মমতা ও শিউলি দুই বান্ধবী। তারা কেরানীগঞ্জে থাকে। রোজ নৌকা করে পার হয়ে কলেজিয়েট স্কুলে আসে। একদিন তাদের নৌকা ডুবে গেলে মমতা সাঁতার কাটতে থাকে। কিন্তু শিউলি সাঁতার না জীনায় ডুবতে থাকে। এ সময় সমতা তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায়। শিউলি মমতাকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে মমতাও ডুবতে থাকে। মমতা তখন শিউলিকে ছেড়ে নিজের প্রাণ বাঁচায়। মমতা আর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে না।
"উদ্দীপকের মমতা 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ পৃথিবীতে চিরদিন বেঁচে থাকে না। তবে মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ মৃত্যুকে জয় করে। আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করাই মহৎ কর্মের লক্ষণ।
'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর পিতৃস্নেহের মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন। সন্তানম্নেহের কাছে তাঁর নিজ জীবন তুচ্ছ হয়ে গেছে। পুত্রের মঙ্গল ও সুস্থ জীবনের জন্য বাদশা বাবর নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেছেন। তাঁর পিতৃস্নেহের ক্লাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে। নিঃস্বার্থ একজন পিতার মহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সন্তানস্নেহের কাছে পৃথিবীর সবকিছু হয়ে পড়েছে মূল্যহীন। অন্যদিকে উদ্দীপকের মমতা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে বান্ধবীকে বিপদের মুখে ছেড়ে দিয়ে নিজের জীবন বাঁচায়। নিজের জীবন বাঁচানোই তার কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা তার স্বার্থপর মানসিকতারই প্রকাশ।
উদ্দীপকের মমতা নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করেছে। মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে জয় করতে পারেনি। তার চিন্তা-চেতনায় স্বার্থপরতা ফুটে উঠেছে। আর 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করে বাদশা বাবর আত্মস্বার্থ ত্যাগের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের বিষয়টি মমতার সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর-
পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর!
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার ।
রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ দরবেশ
এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,
সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ ।
তবু তাঁর সেই দুরন্ত রোগ হটিতেছে নাক হায়,
যত দিন যায়, দুর্ভোগ তার ততই বাড়িয়া যায়-
জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অস্তরবির প্রায় ৷
শুধাল বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে ভিষকবৃন্দে ডাকি,
“বল বল আজি সত্যি করিয়া, দিও নাকো মোরে ফাঁকি,
এই রোগ হতে বাদশাজাদার মুক্তি মিলিবে নাকি?'
নতমস্তকে রহিল সবাই, কহিল না কোন কথা,
মুখর হইয়া উঠিল তাঁদের সে নিষ্ঠুর নীরবতা
শেলসম আসি বাবরের বুকে বিঁধিল কিসের ব্যথা!
হেনকালে এক দরবেশ উঠি কহিলেন- ‘সুলতান,
সবচেয়ে তব শ্রেষ্ঠ যে-ধন দিতে যদি পার দান,
খুশি হয়ে তবে বাঁচাবে আল্লা বাদশাজাদার প্রাণ ।’
শুনিয়া সে কথা কহিল বাবর শঙ্কা নাহিক মানি -
‘তাই যদি হয়, প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবানি,
সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে ধন জানি তাহা আমি জানি ।’
এতেক বলিয়া আসন পাতিয়া নিরিবিলি গৃহতল
গভীর ধেয়ানে বসিল বাবর শান্ত অচঞ্চল,
প্রার্থনারত হাতদুটি তাঁর, নয়নে অশ্রু জল।
কহিল কাঁদিয়া- ‘হে দয়াল খোদা, হে রহিম রহমান,
মোর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আমারি আপন প্ৰাণ,
তাই নিয়ে প্রভু পুত্রের প্রাণ কর মোরে প্রতিদান ।
স্তব্ধ-নীরব গৃহতল, মুখে নাহি কারো বাণী
গভীর রজনী, সুপ্তি-মগন নিখিল বিশ্বরাণী,
আকাশে বাতাসে ধ্বনিতেছে যেন গোপন কি কানাকানি ।
সহসা বাবর ফুকারি উঠিল - ‘নাহি ভয় নাহি ভয়,
প্রার্থনা মোর কবুল করেছে আল্লাহ যে দয়াময়,
পুত্র আমার বাঁচিয়া উঠিবে - মরিবে না নিশ্চয় ।
ঘুরিতে লাগিল পুলকে বাবর পুত্রের চারিপাশ
নিরাশ হৃদয় সে যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস,
তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস ।
সেইদিন হতে রোগ-লক্ষণ দেখাদিল বাবরের,
হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের,
নতুন জীবনে হুমায়ুন ধীরে বাঁচিয়া উঠিল ফের।
মরিল বাবর - না, না ভুল কথা, মৃত্যু কে তারে কয়?
মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়,
পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?