বান্দরবানের ছোট্ট শেখর। ঘুম থেকে ওঠে বাবার জন্য খাবার নিতেই ভরদুপুর। একমাত্র স্কুলটি মাইল খানেক দূরে। তাই শেখরের স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠে না। সরকার ঢাকার রায়ের বাজার থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা - করেছে। শেখরের আর পড়াশুনার অসুবিধা হয় না। সে এখন এই দূরশিক্ষণের ছাত্র।
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকার জনগণের জন্য উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ যেভাবে উপকৃত হচ্ছে-
১. ই-গভর্ন্যান্সে জনগণ রাষ্ট্রীয় আইন ও সরকারি নিয়মনীতিগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই জানতে পারে তাছাড়াবিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি ও পরিচালনা পদ্ধতিও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ নিয়মের ব্যত্যয় করতে পারেন না এবং জনগণ যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তারা প্রশাসনিক অনিয়মগুলো খুব সহজেই ধরতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন। এতে করে প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়।
২. প্রশাসনিক তথ্যগুলো ইন্টারনেট ও অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে ফলে জনগণ খুব সহজেই প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে না হচ্ছে তা জানতে পারে। প্রশাসন লোক চক্ষুর অন্তরালে কিছুই করতে পারে না। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ই-গভর্ন্যান্সে সরকারি সেবাসমূহ জনগণের কাছে পৌঁছায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। এতে সময় ও শ্রম হ্রাস পায়। ফলে কর্মকর্তা বা কর্মচারিগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারে এবং অনেক উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।
৪. ই-গভর্ন্যান্সে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। ই-গভর্ন্যান্সে সুষ্ঠু ও সহজ যোগাযোগের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোকে আধুনিকীকরণ করা হয়।
৫. ই-গভর্ন্যান্সে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ঘটে। তথ্য সরবরাহের জন্য জনগণকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। অনলাইনে তথ্য সরবরাহ করা যায় বলে জনগণকে আর অফিস বা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৌড়াতে হয় না। যখন ইচ্ছা তখনই অনলাইন বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য সরবরাহ করা যায় বলে সময়ের সাশ্রয় হয়।
৬. ই-গভর্ন্যান্সের ফলে জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্কের দ্রুত উন্নয়ন ঘটে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সরকার খুব দ্রুত জনগণের সমস্যাবলি সম্পর্কে অবহিত হতে পারে। জনগণও সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারে। এতে করে সরকারের সাথে জনগণের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের কাজের মাঝে স্বচ্ছতা প্রকাশ পায়। এতে করে জনগণ খুব সহজেই সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?