বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর, অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েল পাখি- চারদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের করে আছে চুপ।
উদ্দীপকে প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সাথে পৃথিবীর বিচিত্র প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে এক হয়ে মিশে আছে।
ফুলে-ফলে-ফসলে সুশোভিত আমাদের এই পৃথিবী। মানুষ এখানে গড়ে তুলেছে মায়াময় এক আশ্চর্য জগৎ। প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভালোবাসা, আদর-সোহাগ দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখে একে অপরকে। এ বন্ধন ছেড়ে মানুষ সহজে চলে যেতে চায় না।
উদ্দীপকে কবি তার সমগ্র সত্তা দিয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন। এই ভালোবাসা এমনই পরিপূর্ণ যে পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের কোনো বিকল্প আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে বাংলার সত্যিকারের এই পরিচয়টির সাথে 'প্রাণ' কবিতার ভাবের ঐক্য লক্ষ করা যায়। এই কবিতায় পৃথিবীর প্রতি কবির গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে। মৃত্যু যে অমোঘ বিধান তা জেনেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান। কারণ মৃত্যুকে জয় করা বা মৃত্যুর পর আপন কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।
মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ।
এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই !
ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,
বিরহ মিলন কত হাসি-অশ্রু-ময়-
মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত
যদি গো রচিতে পারি অমর-আলয় !
তা যদি না পারি, তবে বাঁচি যত কাল
তোমাদেরি মাঝখানে লভি যেন ঠাঁই,
তোমরা তুলিবে বলে সকাল বিকাল
নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই ।
হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায়
ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায় ॥
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?