জমির উদ্দিন সহজ সরল, অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তিনি বংশ পরম্পরায় কাঠালতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তিনি ছিলেন সৎ এবং ইসলামি আদর্শের একজন জনপ্রতিনিধি। রাষ্ট্রীয় অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করার পর তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তিও জনকল্যাণে ব্যয় করতেন। তবে তার পূর্ব পুরুষরা এমন ছিল না। অন্যায় করলে তিনি স্বজনদেরও ক্ষমা করতেন না। এক্ষেত্রে তিনি কুরআন, হাদিস ও খুলাফায়ে রাশেদীনের নীতি অনুসরণ করতেন।
জমির উদ্দিনের মতো ওমর বিন আব্দুল আজিজের শাসননীতিও ছিল প্রশংসার দাবিদার।
উদ্দীপকের জনদরদি চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন ক্ষমতায় আরোহণ করেই সঠিক শাসননীতির দিকে মনোনিবেশ করেন। তার শাসননীতি ছিল উদার ও ন্যায়নিষ্ঠ। ঠিক একইভাবে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজও ক্ষমতায় আরোহণ করেই প্রচলিত শাসনব্যবস্থার সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। তার প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা ইতিহাসে তাকে পরম খলিফা হিসেবে পরিচিতি দান করেছে।
ওমর বিন আব্দুল আজিজ শাসনব্যবস্থা দৃঢ় করার জন্য পূর্বের স্বার্থপর, লোভী ও অত্যাচারী শাসনকর্তাদের অপসারণ করে তদস্থলে সৎ ও বিশ্বাসী ব্যক্তিদের নিযুক্ত করেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি বিমারীয় ও মুদারীয় গোত্রের যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করেন। মুদারীয় গোত্রের আদি বিন আর তাতকে বসরায়, আব্দুল হামিদ বিন আবদুর রহমানকে কুফায়, ওমর বিন হুরাইরাকে মেসোপটেমিয়ায় এবং জাবের বিন আবদুল্লাহকে খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। অন্যদিকে হিমারীয় গোত্রের সামাহ বিন মালিককে স্পেন এবং ইসমাইল বিন আবদুল্লাহকে কায়রোয়ানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি খোরাসানের শাসনকর্তা ইয়াজিদ ইবনে মুহাল্লিবকে কারারুদ্ধ করেন। আবার অযোগ্যতার কারণে তিনি স্পেনের শাসনকর্তা আল জুরকে পদচ্যুত করেন। এভাবে তিনি শাসনব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করে প্রশংসনীয় হয়ে আছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, ওমর বিন আব্দুল আজিজ তার রাজত্বকালে সাম্রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত, গোত্রপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সর্বজনীন, সুষ্ঠু ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?