয়ী হয় ৪টি দল মিলে তৈরী হওয়া একটি নির্বাচনী জোট। নির্বাচনের পূর্বে তারা ২১ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। জনগন তাদের বিপুল ভোটে জয়ী করেন।
উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাংলার স্বাতন্ত্র্যবোধের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঘটনা। এটি পূর্ব বাংলার জনগণকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে 'ক' নামক রাষ্ট্রের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় ঘটে। এতে ২১ দফা কর্মসূচি দেয়া ৪ দলীয় জোট বিজয়ী হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতৃত্বে কয়েকটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল। এর নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। এ নির্বাচনে ৩০৯ টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭ টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যগণ ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলায় নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করে এবং এখানকার আইনসভার মেয়াদ আরও তিন বছর বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৪৯ সালে অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ের আশঙ্কায় এরূপ ব্যবস্থা করা হলেও এতে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা আরও কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গণদাবির মুখে বাধ্য হয়ে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব বাংলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?