জনাব শরীফ একজন প্রান্তিক কৃষক। হঠাৎ মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে অনেক টাকার প্রয়োজন। টাকা যোগাড় করতে না পেরে তিনি তার জমিটুকু গ্রাম্য মহাজনের কাছে বন্ধক রাখেন এই শর্তে যে এক বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে জমি ফেরৎ নেবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরৎ দিতে না পারায় মহাজন তার জমি আর ফেরত দেবে না বলে জানায়। গ্রামে আপোস মীমাংসা না হওয়ায় জনাব শরীফ আদালতে মহাজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত বিচার শেষে জনাব শরীফের পক্ষে রায় দেন।
উদ্দীপকে জনাব শরীফ যে অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তা হলো মানবাধিকার। মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন। স্বাধীন সত্তা হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের রয়েছে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবিদার এবং যেসব অধিকার ছাড়া মানুষের ব্যক্তিত্ব পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয় না, তাই মানবাধিকার। মূলত মানবাধিকার অধিকারের একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। মানববাধিকার কোনো দেশ বা কালের সীমানায় আবদ্ধ নয়, এ অধিকার সব দেশের সব কালের মানবাধিকার বলে প্রত্যেক নাগরিকেরই ব্যক্তিগত ও যৌথ সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থাকবে। বলপূর্বক কাউকে সম্পত্তি থেকে আলাদা করা যাবে না। কোনোভাবে যদি নাগরিকের এ অধিকার লঙ্ঘিত হয় তাহলে তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। উদ্দীপকে শরীফ সাহেরের প্রতি স্থানীয় মাতবর যে অন্যায় করেছে, তা শরীফ সাহেবের মানবাধিকারকে লঙ্ঘনের শামিল। কেননা উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, মানবাধিকার বলে আসলাম সাহেবের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থাকবে। কিন্তু তিনি স্থানীয় মাতবর কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?