আবির যে রাষ্ট্রের বাসিন্দা সেটি ১৯৪৭ সালে আলাদা দু'টি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয়। রাষ্ট্রটি সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলের কায়েমী স্বার্থবাদী মহল পূর্বাঞ্চলের প্রতি ক্রমাগত শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্যমূলক নীতির আশ্রয় নেয়। যার ফলে পূর্বাঞ্চলের মানুষের মনে ক্রমাগত অসন্তোষের জন্ম নেয়। এ প্রেক্ষাপটে পূর্বাঞ্চলের এক জনপ্রিয় নেতা একটি দাবি পেশ করেন এবং ঘোষণা করেন উক্ত দাবিই হচ্ছে পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ও মুক্তির সনদ।
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচির সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৬ দফা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বাঙালির স্বাধিকারের দাবি একটি পরিণতি পায় এবং তাদেরকে স্বাধীনতার পথে চালিত করে। উদ্দীপকটি এই অসাধারণ কর্মসূচিরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই এর একটি অঞ্চলের জনগণ শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে তাদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয় নেতা শাসকগোষ্ঠীর কাছে কিছু দাবি পেশ করেন। বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের এ ঘটনারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তানের) জনসাধারণের ওপর নানা অত্যাচার, অবিচার, শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতন শুরু করে। তারা বেসামরিক ও সামরিক চাকরি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে পাহাড়সম বৈষম্য সৃষ্টি করে। বাঙালিরা একসময় এ বৈষম্য অবসানের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকারের দাবিকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক রাজনৈতিক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। 1 এককথায় এটি ছিল বাঙালির নায্য অধিকার আদায়ের সনদ। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের শাসকদের কাছে উত্থাপিত কর্মসূচিটি মূলত ৬ দফা দাবিরই প্রতিচ্ছবি।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?