Academy

আদনান এবারই প্রথম তার বাবার সাথে ঢাকায় এসেছে। রাস্তা দিয়ে চলার সময় সে আগ্রহভরে রাস্তায় বিভিন্ন বিষয় প্রত্যক্ষ করে। সেগুলোর মধ্যে দেয়ালে নানা ধরনের লিখন, বড় বড় বিলবোর্ডে ছবিসহ বক্তব্য, বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ সম্পর্কে আদনান তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলে বাবা তাকে জানালেন, মানুষকে আকর্ষণ ও প্রভাবিত করার জন্য এরূপ প্রচার করা হয়েছে। 

উদ্দীপকে বর্ণিত "জনমত সংগঠনের মাধ্যম নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত হয়"- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

উদ্দীপকে বর্ণিত জনমত সংগঠনের মাধ্যমগুলো হলো দেওয়াল লিখন, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। নির্বাচনি প্রচারণায় এ মাধ্যমগুলো বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের নির্বাচনি সংস্কৃতিতে জনমত গঠনে দেওয়াল লিখন, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নির্বাচনে যেহেতু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করে সেহেতু নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ও জনমত গঠনে রাজনৈতিক দলকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্ব স্ব প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণার জন্য দেওয়ালে লিখন, বিলবোর্ড ও প্রার্থীর ছবিসহ বক্তব্য, ব্যানারে প্রার্থীর ছবিসহ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও ফেস্টুন-এর কাজ করে থাকে। জনমত সংগঠনের ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই দেওয়াল লিখন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেওয়াল লিখন জনমত গঠনের অন্যতম বাহন হিসেবে কাজ করে। নির্বাচনি জনমত সৃষ্টির জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেওয়ালে প্রার্থীর ছবি, মার্কা, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি লেখা  থাকে। আর শহুরে সমাজের আদি থেকেই নির্বাচনে জনমত গঠনে বিলবোর্ড এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিলবোর্ডে তাদের ছবি, মার্কা, বক্তব্য সরবরাহ করে। এতে করে জনগণ যাতায়াতের পথে যখন বিলবোর্ড দেখে তখন প্রার্থী সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রার্থী বাছাই করতে পারে। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যানারের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় ব্যানারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত বাজার, শপিংমল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, লঞ্চ ও ফেরীঘাট, বাসস্ট্যান্ড প্রভৃতি জায়গায় এ ব্যানার টানানো হয়। যাতে করে চলতি পথে জনগণ প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রার্থী বাছাই করতে পারে। বর্তমানে ফেস্টুনও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, জনমত সংগঠনের উক্ত মাধ্যমগুলো নির্বাচনি প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত হয়।

9 months ago

জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন যা পরিচালিত হয় জনমতের ভিত্তিতে। গণতন্ত্রে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণসহ সকল কাজে জনমতের ভূমিকা দেখা যায়। এজন্য জনমতকে গণতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয়।

উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।

সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী যুক্তিসঙ্গত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম

জনকল্যাণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যতগুলো শর্ত আছে, জনমত তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনমত সরকারের চলার পথের নির্দেশনা দান করে থাকে। জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হলে তা কখনই কার্যকরী ও ফলপ্রসূ হয় না।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। বর্তমান বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিতদেশগুলোর জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব ব্যাপার। পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি পাঠিয়ে জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। জনগণের মতামতকে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমলে আনতে চায় না।

সরকার দলীয় স্বার্থে কিংবা নিজেদের স্বার্থে কোনো কাজ করতে চায় বা বৃহত্তর কোনো কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। জনমত এসব কাজগুলো সরকারকে করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারে। জনমত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতেই একটি সরকার অধিকতর জনকল্যাণকামী, কার্যকরী ও ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই কল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

জনমত গঠনের প্রথম ও প্রাথমিক মাধ্যম হলো পরিবার।
পারিবারিক পরিবেশে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে শিশু জানতে পারে। শিশুরা পিতামাতার বিশ্বাস, রাজনৈতিক দর্শনকে অনুসরণ করতে শেখে। পারিবারিক এ ভিত্তি শিশুরা সারা জীবন বহন করে। এভাবে পরিবার শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...