Academy

বান্দরবানের ছোট্ট শেখর। ঘুম থেকে ওঠে বাবার জন্য খাবার নিতেই ভরদুপুর। একমাত্র স্কুলটি মাইল খানেক দূরে। তাই শেখরের স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠে না। সরকার ঢাকার রায়ের বাজার থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা - করেছে। শেখরের আর পড়াশুনার অসুবিধা হয় না। সে এখন এই দূরশিক্ষণের ছাত্র। 

উদ্দীপকের বিষয়টি দ্বারা জনগণ কীভাবে উপকৃত হচ্ছে বর্ণনা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকার জনগণের জন্য উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ যেভাবে উপকৃত হচ্ছে-

১. ই-গভর্ন্যান্সে জনগণ রাষ্ট্রীয় আইন ও সরকারি নিয়মনীতিগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই জানতে পারে তাছাড়াবিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি ও পরিচালনা পদ্ধতিও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ নিয়মের ব্যত্যয় করতে পারেন না এবং জনগণ যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তারা প্রশাসনিক অনিয়মগুলো খুব সহজেই ধরতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন। এতে করে প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়।

২. প্রশাসনিক তথ্যগুলো ইন্টারনেট ও অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে ফলে জনগণ খুব সহজেই প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে না হচ্ছে তা জানতে পারে। প্রশাসন লোক চক্ষুর অন্তরালে কিছুই করতে পারে না। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।

৩. ই-গভর্ন্যান্সে সরকারি সেবাসমূহ জনগণের কাছে পৌঁছায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। এতে সময় ও শ্রম হ্রাস পায়। ফলে কর্মকর্তা বা কর্মচারিগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারে এবং অনেক উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।

৪. ই-গভর্ন্যান্সে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। ই-গভর্ন্যান্সে সুষ্ঠু ও সহজ যোগাযোগের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোকে আধুনিকীকরণ করা হয়।

৫. ই-গভর্ন্যান্সে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ঘটে। তথ্য সরবরাহের জন্য জনগণকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। অনলাইনে তথ্য সরবরাহ করা যায় বলে জনগণকে আর অফিস বা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৌড়াতে হয় না। যখন ইচ্ছা তখনই অনলাইন বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য সরবরাহ করা যায় বলে সময়ের সাশ্রয় হয়।

৬. ই-গভর্ন্যান্সের ফলে জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্কের দ্রুত উন্নয়ন ঘটে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সরকার খুব দ্রুত জনগণের সমস্যাবলি সম্পর্কে অবহিত হতে পারে। জনগণও সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারে। এতে করে সরকারের সাথে জনগণের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের কাজের মাঝে স্বচ্ছতা প্রকাশ পায়। এতে করে জনগণ খুব সহজেই সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।

10 months ago

ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।

ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।

সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।

সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

5 ফেসবুক কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)

ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...